রংদার ঘুড়ির সেই শৈশবকে ফিরিয়ে আনতেই প্রথম ঘুড়ি উৎসবের আইডিয়াটা আসে কয়েকজন তরুন শিল্পীর মনে। ঢাকার চারুকলা ইন্সটিটিউটের উল্টো দিকের ছবির হাটে আড্ডাবাজির ফাঁকে ফাঁকে আইডিয়াটা দিন দিন পরিপূর্ণতা পেতে থাকে। এটা 2005 সালের ঘটনা। আস্তে আস্তে সেই স্বপ্নের সঙ্গে যোগ দেয় লেখক, সাংবাদিক, ছাত্র এবং আরো বিভিন্ন পেশার লোকজন।
ঘুড়ি উড়াতে প্রয়োজন বাতাসের নিরনত্দর প্রবাহ। আর সার্বনিক বায়ূপ্রবাহের ম্যাঙ্মিাম গ্যারান্টি দিতে পারে সমুদ্র। সে কারণে ওই বছরই প্রথমবারের মতো 'ঘুড়ি উৎসব 2005' উদযাপিত হয় বাংলাদেশের সর্বদেিণর প্রবাল দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় (সেন্ট মার্টিন)।
এ ঘুড়ি উৎসবটা একটু অন্যরকম। ঘুড়ি কিনলাম, সুতা কিনলাম আর একদিন উড়ালাম- বিষয়টা মোটেও সেরকম নয়। সেন্ট মার্টিনে পাঁচদিনব্যাপী ঘুড়ি বানানো বিষয়ক কর্মশালায় যেসব ঘুড়ি বানানো হয়েছিলো সেগুলোই উৎসবের শেষ দিন বর্ণিল করে তুলেছিলো ওই দ্বীপের আকাশ। এ উৎসবে উড়ানো ঘুড়ির সবগুলোই উৎসবে অংশগ্রহনকারী লোকদের নিজেদের বানানো।
প্রথম বারের সফলতা উৎসাহী করে তোলে আয়োজকদের। ফলে 2006 সালে দ্বিতীয় বারের মতো আবার আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উৎসব। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে এ উৎসব। স্থান বরাবরের মতো সেন্ট মার্টিন।
এবারের উৎসব চলবে ফেব্রুয়ারি 11 থেকে 17 তারিখ শনিবার পর্যন্ত। উৎসবে যোগদানকরীদের ভাগ করা হয়েছে দুইটি দলে। এক দলের নাম ঘুড়িয়াল, অন্যদলটি উড়িয়াল।
মজার এই নামকরণ প্রসঙ্গে উৎসবের একজন উদ্যোক্তা জানালেন, "ঘুড়িয়াল দল অগ্রবর্তী দল হিসাবে পাঁচ দিন আগেই চলে যাবে সেন্ট মার্টিন। সেখানে তারা ঘুড়ি বিষয়ক কর্মশালায় অংশ নেবে আর ঘুড়ি বানাবে। যেহেতু তারা ঘুড়ি বানাবে সেহেতু তারা ঘুড়িয়াল। আর যেহেতু উড়িয়ালরা ঘুড়িয়ালদের বানানো ঘুড়ি উড়াবে সেহেতু তারা উড়িয়াল।"
ঘুড়িয়াল দল 10 ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে পরদিন পেঁৗছাবে সেন্ট মার্টিন। সেদিন থেকেই শুরু হবে ঘুড়ি বিষয়ক কর্মশালা। ঘুড়িয়াল দলে আসন সংখ্যা সীমিত।
অন্যদিকে উড়িয়াল দল যাত্রা শুরু করবে 15 ফেব্রম্নয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে। শুক্রবার তারা গিয়ে পেঁৗছাবে সেন্ট মার্টিন। শনিবার হবে মূল উৎসব। সকাল থেকে সারাদিনব্যাপী চলবে ঘুড়ি উড়ানো। রাতে ঘুড়িগুলোকে নিলামে ওঠানো। সেখান থেকে পছন্দমতো ঘুড়ি কিনতে পারবে যে কেউ।
উড়িয়াল দলের সঙ্গে যাত্রা করে আপনিও যোগ দিতে পারেন ঘুড়ি উৎসবে। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন ছবির হাটে। ছবির হাট বসে প্রতি শুক্রবার। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যায় চারুকলার উল্টোদিকে ছবির হাটের লোকজনের দেখা মিলবে।http://www.bdnews24.com/bangla/home.php
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






