somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খায়রুলের অপুর্ব আপ্যায়ন

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কোরবানীর ঈদে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার চাচাতো ভাতিজা ফরিদের ছেলে খায়রুলের ( ২/৩ বছর ) সাথে পরিচয় হয়।প্রথম পরিচয়েই ও আমাকে খুব আপন করে নেয়।
ঈদের পরদিন সকালে আমি উনুনের পাশে বসে আগুন পোহাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ কোত্থেকে খায়রুল এসে হাজির। এসেই আমার শার্টে ধরে টানাটানি শুরু করল। ওর মা খিচুরী রান্না করেছে আমাকে ছাড়া কিছুতেই ও খাবে না।ও আমাকে ধরে বলে.."দাদা আইয়্যুন, মা খিচুরী রানছে,আফনে খাইবেন।"এমন নাছোড়বান্দা ছেলে কিছুতেই ছাড়ছে না।আমি ওকে খুশি করার জন্য ২ টাকা দিলাম। কিন্তু তাতে কাজ হল না। তারপর আরও ২০ টাকা দিলাম ।উহু তাতেও কাজ হল না। সে টাকাটা পকেটে রেখে আবারও টানাটানি করতে থাকে। ও একা আমাকে তুলতে পারছে না তাই ওর বড় ভাই হৃদয়কে বলে.."ধর,ধর, দাদারে ধর।"আমি দাঁত ব্রাশ করে যেতে চাইলাম তাও মানে না।কি আর করার আছে ছোট বাচ্চার কাছে পরাজিত হতেই হল।
তারপর ওদের বাড়িতে আমাকে ওর মায়ের জিম্মায় রেখে এক দৌড়ে আমাদের বাড়ি থেকে এসে টুথ পাউডার নিয়ে গেল।নিজেই পানি এনে আমার মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করল।ওর মাকে বলল দুজনের জন্য খাবার দিতে।দুজনেই খেতে বসলাম কিন্তু গরমের জন্য ধরতে পারছিলাম না। ও আবার জিজ্ঞেস করল.."দাদা,ততা (গরম )লাগে? আমি বললাম,হ্যাঁ।ও তার মাকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে বলল। পরম তৃপ্তিতে খাওয়া শেষ করলাম।
খাওয়া শেষ হলে ওর পকেট থেকে ২২ টাকা বের করে আমাকে ফেরৎ দিল। আসলে টাকাটা ও শুধু আমাকে ম্যানেজ করার জন্য নিয়েছিল।এতটুকু বাচ্চার মাথায় এমন ধরনের বুদ্ধি কি করে কাজ করে ভাবতেই অবাক লাগে।
এমন আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন পাওয়া তাও আবার মাত্র ২ বছরের শিশুর কাছ থেকে সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার ।আমি কখনও তা ভুলতে পারব না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৩
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×