somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার একটা আকাশ আছে

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট বেলায় বড়দের বিশেষ করে দাদা-দাদীর কাছে শুনেছিলাম মানুষ নাকি মরে গেলে আকাশের তারা হয়ে যায়। মফস্বল শহরে বিদ্যুৎ বলতে গেলে থাকতোই না। তাই সন্ধ্যা হলে আকাশ জুড়ে যখন তারারা জেগে উঠতো, আমি অবাক হয়ে দেখতাম তাদের আর ভাবতাম হায়রে কত কত মানুষই না মরে তারা হয়ে গেছে। অন্য সব নাতি নাতনীরা শহরে থাকতো বলে হয়তো আমি আমার দাদার আদরটা একটু বেশী পেয়েছিলাম। তাই তিনি যখন মারা গেলেন আমি আকাশ জুড়ে তাকে খুঁজে বেড়াতাম।

বরিশাল থেকে ঢাকা আসার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় ছিলো তখন লঞ্চ। বাবা মা এর সাথে প্রায়ই তখন ঢাকা আসতাম। মাঝরাতের দিকে যখন লঞ্চ বিশাল সব নদীতে পড়তো, তখন বিশাল বিশাল লঞ্চ, চারিদিকের নিকশ অন্ধ্কার আর লঞ্চের সাইরেন ছাপিয়ে আমার মনে হতো আকাশটাই যেন পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করছে। যতদূর চোখ যায় কেবল আকাশ আর তারার আনাগোনা। ততদিন অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছি। বুঝে গিয়েছি এই তারাগুলো মরে যাওয়া মানুষ জন নয়। তারপরও চারিদিক ছাপিয়ে গ্রাস করা আকাশটা আমাকে খুব টানতো।

এরপর এক সময় বাবা মার সাথে স্থায়ী হলাম ঢাকায়। এখানে আকাশ দেখা যায় না। আকাশ দেখতে ঘাড় যতখানি কাত করতে হয় আমার মাথা ততদূর যায় না। বাসার কাছেই ছিলো মতিঝিলের মোহামেডান মাঠ। এখন তার অনেকটা জুড়েই দাঁড়িয়ে আছে বাফুফে ভবন। বাসার নানান সমস্যায় যখন একটু পালাতে চাইতাম, ছুটে যেতাম সেখানে।। চারিদিকে অসংখ্য আকাশ ছোঁয়া দালানের মাঝে একটু উঁকি দেয়া আকাশটা দেখতাম। শহরের ধূলো বালিময় বাতাসে খুব ভালো দেখা যেত না তারা গুলো। তারপরও চেয়ে থাকতাম। কথা বলার চেষ্টা করতাম। মাঝে মাঝে যখন একটা দুটো মিটি মিট করে জানান দিতো, তারাও আমার কথা বুঝতে পারছে।

ধীরে ধীরে আমি বড় হই। আমি বদলাই, চারাপাশের সব কিছু বদলায়। কিন্তু এই আকাশটা বদলায় না। তারারাও বদলায় না। এক সময় ভার্সিটিতে পড়ার কারনে চলে যাই সিলেট। সেখানে প্রায়ই আমরা ক’জন মিলে রাতের আকাশ দেখতে বের হতাম। হাটতে হাটতে চলে যেতাম সুরমা নদীর পাড়ে। যায়গাটার নাম কানিশাইল। কত রাত গেছে একটা নৌকা নিয়ে আমরা মাঝ নদীতে চলে গিয়েছি আকাশ দেখতে। মাঝে মাঝে গভীর রাতে একলা হাটতে হাটতে চলে যেতাম আম্বরখানা থেকে কানিশাইল। একলা নদীর পারে বসে আকাশ আর তারার সাথে কথা বলেছি কত রাত।

খসে পড়া তারা দেখলে নাকি মনে মনে কিছু একটা চাইতে হয়। তখন যেটা চাওয়া হয় সেটা নাকি পূরণ হয়। সে বার আমরা বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটা যাচ্ছিলাম। ঢাকা থেকে বরিশাল লঞ্চে করে। বিশাল এক লঞ্চ। সবাই তখন কেবিনে জম্পেশ তাস পেটাচ্ছে। একলা আমি তখন লঞ্চের ছাদে। বহুদিনের পুরনো আকাশের সাথে একটি বার দেখা করতে। তখনই দেখলাম তিন চারটি খসে পড়া তারা। প্রথমবার বুঝে উঠতে না পারলেও মনে মনে যা চাইবার তা চেয়ে ফেললাম। সত্যি কথা বলি, যা চেয়েছিলাম তা কিন্তু ঠিকই পেয়েছিলাম তিন চার বছর পর। আবারো এই চির বন্ধু আকাশটা তার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো। জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটা পেয়ে গেলাম।

অর্থের খোজে এখন আমি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে। ঘরের মাঝে ঘরকুনো আর অনেকটাই অসামাজিক এই আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দেশে সম্পূর্ণ অপরিচিত কিছু মানুষের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। সারাদিন আজব সব সমস্যার সমাধান করে হোটেলে ফিরে ততোধিক আজব সব খাবার পেটে চালান দিয়ে যখন রুমে আসি, রুমের জানালা দিয়ে আকাশটা দেখি। এত সব অপরিচিত কিছুর মাঝে এই আকাশটাই পরিচিত। বদলেছি আমি , আমার বন্ধু বদলেছে, দেশ বদলেছে কিন্তু সেই আকাশটা একটুও বদলায় নি। তাই প্রতিটা এক ঘেয়ে দিনের শেষে রুমের জানালা দিয়ে আকাশের পানে তাকাই আর তারার সাথে কথা বলি। কেননা জানি , এই আকাশটা কোনদিন বদলাবে না।


---------------------------------------------------------------------------------
(অনেক দিন পর ব্লগে এলাম। নানান ঝামেলায় আমি আমার এই প্রিয় জায়গাটা থেকেও অনেক দূরে সরে যাচ্ছি)
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×