somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামাজে যার হৃদয় শাসন করতে পারে সেই মু'মিন

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামাজে যার হৃদয় শাসন করতে পারে সেই মু'মিন। নির্বোধ লোকজন নামাজকে শুধু মাত্র একটি ইসলামিক প্রথা মনে করে, যেমন সালাম বিনিময়। তা নয় মোটেই, নামাজ আসলে ইসলামের সবচেয়ে বড় প্রতিক, এক অদ্বিতীয় বাহ্যিক ইবাদত। এর ইফেক্টও সুদূরপ্রসারি।

সালাম দেয়া, বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করা, সুবহানাল্লাহ-ইন্নালিল্লাহ বলা,্ পান্জাবি পড়া, আতর মাখা এসবের মত নামাজ কিন্তু কোন রিচুয়াল নয়। নামাজ মূলত একটা ইসলামিক সমাজের মেরূদন্ড। কোন এলাকায় গেলে সেখানকার মসজিদে কয়েকটা জামায়াতে অংশ নিলেই সেখানের ইসলামের অবস্থা বোঝা যায়। মুসলি্লদের নিথর মনোযোগ এবং ইমামের আসমানি তিলায়াত এক অতিমানবিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় বান্দা শুধুই আল্লাহর জন্য বরাদ্দ করে, যেখানে দুনিয়াবি সকল কৃত্তিম আবরন মুছে যায়।

আপনি গুলশানে কোন মসজিদে নামাজ পড়ুন (আমি জামায়াতে নামাজের কথা বলছি), আপনার মনে হবে আপনি নিষপ্রান পাথরের এক বাগানে বেড়িয়ে এলেন। যেখানে ইসলামের যেন এক কংকালসার অবস্থা, নির্জিব, নর্িেমষ। অপরদিকে আপনি রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটি হলে ফজরের নামাজ পড়ুন। দেখবেন ঘুমের আশ্রয় ত্যাগ করে হাজার হাজার যুবক আল্লাহর দরবারে হাজির, সেই সব মুসলি্লদের উপস্থিতিতে দ্বীনি পরিবেশে অন্য কোন কিছুই আপনার মনকে প্ররোচিত করতে পারবে না। যে কেউ বুঝবে ইসলাম এখানে সরব, জীবন্ত ও প্রবল ।

নামাজ শুধুমাত্র একটি কাজ নয়, যে করলেই হল, ব্যাস শেষ। মু'মিনের কাছে নামাজ হচ্ছে অস্থায়ি জগত থেকে স্থায়ি জগতে ঘুরে বেড়ানোর গলি। নামাজ অসহ্য জীবনযন্ত্রনা থেকে খানিক লাঘব। পাঠককে স্মরন করিয়ে দেই, পাচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ এসেছিল রাসুল (সা:) যখন মে'রাজে আল্লাহর দীদারের জন্য গিয়েছিলেন, পরে মূসা নবীর পরামর্শে তিনি আগের পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে পাচ ওয়াক্তে আনেন। তাই বলা হয়, আস্সালাতু মিরাজুল মু'মিনিন--নামাজ মু'মিনের জন্য মেরাজ স্বরুপ। নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার ইসলাম নির্দেশিত উপায়।

আর মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে ইসলামি সমাজের বন্ধন আরও গাঢ় হয়, যেখানে একদল মানুষ একই সময়ে একই স্থানে থেকে আল্লাহর দরবারে গিয়ে ধরনা দেয়, তাদের সামষ্টিক আকুলতা আরশকে স্পর্শ করে।

যে মানুষকে সব ফেরেশতারা সিজদা করেছিল, সেই মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রূকুতে মাথা হেট করে, সিজদায় মাথা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে সে বারবার সাক্ষ্য দেয়, ইন্নাস্যালাতা ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ ইয়াইয়া ওয়াল মামাওয়াতি লিল্লহি রাব্বুল আ'লামিন--বল আমার নামাজ, আমার উপাসনা, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য (আল-কুরআন)।

নামাজ শুরু হয় আল্লাহু আকবর (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলার মধ্য দিয়ে। এরপর ছানা এবং বিসমিল্লাহ পড়ার পর নামাজি পড়ে সুরা ফাতিহা, যার অর্থ হচ্ছে: সমস্ত প্রশংসা এই বিশ্বজগতের রবের জন্য। তিনি অসীম দয়ালু এবং পরম দয়াময়। বিচার দিনের মালিক। আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য চাই। আমাদেরকে তুমি সত্য এবং সঠিক পথে হেদায়াত কর। তাদেরই পথ, যারা সব ইনাম পেয়েছে। নয় তাদের পথ, যারা অভিশপ্ত আর পথভ্রষ্ট। (নিজের অনুবাদ)।

এর পর পবিত্র কুরআনের যে কোন একটি অংশ। এরমাধ্যমে কুরআন বিশ্বের সর্বধিক পঠিত গ্রন্থে পরিনত হয়েছে, যা তার নামার্থ (পঠিত) কেই সত্যায়িত করছে।

এরপর বান্দা আল্লাহর সামনে মাথা নিচু করে বলে: মহান আমার প্রতিপালক মহাপবিত্র (বা মহাসুন্দর)।

'সামি'আল্লাহ হুলিমান হামিদান' মানে প্রশংসিত আল্লাহ সব শুনেছেন। অর্থাৎ এতনের বক্তব্য সঠিকই ছিল।

এরপরই নামাজের আধ্যাত্মিকতার চুড়ান্ত রুপ, যেখানে বান্দা আল্লাহ রাহে মাথা জমিনে ঠেকিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে আবার বলে মহান আমার প্রভু সর্বোত্তম। এভাবেই নামাজের একটি রাক'আত শেষ হয়, যা পুনরাবৃত্তি হতে পারে দুই, তিন বা চার বার।

নামাজে বলা প্রতিটি শব্দের অর্থ বুঝে সমস্ত অন্তর দিয়ে উচ্চারন না করলে নামাজে স্পন্দনে অনুরনিত হওয়া সম্ভভব নয়। আমাদের সমাজে নামাজ কায়েম হোক, আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×