somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিদিন আমি ধর্ষণ করে যাই এই জনপদ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিন আমি ধর্ষণ করে যাই এই জনপদ।

এখানে আমি ঠিক খাপ খাই না।এটা ঠিক আমার জায়গা নয়।চারদিকে স্মার্ট মানুষের ভিড়ে আমি অদম লজ্জায়,উৎকণ্ঠায় ম্রিয়মান থাকি।কখন কোন দিক থেকে কার অবজ্ঞা ভরা গালি ভেসে আসে কে জানে?আতঙ্কিত হতে হতে সংকোচিত হয়ে যাই।সবার চোখে মুখে মাল্টিস্টোরেড দূরদেশী স্বপ্ন ,দূরদেশী বিলাসিতা,দূরদেশী হালচাল,দূরদেশী সুবাস। আমার শরীরে জোঁকের মত লেগে আছে মাটির গন্ধ,ক্ষেতের গন্ধ।আমার কথায় গন্ধ, আমার আচরণে গন্ধ।
মুখের উপর ওরা বলে দেয় ক্ষেত।এমন ক্ষেত হইলে চলে।আমি কোঁকড়ে যেতে থাকি মাঘের তীব্র শীতে কম্পমান দিগম্বর পাগলের মত।একটা অচল পয়সার থেকেও অচল হয়ে গেছি।আমি তখন হিংস্র হয়ে উঠি।বাল্যশিক্ষা বইয়ের উপর তীব্র আঁচর বসাই ।আমার নষ্টের মূলে এই বই।এই বইয়ের শিক্ষা পেয়েছি বলে আমি আজ ক্ষেত।মাঝে মাঝে স্মার্ট হতে গিয়ে শরীরের বসন খুলে স্বল্পবসন হই।কিন্ত্ত আমাকে কেউ স্মার্ট বলে না ।বলে পাগল।কিন্ত্ত ওরা যখন স্বল্পবসন হয় তখন ওরা কি দারুণ স্মার্ট হয়।হিংসায় আমার পিত্ত জ্বলতে থাকে।ওরা বলে যুগের চাহিদা মিটাতে হয় নতুবা স্মার্ট হওয়া যাযনা।যুগের চাহিদা মিটিয়ে ওরা সকল তল্লাটে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যাচ্ছে আর তাদের লাঠিয়াল বাহিনী আমার মত অচলদেরকে মেরে পিটে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে।নিজেকে বদরাবার কত চেষ্টা করি কিন্ত্ত পারিনা।কোকিল হতে গিয়ে বারবার কাক হয়ে যাই।এ যেন পরম নিয়তি।চোখের সামনে দিয়ে কতজনের রঙের পরিবর্তন হয়ে গেল কাকের কণ্ঠে কোকিলের সুর উঠল কিন্ত্ত আমার কিছুই হলোনা।বাবা ছেলেবেলায় একটা গান গাইতেন উদাস দাওয়ায় বসে।সেই কদমতলার গান।'কদমতলায় দেখা দিও বন্ধু কেউ যেন না জানে'বাবার উদাস ভঙ্গি আজও আছে।কিন্ত্ত মুখে আজ আর কোন গান নেই।বাবার বুঝি কদমতলায় বন্ধুর সাথে আর দেখা হলো না। চাতক পাখির মত আমার দিকে তাকিয়ে আছেন আমার জননী।তার জন্য একদিন একরাশ ভরসা কিনে নিয়ে যাব বলে।সে দৃষ্টি এখন অসহ্য ঠেকে।মনে হয় এক শকুন চোখে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।তাদের জঠর জ্বালার উপায় আমাকে করতেই হবে।নতুবা ছিঁড়ে ফুড়ে খাবে আমার হাড় মাংস কলিজা।বাবার আমি ব্যর্থ হই।একটা চাকরি যোগাতে পারিনা কোন মতে।পরীক্ষার তিনধাপ পেরিয়ে কতবার গেলাম ভাইবা দিতে।প্রতিধাপে একহাজার করে হলে কমপক্ষে তিনহাজার।একশটা পরীক্ষাতে কম করে হলেও তিন লক্ষ খুইয়েছি।
সে যে কত বড় কষ্ট সে জানে আমার পায়ের জুতোজোড়া।এখন আচমকা কেউ সালাম দিলে তাকে চিনতে কষ্ট হয়।একদা সে আমার ছাত্র ছিল কিনা বহু চেষ্টা করেও মনে করতে পারিনা।দুঃখের কথা কাউকে বলতে পারিনা।ওরা বলে চাকির হবে টাকা দিয়েছ?লোক ধরেছ?ছাত্র জীবনে কোন্ পার্টি করেছ?
আমার ছেলে বেলা কেটেছে রাখালের বেশে।হাতের তালুতে লাঙ্গলের কটির দাগ শতচেষ্টা করেও মুছতে পারছিনা।ছাত্র জীবন লজিং টিউশনের চাপে কোন এক বালিকার টুকটুকে মুখ দেখে হাসার ফুসরত ও আমার মেলেনি। রাজনীতি করার রাজ কপাল কি আমার ছিলো?বাল্যশিক্ষা বইটাকে শত প্রশ্ন করি সে আমায় কোন জবাব দেয় না।লোকে বলে এমন ক্ষেত পাবলিক তো দেখি নাই যে যুগের যে ভাও।সেই বাল্য শিক্ষাতে পড়ে থাকলে হবে?এখন তো আর বাল্যকাল নেই তোমার।যৌবন পেরিয়ে যাচ্ছে।যৌবন শিক্ষা পড় এখন।যদি টিকতে চাও।

তো আমি কোথায় যাব যৌবন শিক্ষা লাভ করতে?সেই স্মার্ট লোকদের পেছনে?আমি পারিনা।বাল্যশিক্ষা আমার সর্বনাশ করেছে।যতবার আমি স্মার্ঠলোকদের দিকে যৌবন শিক্ষা লাভ করতে অগ্রসর হতে চাই,ততবার ব্যর্থ হই।একটা বিবভিষা ভাব আসে।আমার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাল্যশিক্ষা।আমি এখন কি করব ভেবে পাইনা।



স্মার্টনেস আমার অধরাই থেকে গেল।
১১টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×