somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র‌্যাগিং একটি ভাইরাসের নাম

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"র‍্যাগিং" বিষয়টা একটা "ফান"। যারা র‍্যাগিংকে ফান বলে সম্বোধন করেন, তারা হয়ত র‍্যাগিং জিনিসটা বুঝেন না, না হয় তারা নিতান্তই মূর্খ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে "র‍্যাগিং" চলে তাকে কোনোভাবেই "মজা" করার কাতারে ফেলা যায় না।

হাফিজুর মোল্লা নামটি এখন অনেকেরই কাছে পরিচিত। কারণ এখন সে সব পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ। না বলতে একটু ভুল হয়েছে। "হাফিজুরের করুণ মৃত্যু" এটি এখন সকল পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ।

ছেলেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠা আসা হাফিজুরের বাবা ছিলেন একজন অটোরিকশা চালক। দারিদ্র্যতার কষাঘাতে বেঁচে থাকা এই পরিবারের একমাত্র সম্পদ ছিল হাফিজুর। এই মৃত্যুতে আজ তার মা পাগলপ্রায়। চারদিন ধরে ঘরের চুলায় নেই আগুন। ছেলেটির মারা যাওয়া কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রচলিত কোনও দুর্ঘটনায়ও নয়। ভার্সিটির কিছু ক্ষমতাধর ভাইদের উগ্রতার জন্য শিকার হয়ে হাফিজুর আর নেই।

হাফিজুরের সহপাঠী ও পরিবারের অভিযোগ, শীতের মধ্যে বারান্দায় থাকা এবং রাতের বেলায় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাওয়ার কারণে হাফিজ ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায় তীব্র শীতের মধ্যেও হাফিজকে গত ২৬ জানুয়ারি রাতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বাইরে থাকতে হয়।

ভার্সিটিতে তো পড়ো। টিকে থাকার পূর্বশর্ত কোনো না কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে তোমাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতেই হবে। আর না হলে প্রতি রাতে তোমার পায়ু পথে বাঁশ খেতেই হবে! আর রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হলেই যে বেঁচে যাবা এমনটাও নয়। যদি যুক্ত হয় তাহলে ভাইদের কথা মতই চলতে হবে। হাফিজুরও সেই পথেই গিয়েছিল। এর ভালো পুরষ্কারও পেয়েছে সে।

এই যে পত্রিকাগুলো কত ইনিয়ে বিনিয়ে বলছে, যে তাকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যেতে হত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিউটি দিতে হত। কেন বলছে? কারণ তাদের এ ছাড়া আর কিছু ছাপার নেই। নিজের মন গড়া কথা তো আর লিখতে পারে না বা লোকে বলে নাই এমন কিছুও ছাপতে পারে না।

হাফিজুরের বাবা দৈনিক প্রথম আলোতে নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেন-

"গত সপ্তাহের বুধবার হাফিজ ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছিল। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে এসেছিল। কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, “আমি আর বাঁচব না।” জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী হয়েছে। ও জানায়, শীতের মধ্যে বাইরে ‘‘ডিউটি’’ করতে হয়। ওই দিন নাকি সে ওদের বলেছে, তার শরীরটা ভালো না। ডিউটিতে যেতে পারবে না। কিন্তু তার পরও মাঠে নিয়ে গিয়ে রাত সাড়ে নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখেছে।’"

হাফিজুরকে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে যেতে হত কেন? না গেলে হয়ত মেয়েদের পিছনে হাত মারার হুকুম চলে আসত বড় ভাইদের কাছ থেকে। র‍্যাগিং-র‍্যাগিং!

হাফিজুর আর কিছুর জন্য নয়, শুধুমাত্র র‍্যাগিং এর জন্য মরেছে, র‍্যাগিং এর ভয়ে মরেছে। হয়ত তাকে ডিউটি না দিলে ভয়াবহ র‍্যাগের শিকার হুওয়া লাগত। এই ভয়েই হয়ত সে অসুস্থ শরীরেও রাত একটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে দ্বিধা বোধ করে নি।

শুনেন ভাই, আপনারা যারা র‍্যাগ দেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি, র‍্যাগ দেয়ার জন্যই আপনারা মা'র পেট থেকে বের হন নাই। এইটা আপনার ভুল ধারণা যে, আপনারা একজনকে র‍্যাগ দিবেন আর সে আপনাদের সম্মান করবে। আপনারা র‍্যাগিং এর সংজ্ঞাটাই পালটে দিয়েছেন। কাউকে দিয়ে গান গাওয়ানো, আর অভিনয় করানো বা মোট কথাই শ্লীলতার মধ্যে অনেক কিছুই করা যায়। কিন্তু না আপনাদের অশ্লীল হতে হবে- কে কয়টা বাজে গালি দিতে পারে তা আপনাদের দেখতে হবে, কার প্যান্টের নিচে কয়টা তিল আছে ওইটা আপনাদের দেখতে হবে। একটা ছেলের সাহস আছে কি না তা আপনারা একটু অন্য উপায়েই বুঝে থাকেন, কোনও অচেনা মেয়েকে সকলের সামনে বিব্রতিকর পরিস্থিতিতে ফেলে প্রপোজ করতে পারলে তার সাহস আছে। আর সাহসের পরীক্ষা না দিলে পারলে চপ-থাপ্পড় তো আছেই। মেয়েদের অবস্থা তো আরও খারাপ। যে মেয়েটা কারো সামনে কথা বলতে লজ্জা পেত, সে মেয়েটাকে আপনারা সবার সামনে নাচতে বলেন! তো ঐসময় তার মানসিক নিপিড়নবোধ ছাড়া আর কি-ই বা হয়ে পারে? তাছাড়া শীতের দিনে জুনিয়রদের দিয়ে সিনিয়রদের কাপড় ধোয়ানো, শীতের দিনে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা, এসব তো রয়েই গেছে।

আর আজকাল র‍্যাগিং ভাইরাস এর মতো কাজ করছে। ভাইরাস যেমন নিজে থেকে অনুলেপনের মাধ্যমে অনেক ভাইরাস বানায়, তেমনি র‍্যাগিং ও সিনিয়র ব্যাচ থেকে জুনিয়র ব্যাচে সংক্রমিত হচ্ছে। "র‍্যাগিং" প্যারাসাইটের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। র‍্যাগিং ভয়ানক প্যারাসাইটের মতো মহামারিতে রূপান্তরিত হওয়ার আগে ব্যবস্থা নিন। সবকিছু যে প্রতিকারের মধ্যে সমাধান করতে হবে এমন তো কথা নেই, প্রতিরোধ করুন। "Prevention is better than cure". আর আমার মত কয়েকজন নোবডি সারাজীবন চিৎকার চেঁচামেচি করলেও র‍্যাগিং বন্ধ হবে না। র‍্যাগিং বন্ধে আইন হোক, তা বাস্তবায়িত হোক।

র‍্যাগিং বন্ধ হোক, ভার্সিটি "র‍্যাগিং" নামক ভাইরাস মুক্ত হোক!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকে আমার মন ভালো নেই

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×