somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি চিঠি..

০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলাহী ভরসা
মাদলা- 01/04/2018
প্রিয় বন্ধু রশিদ,
কেমন আছ? নিশ্চয় তোমার ঐশ্বরিক উপহার তোমার প্রিয় সন্তান, স্ত্রী- পরিবার পরিজন লইয়া সুস্থ ও সুখী আছ। আমি ও ভাল আছি। পরসমাচার এই যে, কত দিন হইল তোমার সহিত আমার পত্রালাপ হয় না, তা মনে পড়ে নে। যদি ও আমাদের মধ্যে প্রযুক্তির আশির্বাদে যোগাযোগ হয় তথাপি কথপোকথন (Chat) হয় না। কার্যত (Virtually) আমাদের মধ্যে মাথায় মথায় টোকর লাগিলেও নয়! জুকার বার্গ ভাই (সমবয়সী কিনা) যে প্লাটফরম সারা বিশ্বের মানুষদের জন্য তৈয়ার করিয়াছে- তাহাতে সামাজিক যোগাযোগ হয়ত রক্ষা হয়, প্রাকৃত প্রেম ভালবাসা রক্ষা পায় কি না-তাতে আমি সন্দিহান। তাই এই প্রেমাবেগ, বন্ধুত্বে ঠাসা অকৃত্রিম চিঠি খানি তোমাকে লিখিতেছি। জানি না তোমার পাড়িবার বা উত্তর দিবার সময় হইবে কি না । আমি জানি তোমার বড় বড় মানুষের বড় বড় অংকের হিসাব কষিতে কষিতে দিবা-রাত্র, সপ্তাহ জীবন থেকে বিলিন হইয়া যাইতেছে কিন্তু তোমার সঞ্চয়ের অংক বড় হয় নাই এ আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি।
কি আশ্চার্য্য ! আমি তোমার ক্যাশ বাকশে হাত দিয়া ফেলিলাম- একেবারে অধিকার চর্চা। দুঃখিত বন্ধু!
তোমাকে দুইটা হেতুতে এই সাদা কাগজের বুকে কাল কালির আচঁড় কাটিতেছি। পহেলা নং হেতু- এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পৃথিবীর মানুষ একবারেই চিঠি লেখা ভুলিয়া যাইতেছে- বাঙালী হিসেবে আমার তো অনেক আগে থেকেই “সাহেব ভদ্র” হইয়া উঠিবার চেষ্টা করিয়া আসিতেছি; তাহার সদুত্তর ইতিহাসেই সুন্দর করিয়া মুদ্রিত রহিয়াছে। সেই বাংলা ভাষায় চিঠি লিখিবার ‘চল’ কে ধরিয়া রাখিতেই তোমাকে লেখা ।
দ্বিতীয় নং হেতুটি হইল- না, তোমার কাছে টাকা পয়সা ধার চাহিব না, তোমার থেকে অনেক ধার লইয়াছি- সময় টা ছিল ২০০০ সাল, আমার এখনও দিবালোকের মত স্পস্ট মনে আছে, আমার যখন এস এস সি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা কম পরিয়াছিল বিদ্যালয়ের কসাই প্রশাসন যখন কিছুতেই ছাড় দিতে রাজি হইতেছিল না- তুমি তখন পাঁচ (৫০০/=) শত টাকার একটা কড়কড়ে নোট দিয়ে বলিয়া ছিলে-“এখন ফিলাপ কর পরে দিয়া দিস”। পরে তা তোমাকে দিয়াছি কিনা আমার মনে নেই ! শিক্ষকতা পেশায় ঢোকার পরও তোমার থেকে তিন হাজার (৩০০০/=) টাকা ধার লইয়াছিলাম। সেটা অবশ্য বছর দুই পরে পরিশোধ করেছিলাম।
বন্ধুত্বের সম্পর্কে বন্ধু, বন্ধুর কাছে কৃতজ্ঞ হয় কি না, হওয়া উচিৎ কিনা আমি বিচার করিতে পারিব না, তবে আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ! ঐ সকল ঋণে আমি তোমার কাছে অনেক ঋণী বন্ধু।
দ্বিতীয় হেতুরে কথা কিন্তু এখনও প্রকাশ করিই নি। আমার বড্ড খায়েশ হইয়াছে আমার কিছু কবিতা- অকবিতা জড়ো হইয়াছে-আমার ব্যাগে, কাগজে, ড্রয়ারে সেগুলোকে একটি গ্রন্থে গ্রন্থবদ্ধ করিতে চাহিতেছি। তোমার স্বরণাপন্ন হইলাম এই হেতুতেই। গত বছরে ২১ শে বই মেলায় তেমার একখানা উপন্যাস গ্রন্থ “প্রান্তিক” প্রকাশিত হইয়াছিল- সেই সুবাদে তুমি প্রকাশক ও প্রকাশনা বিষয়টির অ,আ জানো- এদিকে আমি তো এ ব্যাপারে প্রি-প্রাইমারীর শিশু। আমাকে পুস্তক প্রকাশের ব্যাপারে তোমার সাহায্য করিতে হইবে। এই ব্যাপারে সবিস্তার জানাইলে বাধিত হইব।
অনেক কথা বকি থাকিয়া গেল অন্য একদিন আরেক চিঠিতে সময় করিয়া বলিব। ভাবিকে আমার প্রার্থনা পৌছাইয়া দিও, তোমার বাচ্চটিকে আমার আদর দিও।

আজ আর নয় -
দেখা হবে ফেসবুকে, কথা হবে চ্যাটে (Chat)।


ইতি

তোমার
কৈশরের পাগলাটে বন্ধু
রফিক









সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ৭:১৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নানান রকম মানুষ, নানান রকম তাদের ভাবনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৫



১। উপরে আল্লাহ্‌ একজন আছেন। আর তিনি সবকিছু দেখছেন এবং শুনছেন। একদিন সব কিছুর উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন কর্মফল অনুযায়ী।

২। ফেব্রুয়ারির বই মেলায় ৪০০০/৫০০০ বই বেরুবে। নিজের এক দুইটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সস্তা ভালোবাসা আর বিকৃত মানসিকতা - ১ [প্রেম ভালোবাসার নামে নির্লজ্জতা]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫২



প্রেম, ভালোবাসা নামের এখনকার সম্পর্কগুলো আজকাল খুবই সস্তা, যেন হুটহাট করেই হয়ে যায়। যত্রতত্র প্রথম দেখা, মোবাইলে অপরিচিত কারও হঠাৎ মিস কল, ফেসবুকে কিংবা ম্যাসেঞ্জারে অপরিচিত মেসেজ, এইসব দেখেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী মানুষ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৩



সকাল নয়টা।
বাসা থেকে বের হয়েছে শাহেদ জামাল। সে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার ইচ্ছা সে আজ যাবে ইজতেমাতে। অনেক ছবি তুলবে। কিন্তু অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পরেও সে কোনো বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

» শীত ঋতুর ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

১। শিশির ভেজা শিম ফুল।



প্রতিবছর শীত সিজনে গ্রামে যাওয়া পড়ে। এবার যেতে পারিনি । কারণ বড় ছেলের পরীক্ষা। শীত সিজন এবার মিস করলাম গ্রামের। সকালে ঘর থেকে বের হয়েই সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট সমস্যার বদনাম কিভাবে ঘুচবে, সমাধান কিভাবে হবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৪



ঢাকার মেয়র ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হবে; তখন শুরু হবে ভোট নিয়ে সমস্যার কথা: ভোট আগেই বাক্সে ঢুকানো হয়েছে, অন্যেরা সীল মেরেছে, ভোট দিতে দেয়নি, রিপ্রেজেন্টটেটিভদের বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×