somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথামৃত

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রোদহীন রুদ্র,
জানি না এখন তুই কোথায় আছিস, কেমন আছিস।
আমার জানার যদিও বন্ধ নয় তবুও যে মানুষটি লুকিয়ে থাকতে চায়, তাকে খুঁজে বের করা একটু কঠিনই বটে। তাছাড়া তুই মেয়ে হলে বুঝতি মেয়েরা সব পারে না। মেয়েদের মন সবসময় মন থাকে না। মন পবনের শেকল হয়। আবার কখনও মন টনকে টন পাথরও হয়। তুই বলেছিলি “সব স’য়ে যাওয়ার অপর নাম নারীচরিত্র”। তোর এই কথা আমি বাদামের খোসার মতো সেদিন উড়িয়ে দিয়েছিলাম সত্যি তবে জীবনের ঝাঁজ মেশানো পথে চলতে গিয়ে তা একটু—একটু বুঝতে পারছি কথাগুলো হাতের উল্টো পিঠের মতো সত্যি।

তোর হেয়ালী করা বলা অনেক কথাই আমাকে আজকাল সত্যি আর মিথ্যের জলভরা গ্লাসে রোজ একবার ডুবায় আর ভাসায়। মাঝে মাঝে তোর কথারা সব রঙঘুড়ি হয়ে উড়ে—উড়ে দূরকে আরও দূরের সাথে বেঁধে দিয়ে যায়। আমি যা এড়িয়ে যেতে চাই তা আবার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমাকে প্রশ্ন করে তোলে ফেলে আসা রঙহীন কথারা। তুই কথার যাদুকর ছিলি, একদিন তাই হাসতে—হাসতে বলেছিলি, “নিজেকে উৎসর্গ করার মাঝে একটা আনন্দ হয়তো আছে কিন্তু তা’তে জীবনের রঙ থাকে না”। তোর সে রঙযাদু এখনো মন্ত্রের চেয়ে মুগ্ধ করে যায়। আমার চারপাশে আজকাল এতো এতো আনন্দ অথচ কেন জানি সবকিছু রঙহীন মনে হয়। যে মানুষটা সারাজীবন শুধু মানুষকে রাঙ্গিয়ে দেবার স্বপ্ন দেখতো, সে আজ নিজেই রঙহীন হয়ে পথে—প্রান্তরে পড়ে থাকে। কতখানি কষ্ট বুকে জমলে তবে ঘরমুখো মানুষ ঘরহীন হয় তা তোকে না দেখলে বুঝা যাবে না।

রুদ্র, তোর মনে আছে কি?
দু’হাজার আটের এক শুক্লা একাদশীর রাতে তোর সাথে আমার প্রথম কথা হয়েছিলো। সেলফোনের গণ্ডি তখন সবে শহর ছেড়ে মফস্বল হয়ে প্রত্যান্ত গ্রামের দিকে যাত্রা শুরু করেছে মাত্র। তুই সেদিন আমায় গান শুনিয়ে ছিলি। প্রথম পরিচয়ে কেউ যে অমন বিচ্ছিরি গলায় গান গেয়ে কাউকে যন্ত্রণামুগ্ধ করতে পারে সেটা তোর গান না শুনলে কেউ বুঝতেই পারবে না। এরপর প্রায় দুই—হাজার উনষাট দিন কেটে গেছে আমি বহুবার তোর গান শুনেছি কিন্তু প্রথমবারের মতো যন্ত্রণামুগ্ধ হইনি। আজকাল পথ চলতে গেলে যখন কোন লম্বা চুলঅলা পাগল চোখে পড়ে তখনই থমকে যাই। একটু সময়ের জন্য শরীর জুড়ে কাঁপুনি এসে যায়। খুব কৌতূহল নিয়ে পাগলের মুখায়বে তাকিয়ে থাকি। মিনিট—মুহূর্ত কেটে গেলে বুঝতে পারি এটা তুই না। তখন পাথরযন্ত্রণা বুকে নিয়ে পথ চলতে থাকি। তোকে দেখার তৃষ্ণা হয়তো আছে, কিন্তু আমি অমন উন্মাদের বেশে যদি দেখতে পাই তাহলে তাহলে ঠিক থাকতে পারবো না। জানিস্—আমার খুব কান্না পায় এই ভেবে, না জানি একদিন সত্যি—সত্যিই তুই পাগলের বেশে আমার সমুখে দাঁড়িয়ে যাস। কে’জানে একদিন হয়তো তোর কথাই সত্যি হবে; তুই সমস্ত অভিমান নিয়ে আমাদের দংশন করার জন্য উন্মাদ হয়ে রাস্তায় বসে যাবি।

দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে মনভার করা আকাশ চোখে নিয়ে তুই বলেছিলি, “তুই আর আমি হলাম একটি মুদ্রার এপিঠ—ওপিঠ”। যখন মুদ্রার এপাশে আলোর ঝলকানি পড়ে, তখন অপর পাশে অন্ধকার স্বপ্ন আঁকে। আমরা বন্ধুরা সব আলোর সমুদ্র বুকের মধ্যিখানে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও তুই পরিশেষে অন্ধকারটাকেই বন্ধু করে নিয়ে নিলি। কিন্তু কেন? কিসের অভিমানে?
রুদ্র, অভিমানের বনাঞ্চল হাতের তালুতে ডুবিয়ে দিয়ে এবার নিজের ভূবণে ফিরে আয়। আমি কিংবা আমরা ভালো আছি —বেঁচে আছি সেটাই সুখের উঠোন নয়। তোর অস্তিত্বও কখনো—কখনো আমাদের অম্লজান হয়ে উঠে যা তুই কোনদিন বুঝতে চাস নি। আমাদের অনুভূতির কোন মূল্য হয়তো এখন আর তোর কাছে নেই তবুও ফিরে আয়। জানি না এই পত্রপাঠে তোর কোন ভাবান্তর হবে কিনা। তবুও ভেবে দেখিস। কথাবেলা—খেলা—হেলা আর ফেলার জীবনে যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস।



...............................
কথাইতি-
নাহার___________
নাটোর, মসজিদ রোড।
৪ মার্চ-২০১৬ খ্রি:
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:০৭
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় কবি নজরুলের চিরন্তন আহ্বান

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০৪

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একই সঙ্গে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে শুধু “বিদ্রোহী কবি” বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না;... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×