somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদি অন্য কিছু হত!

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটার পাশের বাড়িতে থাকত মেয়েটা। অনেকদিনের প্রতিবেশী। ছোট থেকে তারা বড় হয়েছে এখানেই। ছেলেটার চোখে তখন নানা রঙের স্বপ্ন, জীবন জীবিকা প্রেম ভবিষ্যত এবং হয়ত আরো অনেক কিছু নিয়ে। বহুদিনের পরিচিত কমবয়সী মেয়েটার বাড়াবাড়ি আগ্রহ, অহেতুক কাছ ঘেঁষা তাই তেমন করে লক্ষ্যই করেনি সে। বা করলেও গুরুত্ব দেয়নি। একদিন হঠাৎ করে একটা চিরকুট হাতের মধ্যে গোঁজা পেয়ে তাই খানিকটা অবাক এবং খানিকটা চিন্তিত হয়ে পড়ল ছেলেটা। সরু করে অল্প যে কয়টা লাইন লেখা ছিল সেগুলোতে একটু অনুরোধ ছিল মেয়েটার বড় হবার জন্য অপেক্ষা করার, অনেকটা অনুনয় ছিল তার সমস্ত জমানো ভালবাসা অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করার। ছেলেটা আঁকাবাঁকা লেখাগুলোতে কয়েকবার নজর বুলালো। খানিক ভাবল। তারপর হেঁটে গেল পাশের বাড়ির দরজায় মেয়েটাকে কিছু বলার জন্য। সেই পুরানো জবাব, মেয়ে আমি তো অপেক্ষা করে থাকতে পারব না তোমার জন্য, আমার সামনে অবারিত সম্ভাবনা, তুমি ছোট হতে পার কিন্তু আমি তো বড় হয়েছি, জীবনকে আমি বুঝতে পারি। ভেবো না, আর একটুও দুঃখ কোরো না, তুমি অনেক ভাল থাকবে, দারুণ একটা জীবন হবে তোমার, দেখো তোমার এই ক্ষণিকের মোহ কেটে যাবে কিছুদিনেই কারণ একদিন মানুষ আগের ভাললাগাগুলো ভুলে যায়। এরপর সেই পুরানো প্রতিক্রিয়া, মেয়েটার অঝোর ধারায় কান্নাকাটি, প্রত্যাখ্যাত মনের ভার; কিছু না করতে পেরে ছেলেটারও একটু অপরাধবোধ।

কিছুদিন গড়ালে পরিচিত শহর ছাড়ে ছেলেটা। কাজের সন্ধানে জীবিকার তাগিদে স্বপ্নকে বাস্তব করার তাড়নায় অচেনাদের ভীড়ে দূরের নগরে জীবন শুরু করে। এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। কিন্তু এখানেও সেই পুরানো গল্প। থেকে থেকে তার মনে পড়ে ফেলে আসা বাড়ি, মা বাবা, বন্ধুরা, আর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে চিরকুট আর মেয়েটাকে। তার অনুভব হতে থাকে পেছনে ছেড়ে আসা শহর আর মানুষের কাছে তার প্রাণ বাঁধা পড়ে আছে। হঠাৎ করেই সে বুঝে ফেলে তাকে আসলে সেই মেয়েটার কাছে ফিরে যেতে হবে। বাড়ির পথ ধরে ছেলেটা। খুঁজে পাওয়ার আনন্দ আবার সেই সাথে হারিয়ে ফেলার আশংকা বুকে নিয়ে এবার দৌঁড়ে যায় পাশের বাড়ির দরজায়, যদি সব আগের মত ঠিক না থাকে? শেষ পর্যন্ত তাই হল। এবার মেয়েটার কাছ থেকে তাকে জানতে হল, একদিন সবাই সব কিছু ভুলে যেতে পারে, তাই ছেলেটারওসব ভাবনা একদিন বদলে যাবে, মেয়েটাকে না পাওয়া নিয়ে আর কোন দুঃখবোধ থাকবে না।



কিছুদিন ধরে একটা অদ্ভুত ইচ্ছা হচ্ছে। যদি একটা কিছু ঘটত খুব নাটকীয়! যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি সাদা না কালো মত দিতে পারি না, আমাকে ধূসর রঙ বেছে নিয়ে বসে থাকতে হয়, এবং অন্য কাউকে আমার হয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হয়, তাই বের করে নিতে পারছি না ঠিক কি ঘটার জন্য এত লোভ হচ্ছে। তারপরও ভাবছি আমি নিজে বা কেউ কিছু একটা করে বসত, যেটাতে আমার অনেক গুছানো হিসাব নিকাশ বদলে যাবে। আর সেই বদলটা অবশ্যই হবে একেবারেই ধনাত্মক। মাঝে মাঝে যখন মনে হয় হাতের খুব কাছের কোন কিছুকে আমি এড়িয়ে যাচ্ছি কেবল চোখ খুলে তাকাচ্ছি না বলে, তখন আর কেউ কিছু করে দিক এমন ইচ্ছাটা করে। যেভাবে করে সবকিছু হচ্ছে তাকে দুম করে পালটে একটা অন্য কিছু করে দিতে পারলে কেমন হত? এমন কিছু যেটা কখনো ধারণা করি নি। জানি না জীবনে ঘোলা দৃষ্টির ভুলে বা বোকা চিন্তার শিকার হয়ে কখনো মূল্যবান কিছু হারিয়ে গেছে কিনা। যদি হারিয়েই থাকে তবে পরে কখনো সেটা টের না পেলেই ভাল।

গল্পটা কনওয়ে টুইটির ‘ডোন্ট ক্রাই জোনি’ গানের। ভাল লাগা গানটা অনেকেরই শোনা। লিংক দিতে গিয়ে আমি ভুল করে ফেলি বলে আর দেয়া হল না।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২২
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×