somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘৃণার চর্চা বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী টানাপড়েন তৈরি করবে

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিগত ১৫/১৬ বছরের দূর্শাসন, শোষন, নিপীড়ন, জুলুম, হত্যা, গুম, অপহরণ, ব্যাংক লুট, প্রকল্পের টাকা লুট, হয়রানী, ভীতিপ্রদর্শন, গণতন্ত্র হত্যা, পুলিশ আওয়ামীলীগীকরণ, প্রশাসন দলীয়করণ, বিচারব্যবস্থা আওয়ামীলীগীকরণ, নেতাকর্মী কতৃক পুরো দেশ লুটপাটকরণ এমন কোন হেন কাজ নেই যা হাসিনা তথা তার সরকার করেনি সর্বশেষ গণহত্যায় মেতে উঠেছিল হাসিনার ফেসিস্ট সরকার যেখানে হত্যা করা হয় প্রায় ২ হাজার মানুষ এবং আহত বা পঙ্গু হয় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ইতিসাসের বৃহত্তম ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেই ফেসিস্টরা দলবলে পালিয়ে অবৈধ্ভাবে আশ্রয় নেই ভারতে। সাম্প্রদায়িক খুনি মোদী সরকার আরেক পতিত খুনিকে আশ্রয় দেয়, কোলে তুলে নেই। জনগণকে তোয়াক্কা না করে পতিত হাসিনাকেই পিরিতের বন্ধনে আবদ্ধ করে সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদী।

মোদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে, মোদী যখন গুজরাটে মূখ্যমন্ত্রী তখন তিনি দাঙ্গা বাধিয়ে দুই হাজারেরও বেশি মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন, বাবরি মসজিদ আক্রমনের নাটের গুরু তিনিই ছিলেন সেখানেও বহু মুলিমকে হত্যা করা হয়েছিল এবং সেই তিনিই বিচার ব্যবস্থায় তার অনুগত একজন বিচারপতি বসিয়ে বাবরি মসজিদের যায়গাতে মন্দির নির্মান করেছেন এবং সেই মোদীই তার নিয়ন্ত্রনাধীন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দ্বারা এখন মুসলিমদের সব ধর্মীয় স্থাপনার নিচে মন্দির খুঁজে বেড়াচ্ছে বা পাচ্ছে। এই মোদীই গরু গোবর গোমূত্রকে কেন্দ্রকরে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছেন এবং উগ্র একটি গোষ্টি তৈরি করছেন যারা বিশ্বাসের ঠেলায় গোবর গোমূত্র খাবে অপরদিকে গোমাংস খাওয়কে কেন্দ্র করে মুসলিমদের পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করছে তখন মোদী তথা তাদের কেউ কথা বলছেনা। নিজেদেশে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতিনিয়ত নিপীড়ন করছে সেই তারাই আবার অন্যদেশে ত্রাতার ভুমিকায় নেমে অহেতুক বিদ্বেষ ঘৃণা ছড়াচ্ছে।

একটা সময় এমন ছিল যখন বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবাংলা একাকার ছিল, ছিলানা কোন ভেদাভেদ শুধু একটা সীমান্ত ছাড়া ছিলনা কোন দূরত্ব কিন্তু রাজনৈতকি পরিক্রমায় সেটা এখন সুদূর অতীত।

গেরুয়ারা এতোটাই ঘৃণার চর্চা করছে যে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে ঢুকে পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং হাইকমিশনের অনেক আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। তাদের পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দিনের আলোর মতো পরিস্কার করে যে ‘হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’ নামের সংগঠনের সদস্য কতৃক হামলা ভাংচূর নিঃসন্দেহে পূর্বপরিকল্পিত এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল হিসেবে বাংলাদেশে ঘৃণার ব্যবহার উভয় দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী টানাপড়েন সৃষ্টি করবে। এই ঘৃণার রেশ চলতে থাকবে দশকের পর দশক যা কোন দেশের জন্যই হিতকর নহে। তবে আশার কথা হলো ভারতে এখনো অনেক মানুষ আছে যারা সৎপ্রতিবেশী সুলভ এবং মানবীয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৫১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×