somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রশ্নবিদ্ধ ন্যায্যতাঃ আইন কি বলে Part-1

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সরকার, তার নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে বেলজিয়ামপ্রবাসী ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের আপত্তিকর কথোপকথনের খবর প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ‘ইকোনমিস্ট’ এবং বাংলাদেশের ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়ার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়ছেন এই আহমেদ জিয়াউদ্দিন। শুধু তাই নয়, মামলার আদেশ আগে থেকেই প্রস্তুত করা, তড়িঘড়ি করে রায় দিতে সরকারেরে অব্যাহত চাপ, আন্তর্জাতিক মানরক্ষায় অনীহাসংক্রান্ত নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে এসব কথোপকথন থেকে। আগে থেকেই অভিযোগ উঠেছিল যে, এই ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গঠিত। এসব কনভারসেশন প্রকাশের পর থেকে সেই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবং দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচারের নৈতিক ভিত্তি এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।





বিচারপতি নাসিম এবং আহমেদ জিয়ার পরিচয়



বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ২০০১ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতেন। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মহামান্য প্রেসিডেন্ট তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন।



উল্লেখ্য, বিচারপতি নাসিম ১৯৯২ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অধীনে প্রতিষ্ঠিত গণতদন্ত কমিশনে কাজ করেন। ওই কমিশন মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধসমূহের বিচারে একটি প্রতীকী আদালত স্থাপন করেছিল। তদন্তকাজে ঐ কমিশনকে সহায়তার জন্যে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি সেক্রেটারিয়েট গঠিত হয়। নিজামুল হক নাসিম সেই ৪০ জনের একজন।



ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন হলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’ইয়ার এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর আইনজীবী এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর পরিচালক। তিনি ব্রাসেলস ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন। গত ২৯ নভেম্বর হেগে ‘নো পিস উইদাউট জাস্টিজ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক সেমিনারে তিনি যোগ দেন। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম তারেক যোগ দেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রায়হান রশিদ নামে একজন যোগ দেন। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম প্রায় নিয়মিতই সন্ধ্যার পর স্কাইপি আলোচনা করেন তাদের সঙ্গে। ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন এবং রায়হান রশিদের সঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।



কথোপকথন সম্পর্কে বিচারপতি নাসিমের দুই সুর!





ড. আহমেদ জিয়ার সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস হয়ে যাবার খবর ইকোনমিস্ট কর্তৃক অবগত হবার পর বিচারপতি নাসিম গত ৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে জানান, একটি নতুন আইনের ওপর ভিত্তি করে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। এ কারণে বিচারকদের মাঝে-মধ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সহায়তা নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। ড. জিয়াকে এধরনের একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে উপস্থাপন করেন বিচারপতি নাসিম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর পরিচালনা এবং আদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি মি. জিয়ার বিশেষজ্ঞ-সহায়তা নিয়েছেন বলে স্বীকারও করেন সেই আদেশে। একই সঙ্গে এসব কনভারসেশন যেন ‘ইকোনমিস্ট’ প্রকাশ না করেন, সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেন আদালত।



কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এসংক্রান্ত আদেশটি দেয়ার আগেই গত ৫ ডিসেম্বর ইকোনমিস্টের পক্ষ থেকে বিচারপতি নাসিমের যোগাযোগ করে হলে তিনি যে তথ্য দেন, তা ট্রাইব্যুনালের আদেশে দেয়া তার উপরের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি ইকোনমিস্টকে জোর দিয়ে বলেন, জনাব আহমেদ জিয়া তাকে সহায়তা করেন নি। মি. জিয়ার সঙ্গে তার কথাবার্তা হয়, এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন বটে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের ডকুমেন্ট তৈরিতে তার অংশগ্রহণ ছিল- এবিষয়টি তিনি তীব্রভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বিচারক হিসেবে আমরা তৃতীয় কিংবা বহিরাগত কারো সহায়তা নিতে পরি না।”



ট্রাইব্যুনাল-সম্পর্কে তাদের দু’জনের মধ্যে মেইল আদান-প্রদান হয়েছে কি না- এর জবাবে জনাব নাসিম বলেন, ‌‘না, না, না। ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে, রায় সম্পর্কে অথবা বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে কারো সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা হয় নি।” পরে তিনি আরো বলেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক। ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে স্ত্রীদের সঙ্গেও আমরা কোনো প্রকার আলোচনা করি না।”



তৃতীয় কারো সঙ্গে মামলা সম্পর্কে আলোচনা করার ক্ষেত্রে বিচারকদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। কেননা, এর ফলে বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। ইকোনমিস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মি. আহমেদ জিয়াউদ্দিনও একই রকম কথা বলেন। তিনি জানান, আদালতের সঙ্গে তার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। তিনি চাইলে মাঝেমধ্যে কোনো বিচারককে ম্যাসেজ দিয়ে থাকতে পারেন। তবে সাধারণত তিনি সেটি করেন নি। কারণ, আর যাই হোক, তিনি তো (বিচারপতি নাসিম) একজন বিচারক।”



বিচারপতি নাসিমের দেয়া আদেশ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে-



১. কিসের ভিত্তিতে বিচারকরা বিশেষজ্ঞদের বাছাই করে থাকেন?



২. ইকোনমিস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আদালত কেন জনাব আহমেদ জিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয় নি?



৩. ট্রাইব্যুনালের আদেশে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও ইকোনমিস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কেন বিচারপতি নাসিম সে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন?



৪. ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে বিচারিক কার্য সম্পর্কে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলাটা অনুচিত’- এধরনের কথাই বা কেন বললেন জাস্টিস নাসিম?



বিচারপতি নাসিমের আদেশ সম্পর্কে ডেভিড বার্গম্যানের মন্তব্য



জাস্টিস নাসিমের আদেশের ব্যাপারে বিখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজস্ব ব্লগসাইটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন-



প্রথমত, ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে দাবি করছে যে, ইতোপূর্বেই তারা উন্মুক্ত আদালতে ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা দেশি-বিদেশি গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু এধরনের কোনো ঘোষণা আদৌ দেয়া হয়েছে কি না- তা আমি মনে করতে পারছি না। (উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালের সূচনা থেকেই ডেভিড বার্গম্যান এর সংবাদসংগ্রহে এবং বিশ্লেষণে জড়িত আছেন)



দ্বিতীয়ত, ইকোনমিস্টের কাছে থাকা কনভারসেশন এবং ই-মেইলগুলোতে যদি সত্যিই কেবল আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনসংক্রান্ত আলোচনা থেকে থাকে, তাহলে এটা প্রকাশ হলে ট্রাইব্যুনালের কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কিন্তু তাসত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তা প্রকাশ করতে নিষেধ করছে কেন?



ন্যায্য বিচারের অধিকার লংঘন



ইন্টারন্যাশনাল কভেনান্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস ১৯৬৬ এর ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিরই মানবাধিকার হচ্ছে যে তার বিচার করা হবে ন্যায্য ও প্রকাশ্য শুনানীর মাধ্যমে যা পরিচালিত হবে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যোগ্য, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ আদালতে। (“Everyone shall be entitled to a fair and public hearing by a competent, independent and impartial tribunal established by law...”)



বাংলাদেশ উক্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ আদালতে বিচার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এর প্রধান বিচারক নিজামুল হক নাসিমের সাথে ব্রাসেলস-এ বসবাসরত ড. আহমদ জিয়াউদ্দীনের বিচার চলাকালীন সময়ের সংলাপ থেকে প্রমাণিত হয় যে ট্রাইবুনাল ন্যায্য বিচার করছে না এবং অভিযুক্তদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।





এই কথোপকথনে উঠে এসেছে-



১. ট্রাইবুনালের বিচারকেরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা ভোগ করছেন না,

২. তাদের নিয়োগ এবং অপসারণ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় হচ্ছে,

৩. একজন বিচারক অন্য বিচারকের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত নন,

৪. সরকারের মন্ত্রীগণ ট্রাইবুনালকে প্রভাবিত করে যাচ্ছেন ও চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন,

৫. বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আহমদ জিয়াউদ্দীনের কথা মতো চলছেন (যা কেবল বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং হস্তক্ষেপ পর্যায়ে পৌঁছেছে),

৬. ট্রাইবুনাল অভিযুক্তদের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট অচরণ করেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় অভিযুক্তদের অযথা বিলম্বমুক্ত বিচারের অধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে লংঘন করা হচ্ছে আবার অন্য অভিযুক্তদেরকে আত্মসমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

৭. দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলাটি যে খুবই দুর্বল এবং অসার তা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও বিচারক ও কৌসুলি উভয়পক্ষই এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীনভাবে ঐকমত্য পোষণ করে ।





আইনের যেসব মৌলিক বিষয় লঙ্ঘিত হচ্ছে এই ট্রাইব্যুনালে



ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিম এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথোপকথন থেকে দেখা যাচ্ছে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যে যেসব মৌলিক উপাদান একটি আদালতের থাকা উচিত, তথাকথিত এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেগুলো প্রহসনে পরিণত হয়েছে। যোগ্য, নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং প্রভাবমুক্ত আদালত ন্যায়বিচারের প্রধান শর্ত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই আদালতে অযোগ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, আদালত সরকার ও বিশেষ রাজনৈতিক কুচক্রি মহলের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়েছে এবং সর্বোপরি আদালত তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।





ফাঁস হওয়া কথোপকথন থেকে এই ট্রাইব্যুনালের যেসব মৌলিক গলদ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে, সেগুলোর বিশ্লেষণ করা হলো-





১. বিচারক নিয়োগে অস্বচ্ছতা



স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করতে বিচারকদের হতে হয় স্বাধীন এবং সকল ধরনের প্রভাব ও পক্ষপাতমুক্ত। বিচারক নিয়োগের প্রধান ভিত্তি হবে তার যোগ্যতা, কোন রাজনৈতিক মতামত নয়। কিন্তু ট্রাইবুনালের বিচারক নিয়োগে দেখা গেছে যে রাজনৈতিক পরিচয়ই মূখ্য বিবেচ্য বিষয় ছিল।



কামরুল কোটায় ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক আওয়ামীপন্থী ‘সোনা জাহাঙ্গীর’!

ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম জহির আহমেদের পদত্যাগের পর নতুন বিচারক হিসেবে আসেন জাহাঙ্গীর হোসেন। এই বিচারককে ‘সোনা জাহাঙ্গীর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কনভারসেশনে। আরো জানা গেছে, নতুন এই বিচারক মেধাবী হলেও দুর্নীতগ্রস্ত। কারণ, তিনি আগে স্মাগলিং সংক্রান্ত আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুলের লবিংয়ে এই ট্রাইব্যুনালে তার আগমন। একইসঙ্গে তিনি কট্টর আওয়ামীপন্থী বলেও জানা যায় এই কনভারসেশনে। বিচারপতি নাসিম এখানে আহমেদ জিয়াকে আশ্বস্ত করেন যে, নতুন বিচারককে বলে দেয়া হয়েছে যে, তার কোনো কাজ নেই। তিনি কেবল নাসিমের কথায় উঠবেন বসবেন।

নিজামুল হক নাসিম : আমাদের চয়েসও না, আমার জানা মতে ল’ মিনিস্টারের চয়েসও না। কিন্তু তার নাম আইসা চিফ জাস্টিসের রিকোমেন্ডেশন হইয়া গেছে। সে হলো জজকোর্টে ল’ইয়ার ছিল। জজকোর্টের লেবেল থেকে মনে হয় হইছে। কামরুল-টামরুল করছে আর কি।



আহমদ জিয়াউদ্দিন : ও আচ্ছা তার মানে, এ ইয়ের কোটায় আসছে আর কি। নিজামুল হক নাসিম : কামরুল কোটায়। আমার ধারণা, হে কামরুল কোটায় আসছে।



আহমদ জিয়াউদ্দিন : রাজনীতির দিক থেকে কোন দিকের মানুষ সে? নিজামুল হক নাসিম : আওয়ামী-আওয়ামী।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : মারছে, বেশি আওয়ামী লীগ হইয়া গেলে...।

নিজামুল হক নাসিম : আমার মনে হয় সেই রিডিং করছে যে, বাবু হলো জেএসডি, আর ওই ঠাকুর হলো সিপিবি। আমরা আওয়ামী লীগ দিব।

........................................

আহমদ জিয়াউদ্দিন : এইটা তো... তার মানে একটা করাপ্ট মানুষকে দেওয়া হইছে? নিজামুল হক নাসিম : অন্ততপক্ষে হি ওয়াজ করাপ্ট—এটা বলা যাইবে।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : আরে এইটা কি এমন একটা জিনিস যে, কালকে ছিলেন করাপ্ট, আজকে ভদ্রলোক হয়া গেলেন?



নিজামুল হক নাসিম : না... না... না...। ওই জাহাঙ্গীরও আমার লগে ঠিক থাক।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : অ্যা...?

নিজামুল হক নাসিম : করাপ্ট মানুষ তো। বেশি ই... করবে না।



২. বিচারকের ওপর অন্যায় প্রভাব



বিচারককে হতে হয় যেকোন প্রকারের প্রভাব থেকে মুক্ত। বিচারককে যদি কোনো পদের লোভ দেখানো হয়, অথবা অন্য কেউ বলে দেয় যে কী রায় দেয়া হবে বা কীভাবে বিচার কাজ চালানো হবে, বা সরকার থেকে ক্ষমতাশীল ব্যক্তিবর্গ রায়ের জন্য চাপ প্রদান করেন, তাহলে প্রমাণিত হয় যে ন্যায্য বিচার করা হচ্ছে না।



ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ ওপিনিয়ন পেপারে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে............ ‘In discharge of his duty, a Judge is ordained only by his own sense of Justice, fairness and equity. He is not to be influenced by the Executive, Legislative or Public Opinion’s pressure.’



অর্থাৎ- দায়িত্ব পালনকালে একজন বিচারক কেবল তার নিজস্ব বিচারবোধ, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়পরায়ণতা দ্বারাই পরিচালিত হবেন। নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ অথবা জনমতের চাপ দ্বারা তিনি প্রভাবিত হবেন না।



পাশাপাশি, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক ‘মাসদার হোসেন’ মামলায় (1999 52 DLR (AD) 82) হাইকোর্ট বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১২টি স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এর অন্যতম হলো - বিচারকগণ তাদের বিচারকাজে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবেন, এই ক্ষেত্রে তারা সরকার বা তাদের কোন সহকর্মী বা সিনিয়র দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।





কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই আদালতের বিচারকরা নির্বাহী বিভাগ এবং আহমদ জিয়াউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে জিম্মি। আদালতের প্রতিটি পদক্ষেপ এখানে তৃতীয় শক্তির ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে।



এ প্রসঙ্গে কনভারসেশনে উঠে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।



তিনটা রায় দিতে পারলেই আপিল বিভাগে নাসিমের পদোন্নতি



বিচারপতি নাসিম মূলত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক ছিলেন। সেই অবস্থাতেই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। কথোপকথনে উঠে এসেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রভাবশালী বিচারক এসকে সিনহা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সাঈদী, গোলাম আযম আর সাকার মামলার রায় দিয়ে দিতে পারলে আপিল বিভাগে তার পদোন্নতি দেয়া হবে!



নিজামুল হক নাসিম : সিনহা বাবু কইছে, ডিসেম্বর এর মধ্যে তিনটা দেন। এইটা গোলাম আযম সাহেবের, আর সাকা। এই তিনডা দিয়া ফালাইতে পারলেই হইছে। তারপরে নিয়ে আসি আপনারে আমরা এইখানে। এরপরে ওহানে আপনারে আর লাগবে না। এই হইছে কথা আর কি। আমি কইছি, যা করেন করেন, প্রমোশনডা দিয়া লন আগে। হা… হা… হা…।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : হি… হি… হি…। It is very important. আপনি আবার কই যাবেন? আপনারে কি উপরের দিকে …

নিজামুল হক নাসিম : আরে লউ যে বলে, ওরা বলতাছে একটা জাজমেন্ট দাও আগে, তাইলে তোমারে নিয়া আসি।



ট্রাইব্যুনালের অর্ডার, জাজমেন্ট লিখেন আহমেদ জিয়াউদ্দিন!



আশ্চর্য্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় সবকিছু আহমেদ জিয়াউদ্দিন লিখে দেন। সাঈদীর রায় কেমন হবে সেটি নিয়ে যেমন তারা কথা বলেছেন, ঠিক তেমনি এর আগে বিচারপতি নাসিমের অপসারণের দাবিতে যে রিকিউজাল পিটিশনগুলো দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলোর অর্ডারও আহমেদ জিয়া লিখে দিয়েছেন বলে কনভারসেশনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও জিয়াদ-আল-মালুম ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সামনে যে বক্তব্য পেশ করেন, সেটাও এই আহমেদ জিয়ার লেখা! তার মানে এই ট্রাইব্যুনালকে অন্তরাল থেকে আসলে এই আহমেদ জিয়াই পরিচালনা করছে।



আহমদ জিয়াউদ্দিন : সাঈদীর জাজমেন্টের একটা রাফ স্কেচ তৈরি করা হইছে। স্ট্রাকচারটা কী হতে পারে হয়তোবা কাল আমি স্ট্রাকচারটা আপনাকে পাঠাব। জাস্ট টু দেখার জন্য। এটাকে আমরা রিয়েলি, এই স্ট্রাকাচরটা এমনভাবে করছি আমরা, তাতে খুব বেশি কষ্ট হবে না আপনার। আমাদের কিন্তু এমন করতে হবে, যেটা আমাদের দেশের কিছু টুকু থাকে। কিন্তু, এইটার স্ট্যান্ডার্ডটা, মানে অন্যরা যেন এইটা ফিল করে। আমাদের মেইন টার্গেট যদিও ডিসিশনের ক্ষেত্রে, মেইন টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু, এটার যে ক্রিটিক্যাল অ্যাঙ্গেলে যেটা দেখবে, সেটা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ওইভাবে দেখবে না। তো, এই জাজমেন্টটা কীভাবে ওয়ার্ডেড হচ্ছে, কীভাবে স্ট্রাকচার্ড হইছে, কীভাবে ফ্রেইম হইছে...।



কাজেই স্ট্রাকচারটা, যদি স্ট্রাকচার রাইট, তাহলে আমরা মনে করি যে, বাকিগুলাও পারা যাবে। যেমন এই যে আমি বলতেছিলাম, আমি ইটালিয়ান যে অরগানাইজেশনের মিট করলাম এবং কথা বললাম, তারা আসলে অ্যাপ্রিশিয়েট করছে আমাদের এই অর্ডারটা। মানে রিক্যুজালের অর্ডারটা। কিন্তু তারপরেও তাদের ফিলিংসটা হচ্ছে যে, এখানে জাজকে মনে হইছে একটু হার্শ আরকি। কিন্তু, এইটা যে একটা ওয়েলড্রাফটেড, ওয়েলরিটেন, ওয়েল একটা কিছু, এইটা তারা অ্যপ্রিশিয়েট করছে। তারা ইক্যুয়ালি অ্যাপ্রিশিয়েট করছে মালুম ভাইয়ের ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের জন্য আমাদের করা প্রেজেনটেশনটা। যে কারণে তারা মালুম ভাইরে আনতে চাচ্ছে। আমি বললাম যে, উনাকে না নিয়ে এসে অন্য কাউকে আনতে হবে। সো…, সেই আলোচনা এখনও চলতেছে। ওরা হইলো ওইটা দেখে আগে আর কি…। ওরা দেখে, যে টেক্সটা তৈরি হইছে, সেইটা ঠিক ওয়েদার ইট লুকস রাইট। ওইখানে আমাদের লুকস রাইটও দিতে হবে।



এখানে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট যে, রায়ের লুকিংটা আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যায়বিচার করা হচ্ছে কি না- সেটা মূখ্য নয়।





৩. বিচারকদের নিয়োগকালের নিশ্চয়তা



স্বাধীন বিচারের একটি অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে যে বিচারককে তার পদের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেতে হবে এবং কোনো অসদাচারণ বা অক্ষমতা ছাড়া অপসারণ করা যাবে না, যাতে তিনি ভয়-ভীতির উর্ধে উঠে স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারেন। কিন্তু ট্রাইবুনালে সরকারের নির্বাহী বিভাগের সন্তুষ্টির ওপরই নির্ভর করছে যেকোন বিচারকের ভাগ্য। পদত্যাগী বিচারক জহিরের প্রসঙ্গে থেকে আসল চিত্রটা ফুটে ওঠেছে।





অসুস্থতার কারণে নয়, জনাব জহির পদত্যাগ করেন আইনমন্ত্রীর চাপে!



বিচারক জহিরের পদত্যাগ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, তিনি অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তিনি আইনমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন।



নিজামুল হক নাসিম: সে (জহির) আইসা আমারে বলে, ‘আই এম নো মোর ইয়োর মেম্বার’। আমি কই মানে! কী বলছেন আপনে? উনি বললেন, আপনি কোর্টে উঠেন...। আপনার লগে দেখা করে যাব। তবে আমি কোর্টে উঠবো না, উঠতে পারতেছি না আমি। শ্যাষে আমি কোর্টে উঠলাম। কোর্ট সাইরা চারডার সময় দেখা করল। তখন আমাকে বলল যে, এ রকম (আ্ইনমন্ত্রী) ডাকাইল... ডাকাই নিয়া বলল যে, রিজাইন করেন। রিজাইন করলাম... রিজাইন দিয়ে আসলাম। আর আজকে স্বীকার পাইছেন উনি যে, পরশু দিন রাতরে উনারে মন্ত্রী ডাকাইছিলেন বাসায়।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : আইনমন্ত্রী?

নিজামুল হক নাসিম : এবং বাসায় নিয়া বলতেছে..., আপনারে আমরা ই তে নিব। ল’ কমিশনে নিব। আপনি রিজাইন দেন। আজকে ডাকাই নিয়ে একেবারে রেজিগনেশন রাইকখা দেছে এককেরে।



৪. বিচারকদের অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা



ন্যায় বিচারের স্বার্থে একজন বিচারক শুধু আইন অনুযায়ী নিজের বিবেচনা প্রয়োগ করে রায় দিবেন, অন্য কোন সহ-বিচারকের চাপে পড়ে নয়। কিন্তু ট্রাইবুনালে এই নীতির চরম লঙ্ঘন হচ্ছে।



ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারক নাসিমের হস্তক্ষেপ



নিজামুল হক নাসিম : সাকারে তো আমি থামাইয়াই দিছি। সাঈদীরে থামাচ্ছি না। কারণ, সাঈদী প্রায় শেষ। এইটা যদি উনাদেরকে বইল্লা... এইডা ওনাদেরকে (ট্রাইব্যুনাল-২) হায়ার লেভেল থেইকা বইল্লা, থামায়া দিতে হবে যে, আপনি কাদের মোল্লারে ঢিল দেন। ঢিল দিয়া বাকিগুলারে সামনে আগান। কেননা, ওই যে অ্যাবসেন্ট যে আছে, ওর নাম জানি কী...? ও বাচ্চু, হ্যারে দিয়া শুরু করেন। আরেকজনরে নিয়া আগান সামনে। এরপর আপনার, পর পর ৩-৪টা রায় দিয়া দেন, অসুবিধা নাই কোন। বাট আফটার গোলাম আযম। নট বিফোর দ্যাট।



৫. নতুন বিচারকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ



নুতন নিয়োগপ্রাপ্ত একজন বিচারক সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে তিনি যাতে নিজের বিচার-বিবেচনা অনুযায়ী কোন স্বাধীন সিদ্ধান্ত না নেন, নিয়োগের পর তাকে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়-



নিজামুল হক নাসিম : ভেজাল লাগবে না। কারণ তারে বলা হইছে... বলা হইছে যে, চেয়ারম্যান যা কইবে, তুমি খালি ইয়েস কবা। এমনে সে লেখাপড়া জানে। এইডা আমি বলমু, বুঝলেন।



৬. বিচারকদের অভ্যন্তরীণ দলাদলি



চেয়ারম্যান নিজামুল হকের আরেকটি মন্তব্য থেকে বিচারকদের অভ্যন্তরীন দলাদলীর চিত্র ফুটে ওঠে-



নিজামুল হক নাসিম : হুঁ, এইটা হলো আমাদের ট্র্যাডিশন। আর আজকের দুই জন তো আমারই লোক। রুহুল কুদ্দুস বাবু (যিনি খুনের মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন বিচারপতি হওয়ার দুই দিন আগে পর্যন্ত) আর ফরিদ আহমেদ।



৭. ট্রাইব্যুনাল-২ নিয়ন্ত্রণে আহমদ জিয়াউদ্দিনের পরামর্শ



আহমেদ জিয়াউদ্দিন ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যানকে বলছেন যাতে ২য় ট্রাইবুনালের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে সেখানকার জেরাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়-



আহমদ জিয়াউদ্দিন : কারণ আমরা সেদিন, ওই একটু যে কথা বললাম। পরে আমি জানতে চাইলাম আসলে কী অবস্থা, আর কি। সেকন্ড ট্রাইব্যুনালের এই পার্টিকুলার। এখন এটা তো দেখাচ্ছে যে, কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামান— ওরা যেভাবে চার্জটা ফ্রেম করেছে এবং তারা যেভাবে একটা ইয়ে করেছে, তাতে তারা খুবই দ্রুত কেসটা এগিয়ে মানে শেষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে আর কি। সেখানে প্রভাইডেড ওই জেরাটাকে যদি রেস্ট্রিক্ট করা যায় আর কি। সো, এটা আমাদের মনে হচ্ছে যেটা, সেটা হলো যে, যদি মানে, কোনো অবস্থাতেই গোলামটাকে যদি...। যেটা এর আগেও কথা হইছিল আমাদের, যদি গোলামটাকে (গোলাম আযম) যদি স্পিডআপ করা যায় আর কি। একটা হচ্ছে যে, ডেফিনেটলি ট্রাইব্যুনাল ওয়ানের হল জাজমেন্ট হতে হবে প্রথম।





৮. জাজমেন্ট আগে থেকেই রেডি!



আহমেদ জিয়া: এটা যদি একটা কম্প্রিহেনসিভ জাজমেন্ট, যেহেতু এখন একটা নতুন তারা চেঞ্জ করবে বইলা মনে হচ্ছে। জাজমেন্ট তো আপনাকে আগেই ডেলিভারি করার, মানে আগেই সমস্থ কিছু টাইপ-টাইপ কইরা সিল সাইন সব রেডি রাখতে হইবে। মানে কমপ্লিট জাজমেন্ট কইরা রাখতে হইবে। কাজেই এখন আপনার প্রস্তুতিটা কিন্তু বেশ কিছুটুকু আগে থেইক্যা শুরু করতে হইবে।





৯. ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থকরণ



২য় ট্রাইবুনালের স্বাধীনভাবে ও প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়ার বর্ণনাও আছে বিচারকের জবানীতে-



নিজামুল হক নাসিম: আর উনারা তো পাবলিকলি নাকি বলছেই যে, ওই ট্রাইব্যুনালে যে, এক নম্বর ট্রাইব্যুনালের কোনো-কোনোকিছুই আমাদের উপরে বাইন্ডিং না। এটাকি আপনি জানেন? নিজামুল হক নাসিম : জানি, আরও বলা হয়েছে— তাদের বলা হইছে, গু খড়ত্ফ, ুড়ঁ ধত্ব ধ ংরমহধঃড়ত্ু ঃড় ঃযধঃ. [?????] তখন চুপ হইয়া গেছে।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : ওয়েল, সেটাই আসছে মেসেজটা ওই ২নম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে। কাজেই মেসেজটা আসতেছে ২নং ট্রাইব্যুনাল থেকেই। বাট অ্যানিওয়ে এটা মাস্টলেস সিগনিফিকেন্ট। কিন্তু যেটা হচ্ছে যে, তারা চাচ্ছে যে এবং সেখানে যেহেতু ওবায়দুল হাসান সাহেব কিছুটুকু অ্যাকটিভ হচ্ছেন বইল্যা আমাদেরকে প্রসিকিউটররা জানাইলেন। যে, উনি একটু অ্যাকটিভ হইছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যখন লেখালেখির ব্যাপার-স্যাপারগুলা আসে, তখন শাহিনুর সাহেবের ওই ট্রাইব্যুনালে উনার ইনফ্লুয়েন্সটা অনেক বেশি আর কি। নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ, এটা তো বটেই। চেয়ারম্যানই তাকে ইনসিস্ট করে। সবকিছু তো সে-ই করে। আহমদ জিয়াউদ্দিন : এবং উনি যে কী ধরনের লোক, এটা আমরা টের পাইছি আর কি। এবং ওনার টার্গেটটা কি, সেটাও আমরা টের পাইছি আর কি। এবং উনি নিজেকে কীভাবে প্রেজেন্ট করে, সেটাও আমরা জানি। এবং উনি তো জাস্টিস সিনহাকে কিন্তু অ্যাপ্রোচ করছে জহির সাহেবের ব্যাপারে, করছিল। নিজামুল হক নাসিম : কী অ্যাপ্রোচ করছিল? আহমদ জিয়াউদ্দিন : জহির সাহেবকে যেন না সরানো হয়, সেই লবিটা (শাহিনুর সাহেব করছিল)।



১০ ট্রাইবুনালের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা



স্বাধীন ও ন্যায্য বিচারের অন্যতম শর্ত হচ্ছে যে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের চাপ ও প্রভাব থেকে আদালত মুক্ত থাকবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের উপর সরকার সব সময়ই প্রভাব বিস্তার করে আসছে। যেমন নির্দিষ্ট একটি তারিখের মধ্যে যাতে রায় দেয়া হয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচন্ড চাপ দেয়ার কথা স্বীকার করলেন বিচারক নিজামুল হক।



রায় দ্রুত ঘোষণার জন্য সরকারের চাপ!



কথোপকথনে বারবার উঠে এসেছে রায় দ্রুত দেয়ার জন্যে সরকারি চাপের প্রসঙ্গটিও। দেখা যাচ্ছে, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তড়িঘড়ি করে রায় দিতে চাপ দিচ্ছেন।



নিজামুল হক নাসিম : তারা গেছে পাগল হইয়া মোটমাট, আমি আপনারে বলতেছি। একটা জাজমেন্ট না পাইলে ১৬ই ডিসেম্বর… ১৬ই ডিসেম্বর কইরা ডাহাডাহি করতেছে। এটা কোনো অর্থ হয় না। তারা একটা জাজমেন্ট চাচ্ছে, সোজা হিসাব।

আহমদ জিয়াউদ্দিন : ১৬ই ডিসেম্বরের ভূত তো এর আগেরবারেও ছিল। নিজামুল হক নাসিম : সে ব্যাপারে সাঈদী আগাইয়া আছে, সাঈদীর রায়ডা হইয়া গেলে গভর্নমেন্ট ঠাণ্ডা হইত।





ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা সরকারের ইচ্ছে-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল



ট্রাইব্যুনাল যে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে চলে তা বুঝা যায় নিচের বক্তব্য থেকে যেখানে বিচারক ব্যাখ্যা করছেন যে কেন তিনি একটা নির্দিষ্ট আদেশ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন-



নিজামুল হক নাসিম : এ গভর্নমেন্টই তো তহন আমারে কইবে, তুমি টাইম দিতা। তুমি একদিন সময় তাগো দেতা, দিয়া রাখতা হেগো কোর্টে।



তড়িঘড়ি করে রায় দিতে প্রতিমন্ত্রীর তাগাদা



আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ট্রাইবুনালের বিচারকদেরকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। নিচের কথা থেকে জানা যায় যে প্রতিমন্ত্রী রায়ের ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছিলেন এবং মন্ত্রী যে উভয় ট্রাইবুনালের বিচারকদের একসাথে বসিয়ে করনীয় বলে দিবেন সেই ঘোষণাও দিয়েছিলন-



নিজামুল হক নাসিম : আমাদের তো স্টেট মিনিস্টার যাচ্ছে হজে.., স্টেট ... স্টেট। আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ...। নিজামুল হক নাসিম : আজকে আসছিল আমার লগে দেখা করতে সন্ধ্যায়। উনি বললেন যে, রায়টা তাড়াতাড়ি দেবেন। আমি কইলাম, কেমনে দিমু। রায় তো আর এক পৃষ্ঠার না...। আপনার ডিকটেট পাইলে পরে সময় পাইলে, এক মাস ধইরা রেডি করতাম। কয় কি যে, তাড়াতাড়ি চেষ্টা কইরেন। তা-ই কইল-টইল আর কি। কয় যে, আমি আইস্যা আপনাগো দুই ট্রাইব্যুনাল একত্রে স্যারের লগে এক রুমে বসাইয়া আলাপ করাব। গোলাম আযম আপনারা আগে দিবেন, তার পরে তারা দেবে-ওয়েট।
by Sajid Karim
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×