আসলে গোলাপ আমাদের সবারই প্রিয়ফুল।। কিন্তু এটি চয়ন করতে গেলেও যে কাঁটার আঘাত সইতে হয়, তা আমরা জানি না বা বুঝতে চাই না।। সেই ছেলেবেলয় একুশের প্রথম প্রহরে গোলাপ বা গন্ধরাজের ফুল তুলতে যেয়ে তা টের পেলেও, বাস্তবে নয়।। কারন যৌবন উদ্যম।।
আমাদের লক্ষ্যই থাকতো সেনট্রাল গভর্মেন্ট গার্লস স্কুল।। বয়েজ সেকসনে কোন বাগান ছিলো না।। ছিলো মাঠ আর এক্সারসাইজের ব্যাপার।। কিন্তু গার্ল্স সেকশনে থাকতো ফুলের অফুরন্ত সম্ভার।। স্থানীয় হওয়াতে কয়েকজন যেতো দারোয়ানের সাথে গল্পের বাহানায়,, বাকীরা ফুল চুরির ভূমিকায়।। বেচারা সব বুঝেও কিছুই বুঝতো না।।
চলতো সেই ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে পহেলা বৈশাখ।। বিশেষ করে একুশেই।।
শ্রদ্ধার সাথে, নমনীয়তার সাথেই সেই চুরি করা ফুল অর্পন করতাম, শহীদদের জন্য।। ব্যাক্তিগত লাভ-লোকসানের খতিয়ান ছিলো না।। এই হিসেব-নিকেশেই প্রান দিয়েছে আমার অনেক পরিচিত।। নাম স্বভাবতঃই বিরুদ্ধপক্ষের!!
স্কুলে প্রথম না হলেও পজিসনে থাকতাম।। এস এস সি পরীক্ষার সময় ম্যাজিষ্ট্রের তল্লাশীর সময়ে বলতে পেরেছিলাম, আমরা আইডিয়ালের ছাত্র!! আজ সেই গর্ব আর নেই।।
প্রসঙ্গ থেকে দুরে চলে গিয়েছিলাম।। দুঃখিত।। সেই শ্রদ্ধা আজো যে নেই তা বলবো না।। কিন্তু দেশপ্রেম??
হয়তো প্রশ্নটা অনেক বড়ই হয়ে দেখা দেবে অনেকের কাছে।। আমারই বা তটুকু আছে??v কিন্তু একসময়ে এই সমাজব্যাবস্থা আর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আমিই করেছিলাম।। সাথে সাথীও ছিল অনেক।। আর আজ?? অনেকে ব্যাস্ত সংসার,ব্যাবসা,কেঊ বা নির্বিবাদী!!
ঘনিষ্ট বন্ধুও খুন হলে আমরা নির্বিকার!! কতজন যে এভাবেই গেলো!! আমরা কি তার পরিবারের খোজ নিচ্ছি?? না সে সময় আমাদের নেই।।
প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ে গেলো এক বন্ধুর কথা।। যে তার আদর্শে নিজ ভগ্নীপতিকে খুন করেছিলো।। আজ কিন্তু তার জবাব নেই, ভাগনা-ভাগ্নীদের কাছে।। শুধুই কাঁদা ছাড়া।।
এমনই আরো অনেক গল্প আছে, কিন্তু প্রকাশ করার ভাষা হারিয়ে গেছে।। কবে ফিরে পাবো সেই ভাষা?? যার জন্য শহীদ হতে হয়েছে /৫২তে।। প্রান দিতে হয়েছে ‘ ৭১য়ে, ৯০য়ে।।
দেখতে দেখতে বাল্য থেকে আজ মধ্যপ্রান্তে।। তারপরও??
শেষ বোধহয় এই জন্মে দেখা হবে না।।
আর কবে আমরা বড় হবো!!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


