somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছমিছ বিভ্রাট :|

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নেদারল্যান্ডে এসেই প্রথম যে জিনিসটা নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম সেটা হল এদের ভাযা । উফফফ - সেইসব কথা মনে হলে এখনও কান্না পায় ।

তখন প্রায় ২ সপ্তাহ হয়ে গেছে - রটারডাম এসেছি । এই শহরটা অন্যান্য শহর থেকে একটু আলাদা এই অর্থে যে - এটা আক্ষরিক অর্থেই একটা বানিজ্যিক শহর । অন্যান্য শহরে টুকটাক কিছু এশিয়ান দোকানপাট থাকলেও এখানে মাত্র একটাই । আর যাওবা আছে - আমার বাসা শহরের একদম কেন্দ্রে হওয়ায় - সেই দোকানটাও আমার বাসা থেকে বেশ দূরে ।

তো ছেলের বাবার জন্য একটু পায়েস বানানোর শখ হলো । দেশে থাকতে কত কিছু রান্না করে খাওয়াতাম - ভাবলাম আজ একটু পায়েস বানিয়ে রাখবো । অফিস থেকে এলে বেশ একটা সারপ্রাইজ দেয়া যাবে :) ছেলেকে নিয়ে গেলাম একটা দোকানে । অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর খুব সুন্দর একটা বক্সে কিছমিছ পেয়ে ঠোঁটটা কয়েক সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে গেলো :D। কিন্তু কিছমিছ গুলোর সাইজগুলো একটু বেশী বড় দেখে ভাবলাম এটাকি কিছমিছ নাকি খেজুর ? দেখে তো কিছমিছ মনে হচ্ছে - কিন্তু এতো বড় কিছমিছ এরা কিসে দেয় । যাহোক ওরা যা খুশী করুকগে - আমি পায়েস রান্না করতে পারলেই হলো :D

বাসায় এসে পায়েস রান্না শুরু করলাম । বিপত্তিটা ঘটলো যখন পায়েসে দেয়ার জন্য কিছমিছ এর বক্সটা খুললাম । উফফফ - কি উৎকট একটা গন্ধ । আমিতো অবাক - এটা কি হল । তাড়াতাড়ি চুলা অফ করে দিয়ে প্যাকেটটার গায়ে লেখা জিনিষ গুলো পড়ার চেষ্টা করলাম । কিন্তু কিসে কি - সব ডাচে লেখা । পড়াতো দুরের কথা আমার মুখের ভিতরের বাসিন্দারা মনে হল নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে চাচ্ছে - একটুও নড়তে চাচ্ছেনা এইসব শব্দ দেখে । তারপরও উল্টে পাল্টে দেখতে থাকলাম - কোথাও কিছু পাওয়া যায় কিনা । কিছুক্ষণ পরে বক্সের পেছন দিকে একদম নীচে দেখি বিড়ালের ছবি আঁকা । আমি তখনও বিশ্বাস করতে চাচ্ছিলাম যে - আর যাই হোক আমি নিশ্চয়ই বিড়ালের খাদ্যদ্রব্য কিনে আনি নাই । নেটে চেক করে দেখলাম - বিড়ালের জন্য যে কিছমিছ পাওয়া যায় - আমি ৫ ইউরো দিয়ে সেটা কিনে এনেছি /:)

এই ঘটনা শোনার পর টম ( আমার ছেলের বাবা) বেশ কিছুদিন আমার রান্না করা মিষ্টি জাতীয় আইটেম গুলো এড়িয়ে চলতো :|
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:৩৬
৫৯টি মন্তব্য ৪৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×