গুলিস্তানে প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।। এরা সবাই সেখানে যায় নিজ নিজ কার্যাপলক্ষ্যে।।কিন্তু তাদের সেখানে যাবার পথ ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু গন্তব্য একই।। কাজ শেষ হলেই ভিন্ন ভিন্ন পথে ফিরে আসে নিজ নিজ আবাসে।।দেশের প্রতি ভালবাসাও তেমনি ভিন্ন পথ,ভিন্ন মতেও হতে পারে।।এর জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।।
বর্তমানে যা দেখছি ক্রিকেটকে নিয়ে তাতে বারবার মনে পরে যাচ্ছে,’৭১,’৯০ এবং শাহবাগের প্রথম দিককার দিনগুলির কথা।।(পরে অবশ্য সমাজের কিছু উঠতি মধ্যবিত্তরা যাওয়া শুরু করছিলো টিভিতে নিজেদের দেখাবার এবং সেই গনজমায়েতের মাঝে ছবি তুলে ড্রয়িং রুম সাজানোর জন্য)।।এই কথার সত্যতা অনেকেই বোধহয় অস্বীকার করতে পারবেন না।। যাক যা বলছিলাম,আবাল,বৃদ্ধ,তরুন,যুবক কেহই বাদ পড়ে নি এই উন্মাদনা থেকে।।ইস্যু মাত্র একটিই গত বিশ্বকাপে দেশের বিরুদ্ধে ভারতের বিতর্কিত জয়।। যা আজ আমাদের পরিনত করেছে একটি মাত্র জাতিতে।। দল-মত-পথের সবার কন্ঠ এক হয়ে গর্জে উঠছে বাংলাদেশ,বাংলাদেশ বলে।। দেখে একটিই মাত্র সুর মনে বাজছে,নাহ্,আমাদের মাঝে দেশপ্রেমের কোন ঘাটতি নেই।। আছে শুধু তা চয়ন করে একই সুত্রে গেথে মালা বানানোর।।
এখানে একটি ব্যাপারই আমাদের সামনে চলে এলো জাতিয় একাত্মতার চেয়ে দেশপ্রেম অনেক বড়।। কারন বলাই বাহুল্য যে,জাতি হিসাবে আমরা বিভিন্ন দলে,মতে বিভক্ত।।কিন্তু দেশপ্রেম এক এবং অভিন্ন।।কারন এটাই আমাদের শিক্ষা দেয়,শিশুদের কাছে তাদের মার পরিচিতি তেমনি জনসাধারনের কাছে তাদের মাতৃভূমির।।
বহুল চর্বিত “একাত্বতা”আজ আর আমাদের মনে কোন আবেদনই সৃষ্টি করে না,বিভিন্ন দল আর মতের কারনে আর এটা বাস্তবে রূপও পাবে না কোনদিন।। যে পর্যন্ত আমাদের “রাজনৈতিক দেব-দেবী”দের মাঝে এটা না আসবে।। কারন প্রত্যেক সন্তানের উপরই তাদের পিতা-মাতার পরোক্ষ একটা প্রভাব থেকেই যায়।। যা বিজ্ঞানসম্মতও বটে।।যা আমাদের কাম্য তা হলো আজকের মত যদি আমরা প্রতিটি ইস্যু,যা দেশের জন্য হিতকর এবং সর্বসাধারনের মৌলিক অধিকারগুলিকে রক্ষা করবে যা ম্যান্ডেটরি জাতির জন্য।।শুধু অল্প কিছু মুখরোচক রাজনৈতিক শ্লোগান বা বক্তব্যে আসবে না বা হবে না।।
একটা গরমপাত্রে ভিন্নমতের আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়,তাহলে আমরা সকলেই শিদ্ধ হবো বা কে কাকে মেরে বেড়োতে চাইবো সেই চেষ্টায় রত না হয়ে আমাদের যৌথ উদ্যোগ হতে হবে কিভাবে পাত্রের তাপ কমানো যেতে পারে বা আমরা এক এক করে তা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারি।। উল্লখ্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিবাদে জেল-জুলুম,প্রতিপক্ষের(সময়ে নিজদলেরও)হাতে খুন,আইন শৃংক্ষলা বাহিনীর কথাতো ভয়েই বললাম না,এই সমস্ত কি পরিস্থিতির কারনে না নির্দিষ্ট কোন লক্ষে করা হচ্ছে??আজ পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলির দিকে তাকালেই একথা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, সেই সব দেশে প্রতিটা লোকের মূল্যবোধের প্রতি বিস্বস্ত এবং দেশপ্রেমই তাদের আজকে শ্রেষ্ঠ বানিয়েছে।। এমনকি চরম বিপর্যয়,প্রায় ধ্বংশপ্রাপ্ত অবস্থা থেকেও।। জাপান,জার্মানী যার প্রকৃষ্ট উদাহরন।। সিংগাপুরের কথা একবার ভেবে দেখেন।। আছে আরো অনেক উদাহরন।।
এইসব দেশের শিশুরা জন্মের পরই শিখে যায় জাতিয় মূল্যবোধ আর প্রেম।।এরাই আবার যখন বড় হয় তখন বিভিন্ন ধ্যান-ধারনা বা দলে বিভক্ত হয়ে পরে।। কিন্তু ছোটবলার শিক্ষা তার মন থেকে মুছে যায় না কখনো।।সে যাই করুক না কেন,সব থাকে তার দেশ ও জনগনের স্বার্থে।।
আজ আমরা পরাশক্তি বা একমাত্র শক্তির দেশগুলির প্রধানদের কার্যাবলীকে যতই তাদের নীতির কারনে ঘৃনা করি না কেন,এসবই কিন্তু তারা করছে নিজেদের স্বার্থে নয়,করছে নিজেদের লোকদের,পরবর্তি জেনারেশনের স্বার্থে।।আর আমরা দেখছি নেতারা কিভাবে পরষ্পরের সাথে পরষ্পরকে লেলিয়ে দিচ্ছে ঘৃনা আর উক্তেজক বক্তব্যের মাঝে!!এখানে কথা হলো আমরাতো কেন এসব মেনে তাদের হাতের ক্রিয়নক হচ্ছি?? এই সমস্যার কথা জানা বা বোঝাসত্বেও কেন এই অহেতুক হানাহানি আর ঘৃনার বূত্ত থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছি না??
আমরা আমাদের সাথে যুদ্ধ চাইছি না,চাইছি না দেশের প্রতিটি যুবক,তরুন সমাজকে কৃতজ্ঞ বা অকৃতঘ্ন হিসাবে চিন্হিত করতে।।চাইছি শুধু সেই নেশাচ্ছন্ন মানুষটির শিরায় যারা এই বিভেদ,হিংসা আর দলীয় কোন্দলের মারাত্নক বিষটি ইনজেক্ট করছে,তাদের বিচার।।
আবার ফিরে আসি ক্রিকেটের কথায়।। এমনি করেই কি সব পায়ে দলে বষাক্তদের ছুড়ে ফেলে আবারকি আমরা আমাদের মাতৃভুমির জন্য এক হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি না??সবই সম্ভব।। কিন্তু কবে?? আমাকেও কি সুমনের মত বলতে হবে(একটু ঘুরিয়ে),আরো কতদিন গেলে,আমাদের স্বপ্ন বাস্তবের আলো দেখতে পারবে??
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৫ রাত ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




