somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠকই বইয়ের জীবনী শক্তি আন্দালিব রাশদী

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শুচি সৈয়দ
‘প্রকাশক লেখক-বান্ধব নন, পাঠক বই কিনতে চান নাÑ এই অভিযোগ যে সত্য নয় হুমায়ূন আহমেদ তা-ই প্রমাণ করে গেছেন।’ দেশের বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক আন্দালিব রাশদী নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, মনের মত পাণ্ডুলিপি পেতে প্রকাশক ঝাঁপিয়ে পড়েন, লেখকরাই তা যোগান দিতে সক্ষম হন না।
আন্দালিব রাশদী জানান, তিনি লেখার টাকায় আয়কর দিয়ে যাচ্ছেন এবং এবার কেবল লেখার টাকাই আয়করযোগ্য উপার্জনের নিুসীমা ছাড়িয়ে যাবে। আর তা সম্ভব হচ্ছে পাঠকের সাড়াতেই।
তিনি বলেন, বই বিক্রি হওয়া না হওয়ার আনন্দ-বেদনার হিশেব করলে আমাদের বেদনাই বেশি জমার কথা। আমার প্রকাশক-ভাগ্য বেশ ভালো। সহ-লেখক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হই ইউপিএল থেকে। কথাসাহিত্যিক মইনুল আহসান সাবের দিব্যপ্রকাশ থেকে বের করেন আমার প্রথম গল্পের বই একটি পরিত্যক্ত কেলভিনেটর ফ্রিজের গল্প মুদ্রণ শেষ অনেক আগেই। ২০১১-র বইমেলা শাহাদত হোসেন বেশ সাহস করেই তার প্রকাশনা অন্বেষা থেকে বের করলেন আমার চারটি উপন্যাস প্রতিমন্ত্রী, কৃষ্ণকলি, সূচনা ও সুস্মিতা এবং ট্যারা নভেরা। পাঠক আমাকে প্রত্যাখ্যান করলেন না। একজন দু’জন করে বাড়তে শুরু করল আমার প্রিয় পাঠক। সে বছরই শুদ্ধস্বর বের করল আমার অনুবাদ/প্রবন্ধ: কুমারী এবং তলস্তয় । ২০১২-র বইমেলায় এল আমার ছয়টি উপন্যাস অমরাবতী জীবন, সেকেণ্ড লেনের হেলেন, কাকাতুয়া বোনেরা, হুসনে জান্নাতের একাত্তর যাত্রা, শর্মিষ্ঠা এবং পপির শহর । ২০১৩-তে আরও ছয়টি উপন্যাস ভারপ্রাপ্ত সচিব, জলি ফুপু, অধরা, ম্যাজিশিয়ান, জুম্মানামা, হাজব্যান্ডস, সঙ্গে আর আটটি অনুবাদ ও প্রবন্ধের বই। বই বিক্রি না হলে প্রকাশক গাঁটের পয়সা ভেঙ্গে এত বই প্রকাশ করতেন না। পাঠকই বইয়ের জীবনীশক্তি। তিনি বলেন, যেখানে প্রকাশক পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার সেখানে এবারের একুশের মেলায় প্রকাশিত বইয়ের জন্য ৪টি প্রকাশনা সংস্থা থেকে আগাম সম্মানী পেয়েছেন।
এবার মেলায় এসেছে তাঁর ৩টি প্রবন্ধ/নিবন্ধ বই আমলা শাসানো হুকুমনামা, ইডিপাস কমপ্লেক্স ও লেডি গোদিভা। এবার আরো এসেছে আন্দালিব রাশদীর বাছাই গল্প, অনুবাদ গল্প রেশমা ও রাধিকা এবং কিশোর পাঠ্য অনুবাদ সিন্দাবাদ ও রবিনসনক্রুসো ।
তিনি বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই প্রকাশকের উপেক্ষায় লেখকের আÍহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। উপেক্ষিত বোধ করার আগেই প্রকাশক পাণ্ডুলিপির জন্য এসেছেন তার কাছেÑ এদিক দিয়ে তিনি নিশ্চয়ই ভাগ্যবান। তিনি মনে করেন, বই প্রকাশের জন্য তাড়াহুড়ো না করে পত্র-পত্রিকায় নিজের পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে প্রকাশকই লেখকের কাছে হাজির হবেন। বিক্ষিপ্তভাবে আগে থেকে লিখলেও লেখকই হবেন এই ব্রত নিয়ে লিখতে শুরু করেন ২০১০ সালে। তিনি নিজে খুশি গত তিন-চার বছরে বইকেনার মত তার কিছু সংখ্যক পাঠক দাঁড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে তার উপন্যাস প্রতিমন্ত্রী ও কৃষ্ণকলি পুনর্মুদ্রিত হয়ে মেলায় এসেছে এবং বিদেশির চোখে ১৯৭১ ও প্রিন্সেস পুনর্মুদ্রিত হতে যাচ্ছে। আরও দু’একটি বইয়ের প্রথম মুদ্রণ শেষ হবার পথে।
তাঁর পাঠে সবচেয়ে স্মরণীয় বই কোনটি? জানতে চাইলে বললেন, অবশ্যই রামসুন্দর বসাকের বাল্যশিক্ষা। এই বই দিয়েই তার হাতেখড়ি। প্রিয় বই সময়ের সাথে বয়সের সঙ্গে বদলে যায়। সম্প্রতি পড়া একটি প্রিয় বই ওরহান পামুকের মাই নেইম ইজ রেড।
লেখাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা বাস্তবানুগ হবে কি না তার জবাব দিয়ে গেছেন হুমায়ূন আহমেদ- অবশ্যই হতে যদি নিজের পাঠক সৃষ্টি করার মত কুশলী লেখক হন। প্রকাশক তখন আপনাকে খুঁজবেই. আপনিও দরকষাকষির একটা মোক্ষম সুযোগ পাবেন। লেখক ও প্রকাশকের সহযোগিতার ব্যাপারটি পারস্পরিক হুমায়ূন-মাজহার একটি বড় উদাহরণ।
এজন্য কী করণীয়? আন্দালিব রাশদী বলেন, প্রধান কাজ ভালো লিখা, লেখার বাজারটি বুঝতে পারা এবং নিজেকে পেশাদার লেখকে পরিণত করা। আর লেখালেখি চালিয়ে যেতে হলে সরকার, দল, গোষ্ঠী, পুরস্কার-দাতা প্রতিষ্ঠান এবং সমালোচকের অনুকূল্য উপেক্ষা করাই উত্তম, কিন্তু পাঠককে কখনো নয়।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×