মন বোঝার চেয়ে পিথাগোরাসের ২৩ নম্বর উপপাদ্য বোঝা অনেক বেশি সহজ। এমনিতে মানুষ গ্রামে যেতে চায় না। উল্টো প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পিপীলিকার মতো শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। সরকার টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়েও কাউকে গ্রামে পাঠাতে পারছে না। গ্রামে যাওয়ার কথা বললেই মানুষ ‘গ্রামে গিয়ে কী হবে? ওখানে আছেটা কী?’ এসব বলে শহরে মটকা মেরে পড়ে থাকে। কিন্তু লম্বা কোনো ছুটি পেলেই মানুষের মনে পড়ে যায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র বইয়ের ‘গ্রামে ফিরে যাও’ রচনার কথা। ‘এখানে আর এক মুহূর্ত নয়’ বলে গাট্টি-বোঁচকা নিয়ে সবাই হুড়মুড় করে দৌড় দেয় গ্রামের উদ্দেশে। সবগুলো টিভি চ্যানেলে সংবাদ শিরোনাম হয়, ‘যানজটের শহর ঢাকা এখন ফাঁকা’। ওদিকে গ্রামে গিয়ে মানুষের মনে আনন্দের কোনো সীমা থাকে না। শহরে একটু ময়লা দেখলেই যার পকেট থেকে অটোরুমাল বেরিয়ে পড়ে, সেই লোকটিই গ্রামের গোবরে পা পিছলে পড়ে গিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসতে থাকে। ভাব দেখে মনে হয়, গোবরে পা পিছলে না পড়লে জগৎ-সংসার একেবারে অর্থহীন। কিন্তু ছুটি শেষ হলেই কীভাবে যেন মানুষের মনের আবহাওয়া বদলে যায়। ‘অনেক দিন তো গ্রামে থাকলাম, গোবরের গন্ধ, মোরগের কক কক—এসব আর ভাল্লাগে না’ টাইপের কথা বলে আবার সবাই শহরে চলে আসে। কোনো মানে হয়? আরে ভাই, হয় গ্রামে থাকবে, না-হয় শহরে থাকবে, তা না, একবার গ্রাম, একবার শহর। কেন এই দুই নৌকায় পা দেওয়া? এদের জন্যই দেশের আজ এই অবস্থা। যে গ্রামে অনেকের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ছুটি না পেলে সেই গ্রামের কথা কারও মাথায়ই আসে না। অন্যায়, খুবই অন্যায়। আর আমাদের সরকারটাও যেন কেমন! যেহেতু ছুটি পেলেই পাবলিক শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায়, সেহেতু একটু বুদ্ধি করে বড় বড় ছুটি দিলেই হয়। তাহলেই তো শহরের ভিড় আর যানজট কমে যায়। ইটস সিম্পল! অথচ এই সিম্পল জিনিসটা সরকারের মাথায় আসে না। আশা করি, ভবিষ্যতে সরকার এ ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করব
সুত্র ( প্রথম আলো)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



