somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এস এম ইসমাঈল
নতুনভাবে নিজের চিন্তার শক্তি আর ভাবনার বিশ্লেষণ করার সামর্থ অর্জনের জায়গা হল ব্লগ। বিচিত্র ভাবনারাশির আলোয় নিজেকে আলোড়িত আর আলোকিত করার উদ্দেশেই আমরা ব্লগে আসি। অবসর সময়টাকে ভালোভাবে কাটানোর জন্য এর চেয়ে মোক্ষম উপায় আর নেই। তদুপরি বিনোদন এখানে উপরি পাওনা

মাওলানা শায়েখ নুরুল ইসলাম ফারুকী রহ

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাওলানা শায়েখ নুরুল ইসলাম ফারুকী ১৯৫৯ সালের ২৪ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলার বড়শশী ইউনিয়নের নাউতারী নবাবগঞ্জ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম মাওলানা জামসেদ আলীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দুই সংসারে ২ মেয়ে ৪ ছেলে রয়েছেন। নিহত হওয়ার সময় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে রাজবাজার নিজ বাসায় ছিলেন।

তার পরিবার সূত্র জানায়, গ্রামের স্কুলে প্রথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন ফারুকী। নীলফামারী জেলাধীন ডোমার থানার অন্তর্গত তিনিহাটি জামেউল উলুম সিনিয়র মাদরাসা থেকে ১৯৭৫ সালে দাখিল পরবর্তীতে আলিম পাস করেন। ১৯৭৯ সালে প্রাচীনতম ঐতিহাসিক সারসিনা দারুন সুন্নাত আলীয়া মাদরাসা (বরিশাল) থেকে কামিল (হাদিস বিভাগ) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে নীলফামরী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে উচ্চমাধ্যমীক পার করে জগন্নাথ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক করেন।

উল্লেখ্য, ছাত্র জীবনে লেখা-লেখি, বক্তৃতা এবং কোরআন তেলাওয়াতে প্রথম স্থান অধিকার করতেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সে সময় পুরনা ঢাকার রায়শাহবের বাজার জামে মুসজিদের খতিব হিসেবে যোগ দান করেন তিনি। তার কিছুদিন পর ঢাকা কেরানীগঞ্জের নুরনিয়া ছিসতিয়া আলীয়া মাদরাসার প্রধান হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

এছাড়া ১৯৮৯ সালে প্রথম হজ গমনের উদ্দেশে মক্কায় যান তিনি। সে বছর জেদ্দা বিমানবন্দর মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পান শায়খ ফারুকী। কিছুদিন সেখানে কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফেরত আসেন। এসময় ঢাকাসহ বিভিন্ন মসজিদে ৩৩ বছর ইমাম ও খতিবের দায়ত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আলীয়া মাদরাসায় ১৫ বছর শিক্ষকতা, রেডিও, টেলিভিশনে ২৫ বছর ওয়াজ নসিয়তে অনুষ্ঠান করেন।

তার উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে কাফেলার জন্য ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এ অনুষ্ঠানটির জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বের ১০টি দেশে ভ্রমণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের সুন্দর ও সঠিক নিয়মে পবিত্র হজ পালনে ২৫ বছর হজ কার্যক্রম চালিয়েছেন।

মাওলানা ফারুকী মক্কা মোয়াজ্জামায় আল্লামা সায়েদ মোহাম্মদ মালিকি আলাদি (রা.) রওজায় ১০ বছর দায়িত্ব প্রালন করেন। এছাড়া সারসিনার পীর আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহর মাজারে খেদমত করেন। শেষ জীবনে খাজা হযরত শরফুদ্দিন চিশতির মাজারে খাদেম ও সুপ্রিমকোর্ট জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়ত্ব পালন করেন।

বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। তার বইগুলো সুফিবাদ ভিত্তিক। সর্বশেষে ‘মারেফুল হারামাইন’ বইটি লিখেছেন। বইগুলোতে ইসলামের আদি বা অবিক্রিত রূপগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন বলে তার ভক্তরা জানিয়েছেন।

মাওলানা ফারুকী সংসার জীবনে দুই বিয়ে করেন। তার দুই সংসারে ২ মেয়ে ৪ ছেলে রয়েছেন। ছেলেরা হলেন- মাসুদুর ফারুকী, আহমেদ রেজা ফারুকী, ফয়সাল ফারুকী, মো. ফুয়াদ ফারুকী। মেয়েরা হলেন- হুমায়রা তাবাচ্ছুম তুবা, লাবিবা লুবা। এদের মধ্যে মাসুদ এবং দুই মেয়ে প্রথম সংসারের। তার প্রথম স্ত্রী রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে।

আরো জানা যায়, মাওলানা ফারুকী ইসলামী মিডিয়া জনকল্যাণ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। পূর্ব রাজাবাজার জামে মসজিদের সেক্রেটারিও ছিলেন তিনি। এছাড়া মেঘনা ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাওলানা ফারুকী।

উল্লেখ্য, ১৭৪ পূর্ব রাজাবাজার মুন্সীবাড়ীর একটি চার তলা ভবনের দুই তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার নিয়ে থাকতেন মাওলানা ফারুকী। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হজে যাওয়ার কথা বলে দুই জন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এরপর ১৫/২০ মিনিট পর আরো তিনজন ভক্ত পরিচয় দিয়ে বাসায় আসেন। কিছুক্ষণ পর এরা অস্ত্রের মুখে স্ত্রী-সন্তানদের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের একটা কক্ষে আটকে রেখে ডাইনিং রুমে ফরুকীকে গলাকেটে হত্যা করে চলে যায়।[1]
তথ্যসূত্র
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বাংলামেইল২৪ডটকম
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×