somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: কিয়দংশ

২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রান চক্রবর্তী ত্রিচক্রযান হইতে নামিয়াই দেখিলেন চন্ডিমন্ডপের বারান্দায় এক দঙ্গল মানুষের জটলা। ভাবিলেন আজ হরিবাসরের জন্যই হয়তোবা জটলা জমিয়াছে। কাছাকাছি আসিতেই দেখিলেন শুধু জটলা নয়, রীতিমতো শোরগোল শোনা যাইতেছে। কাহাকে যেন এক হাত ভাজিয়া নেবার আয়োজন চলিতেছে। জটলা ঠেলিয়া একেবার মধ্যিখানে গিয়া উপস্থিত হইলেন তিনি। সকলেই তাহাকে ঘিরিয়া ধরিলো। তিনি কিছু বলিবার পূর্বেই গ্রামের পুরোহিত পার্টির সম্পাদক বলরাম চক্রবর্তী বলিতে লাগিলো, এ গ্রামে তো আর থাকা যাইবে না পরান, ঘোর কলিকালের নরক হইয়া উঠিয়াছে ক্রমশই। তুমি যেহেতু পুরোহিত পার্টির সভাপতি সেহেতু তোমাকেই এই পামরের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান করিতে হইবে?

শান্তির কথা শুনিলেই পরানের বুকটা ঢিব ঢিব করিয়া উঠে। সে খানিকটা পড়ালেখা জানা মানুষ। ইহাদের বর্বর শাস্তি ঠিক মানিয়া লইতে পারে না সে কিন্তু কিছু তো একটা করিতে হইবে। অতঃপর পরান হাত উঁচু করিয়া সকলকে থামাইয়া কহিলেন ব্যাপারখানা কি হইয়াছে? আগে আদ্যোপান্ত শুনি, তাহার পর না হয় বিধান একটা করিব। মাঝি অপরামাল যাহা বলিলো তাহা এইরুপ, দাস পাড়ার ‘কালি’ ওবেলা শেখ সাহেবের বাড়ি হইতে নেমনতন্নের ভান করিয়া পেট পুড়িয়া আহার করিয়া আসিয়াছে। শুধু তো মুসলমানের হাতের রান্না নয়, একেবারে গোমাংস ভক্ষণ করিয়া আসিয়াছে। কথা শেষ হইবার আগেই দাস পাড়ার একাংশ বলিয়া উঠিলো, কালি ভুল করিয়া না বুঝিয়া, না জানিয়া এই কার্য করিয়াছে। ইহাতে উহার কোন অপরাধ নাই, তাছাড়া গঙ্গায় স্নান সারিয়া গড়পারে প্রণাম সে করিয়াছে, প্রায়শ্চিত করিবে।

হট্টগোল বাড়িয়া গেলো, ঠাকুরপাড়ার সকলেই সমস্বরে বলিতে লাগিলো, এ ঘোর অন্যায়, মুসলমানের বাড়িতে আহারাদি করাটাই তো অন্যায়, কালির জাত চলিয়া গিয়াছে। কালির আর এ পাড়ায় থাকা যাইবে না। যদি নিতান্তই হিন্দু হইয়া থাকিতে চায় তাহা হইলে অন্য পাড়ায় গিয়া সে থাকুক গে, কিন্তু এ পাড়ায় এই অনাচারির স্থান মিলিবে না।

এদের বক্তব্য শুনিয়া পরান কি বলিবে ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পারিল না। কিন্তু কিছু একটা তো বলিতে হইবে। পরান এ গ্রামের প্রথম বি.এ পাশ শিক্ষার্থী এবং গ্রামের ইশকুলের প্রধান শিক্ষক হবার সুবাদে তাহার সিদ্ধান্তের উপর সকলেরই একটা আস্থা রহিয়াছে। তবে কালিকে গ্রামে রাখিলে তাহাকে যে চক্রবর্তীরা এই গ্রাম ছাড়া করিবে এটা সুর্যের ন্যায় সত্যি। কিছুক্ষণ নির্লিপ্ত থাকিয়া পরান কহিলো, কালি যা করিয়াছে সেটা অন্যায় এবং অনাচার এই অপকর্মের জন্য ঈশ্বর কালিকে ছাড়িয়া গিয়াছে। অতএব কালিকে এই গ্রাম ছাড়িতে হইবে কিন্তু তাহার পূর্বে কালিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের একখানা সুযোগ দেওয়া হইল। তাহার যদি কিছু বলিবার থাকে সে বলিতে পারে।

কালি এতক্ষণ মাথা নিচু করিয়া নিশ্চুপ বসিয়াছিলো। সকলে যখন তাহাকে কিছু বলিবার জন্য ডাকিতে লাগিলো তখন উঠিয়া দাঁড়াইয়া কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলিল, পাড়া শুদ্ধ লোক এত যে অপকর্ম করিয়া বেড়াইতেছে তাহাতে যখন ঈশ্বর মাথার উপর হইতে চলিয়া যায় নাই।তাহা হইলে এই কালির মাথার উপর হইতেও যাইবে না আর গোভক্ষণ করিবার অপরাধে ঈশ্বর যদি চলিয়া যায়, চলিয়া যাক! অমন ঈশ্বরের আমার দরকার নাই। ঈশ্বর না থাকিলেও কালির জীবন চলিবে।
কথা শেষ হইতেই সকলেই রা-রা করিয়া উঠিল।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:৫৭
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এমন রাজনীতি কে কবে দেখেছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২০


জেনজিরা আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামল দেখেছে। মোটামুটি বীতশ্রদ্ধ তারা। হওয়াটাও স্বাভাবিক। এক দল আর কত? টানা ১৬ বছর এক জিনিস দেখতে কার ভালো লাগে? ভালো জিনিসও একসময় বিরক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধের কবিতাঃ আমি বীরাঙ্গনা বলছি

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:১৫


এখনো রক্তের দাগ লেগে আছে আমার অত্যাচারিত সারা শরীরে।
এখনো চামড়া পোড়া কটু গন্ধের ক্ষতে মাছিরা বসে মাঝে মাঝে।

এখনো চামড়ার বেল্টের বিভৎস কারুকাজ খচিত দাগ
আমার তীব্র কষ্টের দিনগুলোর কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাসীর মৃত্যু ও গ্রাম্য মানুষের বুদ্ধি!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৩০



একজন গ্রামের মানুষের মাথায় ১০০ জন সায়েন্টিস্ট, ৫০ জন ফিলোসফার, ১০ জন রাজনীতিবিদ এবং ৫ জন ব্লগারের সমপরিমাণ জ্ঞানবুদ্ধি থাকে, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এসব লোকজন বাংলাদেশের এক একটি সম্পদ।

বিস্তারিত:... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন নারী শিক্ষিকা কীভাবে কন্যা শিশুর সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করতে পারেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:২৩


বাংলাদেশে মাঝে মাঝে এমন সব মানুষ রূপী শয়তানের সন্ধান মেলে যাদের দেখে আসল শয়তানেরও নিজের উপর হতাশ হওয়ার কথা। এমন সব প্রজাতির মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করেন যাদের মস্তিষ্ক খুলে দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মানুষ মানুষকে কীভাবে এত অপদস্ত করে এই ব্লগে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৪

আমি তো কারও সাতেও নাই পাঁচেও নাই। এত সময়ও নাই মানুষকে ঘাঁটার। ব্লগের ব্লগারদের সম্পর্কেও তেমন কিছু জানি না। তবে পোস্ট পড়ে কিছুটা আন্দাজ করা যায় -কে কী রকম। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×