somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা যখন কফিনে, শিক্ষার্থীরা তখন হিঁজড়া নাচে

১৪ ই জুন, ২০১৫ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমারতো মনে হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষার্থীরা হিঁজড়া হয়ে গেছে। আমার মুখ থেকে এমন কথা বলা যে খুবই ধৃষ্টতাপূর্ণ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু না বলে আর থাকতে পারলাম না। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্র-পত্রিকাসহ সমস্থ গণমাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এ বছর থেকে আর কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অথচ এ ব্যাপারে মতামত দিয়ে একজন ছাত্রকে দেখলাম না কিছু লিখতে। দুই-চারজনকে দেখলাম বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজটা শেয়ার করেছ আর কিছু লোক বলদের মত কিছু না বুঝেই সমানে লাইক দিয়ে যাচ্ছে।

আরে ভাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে- জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আর আপনাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই..?? মাথা থাকলেতো ব্যাথা করবে। মাথাতো আগেই খেয়ে ফেলেছে। ছেলে-মেয়েদের মাথা খেয়েছে ফেসবুক, সারারাত জেগে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে সারাদিন ঘুমানো, কিছু তথাকথিত এলিট শ্রেণির ছেলে-মেয়েদের সিগারেট-গাজা-ইয়াবা থেকে শুরু করে ভয়াবহ মাদকের নেশা। সেই সাথে যোগ হয়েছে ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোনের কল্যাণে উন্মত্ত পর্নগ্রাফীর নেশা আর ভারতীয় চ্যানেলের কল্যাণে অসীম পর্বের সিরিয়াল নাটক। বাহ! আর কি লাগে একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য। কি অসাধারণ প্লান? ছাত্রসমাজকে নেশার ঘোরে রেখে বেজন্মাগুলো গণতন্ত্রের নামে রাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্ব বিদ্যালয় যার চলমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ থেকে ২৫ লক্ষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে চলেছে শিক্ষক নামধারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু কমিশনভোগী দালাল চক্র। দিনের পর দিন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অবহেলার কারনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থরা হয়ে পড়েয়ে পিতামাতাহীন যারজ সন্তানের মত। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এরা লক্ষ লক্ষ সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে জুঁয়া খেলতেও দ্বিধাবোধ করে না।

আমাকে একজন বলুনতো, পৃথিবীর সমস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেয়া হয় সেখানে এটি কেমন যুক্তি যে পরীক্ষা নিলে নাকি সময় নষ্ট হয়। তাই পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি করা হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে যদি এ ব্যাপারে ভোট নেয়া হয় একটি ভোটও তাদের পক্ষে পড়বে না।

শুধুমাত্র জিপিএ দিয়ে যদি একজন শিক্ষর্থীর যোগ্যতা পরিমাপ করা হয় তাহলে এটি হবে উচ্চ শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকা। কেননা বাংলাদেশের মানুষ জানে জিপিএ পাঁচ শিক্ষর্থীরা কিভাবে পায়। তাছাড়া সুষ্ঠ কম্পিটিশন না হলে সেখানে দুর্নীতি হতে যেমন বাধ্য তেমনই অযোগ্যদের ভিড়ে যোগ্য শিক্ষার্থীরাও কোনো সুযোগ পাবে না। সত্য কথা বলতে এটি বোঝার জন্য বড় কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না। সবাই বোঝে।

যাহোক, জানি আমার এ লেখায় হয়তো ঐ ডাকাতদের নেয়া সিদ্ধান্ত পাল্টেও যাবে না বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যানরত ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিপ্লবি চেতনা ফিরে আসবে না। যা দিয়ে তারা সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে। তাছাড়া দলবাজ সন্ত্রাসের মদদপুষ্ট ছাত্রনেতারাতো আছেই। তবুও লিখলাম এবং আগেও লিখেছি শুধুমাত্র গণমাধ্যমের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে নিজের দ্বায়বদ্ধতা থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৫ রাত ২:৫৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×