somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই মরিচিকা।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি অলিখিত জীবনী ॥ অপ্রীয় হলেও সত্য। এটাই সত্যি বাস্তব জীবন ।
অধিকাংশ মানুষই ইউরোপ আমেরিকার কথা বলতেই পাগল।এর অনেক কারন ও রয়েছে।উন্নত জীবন যাপন তার মধ্য অন্যতম।আমরা অনেকেই তা জানি। কিন্তু এই জীবনযাপনের পেছনেও অনেক না পাওয়ার আর্তনাদ কাজ করছে। এমনই একটি লেখা আপনাদের সামনে এনেছি। এক আন্টির কিছু কথা তার মত করেই বলছি। পড়ুন এবং বিচার করুন আমরা কি খুব একটা খারাপ আছি?

অনেকের ধারনা আমরা যারা বিদেশে থাকি বিশেষ করে western country গুলোতে তাদের জীবন সোনা দিয়ে মোড়ানো, দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা বেদনার কোনো ষ্পর্শই আমাদের জীবনে নেই বা থাকতে নেই. কিন্তু সত্যি কি তাই?
যারা এখানে থাকেন, আছেন শুধু তারাই হয়তো জানেন একথার সত্যতা কতটুকু! পেছন
ফিরে তাকালে আজো অশ্রুশিক্ত হয় নয়ন- মানস পটে ভেসে উঠে কতনা স্মূতি-জীবন সংগ্রামের করুন গাথা! আমার husband এখানে আসেন ছাত্র হীসাবে,তার মামা টিকেট
কেটে নামে মাত্র হাত খরচের কিছু টাকা দিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দেন! বাবা মার কোনো সামর্থ
ছিলো না তার পরাশুনা বা অন্য কোনো খরচ চালানোর- তারপরের দীর্ঘ কাহিনী বলতে গেলে একটা ছোটো খাটো উপন্যাসই হয়ে যাবে হয়তো. কিন্তু তার ভিতর
আর ঢুকতে চাই না শুধু এই টুকুই - চার বছরের কোর্স সাত বছরে শেষ করতে তাকে এমন কোনো কাজ নাই যা করতে হয় নাই-বাগানের মালী শুরু করে হোটেলের busboy , আরো অনেক কিছু!! সারাদিন কাজ করে এসে রাত জেগে পরাশুনা আবার
সকালে ক্লাস, সেখান থেকে আবার কাজ. এই ছিলো তার জীবন. টাকার অভাবে অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়েছে, পর্যাপ্ত টাকার জোগার হয়নি বলে পরিক্ষার ফিস
দিতে পারে নাই অনেক সময়, অপেক্ষা করতে হয়েছে পরবর্তি সেমিসটারের
জন্য.এভাবেই সে অর্জন করে তার engineering degree! যার বদৌলতেই হয়তো আমার বাবা, মা তাকে যোগ্য পাত্র বিবেচনায় আমাকে তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন.
শুরু হয় যুগল জীবন কিন্তু তখন পর্যন্ত সচ্ছলতার নাম মাত্র জীবনে ছিলো না- নাম মাত্র
বেতনের নুতন চাকরী, এর মধ্যে কোলে এলো পর পর দুটো সন্তান, কি যে কষ্টের ছিলো সেই দিনগুলো- কেউ ছিলো না একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার. বাঙ্গালী পরিবারের সংখ্যাও ছিলো তখন হাতে গোনা, থাকতো দুরে দুরে! এর মধ্যে আমার Husband decision নিলো Master degree না থাকলে ভালো চাকরী পাওয়া সম্ভব না,সুতরাং শুরু হলো আবার পরাশুনা- এবার সেটা আরো কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ালো- সংসার, ছেলেমেয়ে, part time চাকরী সাথে পরাশুনাও! অর্থাভাবও চরমে পৌছালো এক পর্যায়ে-বাচ্চাদের নিয়ে তো আমি বাইরে কাজ করতে পারছিলাম না, তখন শুরু করলাম
Baby sitting-নিজের দুইটা সাথে আরো তিনটা- সে এক সময় কেটেছে বৈ কি.পরবর্তিতে বাইরেও কাজ করতে হয়েছিলো- সেটা আরো পরের কথা. যাই হোক- সব দিনই কাটে, এদিনও শেষ হয়েছিলো-অর্জিত হয়েছিলো Master degree, চাকরীও হয়েছিলো নামকরা Company তে অবশেষে আমরা ছোট্ট Apartment ছেড়ে শহরতলীতে বাড়ী কিনে move করেছিলাম! সেখানেই জন্মেছিলো আমার তৃতীয় সন্তান.
তারপর থেকে সময় মোটামুটি ভালই হয়তো কেটেছে বলতে গেলে, at least financially ! সমস্যা ছিলো না তা নয় তবে সেটা ভিন্ন issue! চাওয়া পাওয়ার হিসাব
মিলাতে গেলে অবশ্যই পাওয়ার অংশও কম কিছু নয়. শুধু বসে বসে আরাম আয়েষ করে সময় কাটানো এখানে কম মানুষেরি ভাগ্যে জুটে- শরীরে শক্তি থাকা পর্যন্ত কাজই করে যেতে হয়।।

এটাতো প্রবাসীদের জীবনগাথা, ঐদেঅইগুলোর যে স্থানীয় লোকজন আছে তাদের ও জীবন আর বঞ্ছনাময়। বিশেষ করে পারিবারিক জীবনে। সবাই কেমন একটা একাকিত্তে ভোগে।এত উন্নত জীবন তবু যেন কি নেই!!!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×