এ ধরনের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে আর বিচার চলতে পারে না : বিবিসিকে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক।
বিবিসি : আপনারা গতকাল ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ চে
য়েছিলেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন। এখন কি আপনারা সন্তুষ্ট?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সাহেব পদত্যাগ করে ভালো কাজই করেছেন। কারণ তিনি যত বেশি দিন থাকতেন, বিচার বিভাগের জন্য এবং তার জন্য বিষয়টি ততই খারাপ হতো; ফলে বিচারপ্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন বিচার প্রক্রিয়াটা শুরু থেকেই শুরু করতে হবে।
বিবিসি : অর্থাত্ আপনারা রিট্রায়াল (পুনর্বিচার) চাইছেন?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : অবশ্যই রিট্রায়াল চাইছি। কারণ হচ্ছে, এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। একজন বিচারপতি চলে গেলেন। উনি তো শেষ করে গিয়েছিলেন। এখন অন্য একজন এসে শেষ করবেন—বিষয়টা এরকম নয়। আমাদের হাইকোর্টে তো একটা নিয়ম আছে। একজন বিচারপতি যদি চলে যান, তাহলে বিচারটা শুরু থেকে আবার শুরু করতে হয়। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর ইতিহাসেও এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। বিচারপতি বাইরের একজন লোকের সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে শলা-পরামর্শ করেছেন। কতজন সাক্ষী আসবে, কোন সাক্ষী কী বলবে।
বিবিসি : আইনমন্ত্রী তো বলেছেন, একজন বিচারপতি পদ্ধতিগত প্রয়োজনে যে কারও সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। তিনি তো বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : মাননীয় আইনমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তিনি সঠিক বলেননি। অথবা উনি গত তিনদিনের আমার দেশ পত্রিকাটা পড়ার মতো সময় পাননি। আমার দেশ যে কত গভীরে গিয়েছে, কোন সাক্ষী কী বলবে, সাক্ষী যেটা বলবে সেটাকে কীভাবে কাটিয়ে দেয়া হবে, কোন সাক্ষীকে আবার ডাকতে হবে, কতজন সাক্ষী হবেন—এসব আলাপ-আলোচনা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রসিকিউটররা মিলে সাক্ষীকে শিখিয়ে দিয়েছেন, কোর্টে গিয়ে কী বলবে। একজন সম্পর্কে বলেছেন, ভালো, আমরা যা শিখিয়ে দিয়েছি উনি তা-ই বলেছেন। আরেকজন সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমি তার নাম বলব না, না ওনাকে তো আমরা কনট্রোল করতে পারব না। একজন সম্পর্কে বলেছেন, উনি অনেক কথা বলেছেন, সেগুলো বাদ দিতে হবে। কোন বিচারটা আগে হবে, কার রায় আগে হবে, কারটা পরে হবে। আইনে কি এটা আছে? এনটায়ার বিচারপ্রক্রিয়াকে একটা বিশেষ দিকে প্রবাহিত করার জন্য কিছু কোটারি স্বার্থের লোকের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। দুনিয়ার ইতিহাসে কোথাও এটা পাওয়া যাবে না।
বিবিসি : আপনারা রিট্রায়াল চাইছেন। এখানে রিট্রায়ালের তো বিধান নেই।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : সাঈদী সাহেবের মামলায় রায় দিতে হলে একজন নতুন বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। দুজন বিচারপতি রায় দিতে পারেন না। সংলাপে বিচারপতি বলেছেন সাঈদী সাহেবের চার্জটা কখন গঠন করা হবে, কখন বিচার হবে, গোলাম আযমের চার্জ কখন গঠন করা হবে, কখন বিচার হবে। সুতরাং শুরুতেই তো বিচারটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। মাননীয় আইনমন্ত্রী, নিরপেক্ষতার কথা বলেছেন, স্বচ্ছতার কথা বলেছেন। এ প্রক্রিয়ার কোনো স্বচ্ছতা নেই; সুতরাং স্বচ্ছতা চাইলে নতুন একজন বিচারপতি নিয়োগ করে নতুন করে বিচার শুরু করতে হবে।
বিবিসি : কথোপকথন ফাঁসের তদন্ত আপনি চান কি না?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : তদন্ত হতে পারে। ব্রিটেনের প্রিভি কাউন্সিলের রায় আছে যে, এ ধরনের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে আর বিচার চলতে পারে না। কেউ এটা অস্বীকার করেনি যে আমি কথা বলিনি। এমনকি বিচারপতি স্বীকার করেছেন, তিনি কথা বলেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



