গতকাল নেটে দেখি গিন্নী আর মেয়ের সাজুগুজু।। জনে চাইলে ১৬আনা হাসি দিয়ে বললো তোমাদের এলাকা এবং তোমার বন্ধুদের দেখে এলাম।। চমকিত হই।।কারন এদু’জনেরই জন্মগত রোগ,আমার বন্ধুদের এড়িয়ে চলা আর আমাকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না দেয়া।। সেখানে এমন বয়ান শুনে আমিতো চমকিত।। বাংলাদেশে কি চাঁদ উল্টোদিকে উঠা শুরু করলো না কন্যা-স্ত্রীর মানসিক ব্যাপারটা চিন্তায় ফেলে দিলো।। গিন্নী একগাল হেসে রো জানালো তোমার ছোটবেলার বন্ধু-তাদের স্ত্রীদের সাথে অনেক আলাপ করলাম।।কন্যা বরাবরের মই ছাড়া ছাড়া।। নূতন জেনারেশনের বেলায় যা হয় আর কি।। যে অভ্যাসটি আমারও ছিলো।। মেয়ে বাপের মেয়েই বলে কথা।।
গতকাল আমাদের কলোনীর এক বন্ধুর ছোটভাইয়ের উদ্যোগে কলোনীতে আদিবাসীদের মিলনমেলা তথা পূনর্মিলনী উৎসব হয়ে গেলো।। ছেলেটির নাম ঝোলন।। আঞ্চলিক সংগঠনের কিছু একটা।।ওর এই উদ্যোগটি কিন্তু প্রমান করে তার অতীতের টানের কথা।। আরেকবার প্রমানিত অতীত শুধু আমাকেই না প্রায় সবাইকেই টেনে ধরে।। আড়ালে রাখতে চায় তার ফেলে আসা দিনগুলিকে।।যে কারনে দেখলাম বলা যায় শুনলাম যারা সাধারন মানুষকে নিয়ে চলতে চেয়েছে,ভাবতে চেয়েছে শুধু তাদেরই উপস্থিতি।।যা ঝোলনের উদ্বোধনী ভাষনেও প্রকাশ।। প্রতিষ্ঠিতরা যায় নি কারন এরমাঝে যদি কেউ টিকেট বা চাকুরীর জন্য হাজির হয়!!কিন্ত এভাবে সামর্থ না থাকা সত্বেও নিজ পকেটের পয়সা খরচ করে,এভাবে এগিয়ে আসা!! সত্যিই আমি অবাক।। ছোট হলেও ঝোলনের এই উদ্যোগটি আমাকে নাড়া দিয়ে গেছে অনেকটাই।। সবদিক দিয়েই।। যা আমরা পারি নি,এক ছোটভাই তা করে দেখালো।।বিনোদনের কি ছিলো না সেখানে??গান,বক্তব্য সবই।। এমনকি শেষে বিরিয়ানীর প্যাকেটও।। জানার সাথে সাথেই এক বন্ধুকে ফোন করে জানলাম যেও উপস্থিত ছিলো,পুরো ব্যাপারটায়।।বললাম ঝোলনকে বল,প্রতিবৎসর এমন আয়োজন করতে,দরকার নেই কোন রাজনৈতিক ছত্রাবরনের।। শুধু থাকবো আমরাই।। আজ ও একা যা করে দেখিয়েছে,সিনিয়র হিসাবে আমাদেরও উচিৎ।। জবাবে জানলাম ও আসার সময়ই এমন একটা প্রস্তাব দিয়ে এসেছে।। এটাই বন্ধুত্বের রূপ।। না বলতেই বা একই লাইনে চলা চিন্তা।।
গিন্নীকে দেখলাম খুবই আনন্দিত।।কন্যা ছাড়া ছাড়া।। ওর কাছে আব্বুর বন্ধুরা কেমন যেন ভীনগ্রহের মত।। দোষ আমারই বেশী।। কারন দু/একজন ছাড়া অন্যদের তেমনটা ও জানেই না,আমার না জানানোর কারনে।। তবুও আমি বলবো ওর নিজের আগ্রহেই এটা জানা উচিৎ।। তারপর বিচার করা ওর আব্বু কেমন ছিলো,কাদের সাথে ছিলো তার চলাফেরা।। যদিও আমিই ওকে দুরে রেখেছি বরাবরই।। কোন পিতাই বা চায় তর সন্তানের কাছে নিজ অতীতকে মেলে ধরতে??আমি কিছুটা দিলেও পুরোটা দেই নি।।দেওয়ার নয় বলে।।কিন্তু বিষন্ন হয়ে উঠি যখন দেখি অবহেলা।।দু’পক্ষেরই যুক্তিসংগত কারন থাকে।। কিন্তু……..।।
ভেবেছলাম এটা নিয়ে মনের অনেক কথাই লিখতে পারবো কিন্তু বসে দেখলাম সম্ভবপর হচ্ছে না আর উচিৎও হবে না।। কারো কারো বঞ্চিতের হাহাকারের মতই লাগতে পারে,যেমন সুকান্তের কাছেও লেগেছিলো।।দীর্ঘশ্বাস শুধু এখানেই যে এমন একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলাম না।। যেমনটা পারি না প্রিয়জনদের বিভিন্ন আনন্দ-দুঃখে অংশ নিতে।।স্বভাবতঃই আমি বাদ।। ওরা হাসে-কাঁদে আমি দেখি আর শুনি।।যাদের নিয়ে খুনশুটি, ঝগড়া,বিবাদ আর খেলায় দিন কেটেছিলো কতদিন ধরে তাদের দেখি না।। এর মাঝে অনেকে হারিয়েও গেছে বিস্মৃতির অন্তরালে।।আর যারা আছে তাদের সাথেও যোগযোগ নেই তেমন।।
দোষটা নিজের উপর না নিয়ে সময়ের ঘাড়েই ছেড়ে দেই না কেন।।তাহলেতো নিজেকে এতো অপরাধী ভাবা হয় না।। আমিতো চেয়েছিলাম পরিবারের সবাইকে তথা বাইরেরও নিয়ে,থাকতে।। কিন্তূ কেন পারলাম না,এর জবাব খুজতে গেলে আমি হতাশ হয়ে বসে থাকি।। কাকে দুষবো??নিজকে,পরিবারকে না সমাজকে??
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



