somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউ: দি রেসিপি (The recipe)

২৩ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি যদি হালকা রোমান্টিক কোরিয়ান মুভি পছন্দ করেন তাহলে দেখতে পারেন The recipe মুভিটি।একটু ভিন্নধর্মী এই মুভিটি দেখার ধৈর্য্য যদি আপনার থাকে তাহলে মুভিটি আলতো করে ছুঁয়ে দেবে আপনার মনটিকে।সাউথ কোরিয়ার সিযে এন্টারটেইনমেন্ট এর তৈরী এই মুভিটির মুক্তি পেয়েছে ২০১০ সালে।এর আইএমডিবি রেটিং ৬,৯

আচ্ছা যদি মৃত্যুর আগে কোনো মানুষ তার শেষ ইচ্ছা হিসাবে বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জানায় তবে সকলের কৌতুহল হতেই পারে যে খাবারটি আসলে কি বা কেমন খেতে।আর যদি কেউ সেই খাবার খাওয়ার জন্যেই মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় তবে???না মোটেও খাবারের বিষক্রিয়া থেকে নয় বরং একজন পলাতক মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী যদি একপাত্র বিশেষ সয়াবিন পেস্ট স্ট্যুর স্বাদে বিভোর হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং মৃত্যুর আগ মুহুর্তেও একটিবারের জন্য ঐ বিশেষ স্যুপ খতে চায় তবে যে কে না বিষয়টি নিয়ে কৌতুহলী হবে।এভাবেই কৌতুহল হয় একজন টিভি প্রডিউসারের।তিনি ঐ স্থানে তখন উপস্থিত থাকা সমস্ত পুলিশ সদস্যকেও এ ব্যাপারে জিগাসা করে সেই খাবারের অদ্ভুত সুগন্ধের যে অপুর্ব বর্ননা পান তাতে তার আগ্রহ বেড়ে যায় শতগুনে।

মুভিটির শুরু এভাবেই তারপর সেই টিভি প্রডিউসারের কৌতুহল আর খোঁজাখুঁজিতে বের হয়ে আসে অপূর্ব এক খাদ্য তৈরীর প্রক্রিয়া সেই সাথে মিষ্টি এক তরুনীর জীবন কাহিনী যার হাতে তৈরী বিশেষ খাবারটি লাভ করেছে স্বর্গীয় মহিমা।খাবারটির এমনি সুগন্ধ যা প্রজাপতিকে আকর্ষন করে ডেকে আনে,যার সুগন্ধ অনেক কাল আগে ঘ্রানশক্তি হারানো মানুষের নাকে ফিরিয়ে দিতে পারে অনুভুতি আর যা খাওয়ার পর মানুষ মারা গেলে তার শরীরের যে অংশে সেই খবার জমা আছে তা পচে না বরং ছড়ায় মধুর সুবাস।টিভি প্রডিউসার বেচারা মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে সেই ঐতিহ্যবাহী স্যুপ তৈরীর প্রক্রিয়া শিখতে যায় যেখানে জানা যায় এই খাবারটি ঠিকঠাক তৈরীতে লাগে অনেক বছরের তপস্যা আর উপাদানগুলো হতে হয় একেবারে নিখুঁত।শেষে এই উপাদানগুলোকে লক্ষ রেখে তিনি খুঁজতে থাকেন মেয়েটিকে।######



আর পরতে পরতে উন্মোচিত হতে থাকে মেয়েটির বিচিত্র কিন্ত শান্ত আর নির্জন জীবনের কাহিনী।তিনি মন্ত্রমুগ্ধের মত ছুটতে থাকেন মেয়েটির পানে,তাকে অবাক করে মেয়েটির ধৈর্য আর একাগ্রতা।তিনি জানতে পারেন এই খাবারটি তৈরীর জন্য সেই সবচেয়ে বেশি দক্ষতা আর নৈপুন্যের পরিচয় দিয়েছে।তার বিশেষ স্যুপটি তৈরীতে লাগে ১০০% বিশুদ্ধ ক্রিস্ট্রালাইন খাবার লবন যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না,লাগে কয়েক দশক ধরে ফুলের পাপড়ি জমা হয়ে তৈরী হওয়া মাটি থেকে বানানো পাত্র যা থেকে আসে ফুলের সুবাস।এমনি আরো অনেক কিছু।টিভি প্রডিউসার শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে খুঁজে পান না কিন্ত খুঁজে পান তার সমগ্র জীবনের চিত্রটি যেখানে রয়েছে স্রোতহীন পাহাড়ি নদীর মত শান্ত কিন্ত গভীর প্রেম।সব শেষে রেকডিং এর সময় প্রডিউসার জানান এই বিশেষ রেসিপিতে কিছুটা চোখের জলও দরকার হয়।কিন্ত কেন তা জানার জন্য আপনাকে মুভিটি দেখতে হবে।

এবার মুভিটি নিয়ে আমার অভিমত।প্রথমে এটিকে কোনো রহস্যঘন থ্রীলার বলে মনে হলেও শেষ দিকে গিয়ে মনে হয়েছে এটি একটি লাভস্টোরী ছাড়া আর কিছুই নয়।এটি সেই ধরনের মুভি যা হয়ত কারো মনটি ছুঁইয়ে যাবে আবার কারো কাছে মনে হবে যথেষ্ট বোরিং।অনেকে আছেন যারা টপ রেটিং হাইফাই মুভি ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পছন্দ করেন না।আগেই বলে নিই এই মুভিটা তাদের জন্য উপভোগ্য হবে না।মুভির ক্ষেত্রে আমি প্রায় সর্বভুক।হাই,মিডিয়াম,লো রেটিং এমনকি নো রেটিং মুভির ক্ষেত্রেও আমার সমান আগ্রহ।আমি বৈচিত্রময় জিনিস দেখতে চাই এবং আরো আরো বৈচিত্র খুঁজতে চাই।আমি দেখেছি অনেক সাদামাটা মুভিতেও ভিন্নধর্মী আনন্দ পাওয়া যায়।আমার কাছে মুভিটি একটু অন্যরকম ভাল লেগেছে আর সেই ভাল লাগা থেকেই এই রিভিউ লেখা।



কিছু ভালবাসা আছে যা ঝড়ের মত উদ্দাম।ভালবাসার তোড়ে একূল ওকূল সবকিছু ছাপিয়ে প্লাবিত হয়ে যায়।আবার কিছু ভালবাসা আছে যা অনেকটা চন্দনের সুবাসের মত মৃদু কিন্ত স্থায়ী।এই সুবাস যেমন গাছের অভ্যন্তরে বিন্দু বিন্দু করে জমা হয়ে কাঠকে সুগন্ধী করে তোলে তেমনি এই ভালবাসা দুটি হৃদয়ের মাঝে ফোটায় ফোটায় জমা হয়।চোখে ধরা দেয় না কিন্ত অনুভুতিতে বোঝা যায়।এক হওয়ার জন্য কোনো সীলমোহর লাগে না।দূরত্ব যতই হোক কিংবা মৃত্যু,সুবাসিত দুটি হৃদয় চিরকালই একে অপরের,ঠিক যেমন চন্দন পোড়ালেও তার সুগন্ধ শেষ হয় না বরং তা চারপাশ ভরিয়ে তোলে।ভালবাসা যেমনি হোক তা ভালবাসাই,শুধু খাঁটি হওয়া চাই।কিন্ত আমার এই ২য় ধরনের ভালবাসার প্রতি বিশেষ ভাললাগা আছে আর মুভিটির কাহিনীতে এধরনের ভালবাসাই আপনি দেখতে পাবেন।মুভিটি টরেন্ট থেকে সহজেই ডাউনলোড করতে পারবে্ন আর জানতে পারবেন মেয়েটির শেষ পর্যন্ত কি হলো।
সবার জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৫ রাত ১:৩১
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×