

মারফির সুত্রের সাথে fatalism বা নিয়তিবাদ এর কিছুটা মিল আছে । আসলে মুখ্য ব্যাপার হল thermodynamics এর ২য় সুত্র বলে entrophy বৃদ্ধির কথা । অর্থাৎ জগতে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকবে ,সেইদিক বিবেচনায় এই সুত্র সঠিক । আমরা জা কিছুই করি না কেন ,কিছু আপাত ভুল ঘটনা ঘটবেই ,এখানে আপাত বলছি কারন long run এ এটাই বৃহত্তর মঙ্গলের দিকে নিতে পারে । ..।
এখন আসি কিছু উদাহরনে ।পানশালা থেকে গভীর রাত্রে হোটেলে ফিরে তিনবন্ধু দেখে লিফট বন্ধ। তাদের ঘর নব্বুই তলায়। 'কুছ পরোয়া নেই, এক একজন তিরিশ পর্যন্ত গল্প বলতে বলতে পৌঁছে যাব' এই বলে তারা সিঁড়ি ভাঙতে লাগল। দুই বন্ধুর গল্প বলা শেষ, ষাটতলা অতিক্রান্ত, এবার তৃতীয় বন্ধুর গল্প বলার পালা। সে কিন্তু মুখ খোলে না। অন্য দুই বন্ধুর পীড়াপীড়িতে আর তিনতলা বাকি থাকতে সে গল্প বলতে শুরু করল। তিন বন্ধুর গল্প - যারা লিফট না-পেয়ে গল্প করতে করতেই নব্বুই তলা পাড়ি দিয়েছিল, কিন্তু গল্পের শেষটা নিতান্তই করুণ, কেননা ঘরের সামনে পৌঁছে তাদের মনে হল ঘরের চাবিটা রিসেপশন কাউন্টার থেকে নিয়ে আসতেই তারা ভুলে গেছে। এখানে অবশ্যই বলা যেতে পারে যে চাবিটা তো আর ইচ্ছে করে দুষ্টুমি করেনি, সে হয়তো রিসেপশন কাউন্টার থেকে চেঁচিয়ে বলতেই চেয়েছিল তাকে ছেড়ে যাওয়া হচ্ছে কেন। বরং ষাট কিংবা সত্তর তলায় ওঠার পর বেসামাল মালিকের হাত ফসকে রেলিং-এর ফাঁক দিয়ে একতলায় পড়ে গেলে সেটাকেই দুষ্টুমি বলা যেত। তবু একথা তো মানতেই হবে বন্ধুরা চাবিটা নিতে না-ভুলতেও তো পারত। আসল কথা হল, ভুল হবার সুযোগ ছিল, সেটা হল, আর তার সঙ্গে মারফির সূত্রও প্রমাণিত হল।

জড় পদার্থের দুষ্টুমির হাজার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, এবং সেগুলো সবই মারফির সূত্র অনুসারী। আপনি হয়তো অফিস বা পার্টিতে যাবার জন্যে তৈরি হচ্ছেন। পরিপাটি করে দাড়ি কামিয়ে গালে একটু আফটার-শেভ লোশন মাখতে গিয়ে শিশির ঢাকনাটা হাত থেকে পড়ে টক্কর খেয়ে পৌঁছে গেল খাটের তলায় একেবারে অন্যদিকের শেষ প্রান্তে। একটা লাঠি কিংবা ঝাঁটা জোগাড় করে মেঝেতে উপুড় হয়ে অনেক কষ্ট করে সেটাকে উদ্ধার করলেন। তারপর আলমারি থেকে জামা বার করে গায়ে দিয়ে বোতাম লাগাতে গিয়ে বুকের কাছের বোতামটি সুতোর বন্ধনমুক্ত হয়ে খসে পড়ল। আপনার হাঁকডাক শুনে আপনার গিন্নি রান্নাঘর ছেড়ে দৌড়ে এলেন, সেই অবসরে ঊনুনে চাপানো দুধ উথলে গিয়ে পোড়া গন্ধ ছড়াতে লাগল। আপনি এসব অগ্রাহ্য করে কিংবা সামলে নিয়ে রাস্তায় বেরোলেন। হঠাৎ আবিষ্কার করলেন তাড়াহুড়োতে মোবাইলটা সঙ্গে নিতে ভুলে গেছেন। আবার ফিরতিমুখো হয়ে বাড়ি গিয়ে দেখলেন সেটি টেবিলের উপর মিটমিট করে হাসছে।
শেষ করি মারফির মৃত্যুর ঘটনা দিয়ে । কথিত আছে যে গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি সাদা পোশাক পরে সন্ধ্যার অন্ধকারে রাস্তার ডানধারে দাঁড়িয়ে যখন হিচহাইকিং-এর চেষ্টা করছিলেন তখন এক ব্রিটিশ ট্যুরিস্ট উলটো দিক থেকে গাড়ি চালিয়ে এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। বলা বাহুল্য, ব্রিটেনের বাঁদিকে ঘেঁষে গাড়ি চালানো সঠিক আইন আমেরিকায় ভুল। আর, ভবিতব্যের মতো সেই ভুল সংঘটিত হল যেন ভুলের সূত্রের জনক মারফির মৃত্যু ঘটানোর জন্যেই।
(পরবর্তীতে মারফির প্রেমসুত্র ,তার... ময়না তদন্ত ,আর কিছু উদাহরন আর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে লিখব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



