somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সনেট কবি
সনেট কবি রচিত সনেট সংখ্যা এখন ১০০৪ (৫ জানুয়ারী ’১৯ পর্যন্ত) যা সনেটের নতুন বিশ্ব রেকর্ড, পূর্ব রেকোর্ড ছিল ইটালিয়ান কবি জিয়েকমো দ্যা ল্যান্টিনির, তাঁর সনেট সংখ্যা ছিল ২৫০।

আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত ১৮ ই অক্টোবর পরপারে প্রায় চলেই গিয়ে ছিলাম। ফিরে এসে ভাবলাম, আগামি একুশে বই মেলায় একটা বই প্রকাশ করবো ইনশাঅাল্লা। মুক্তদেশ প্রকাশনির প্রকাশকের সাথে কথা বল্লাম। তিনি‘ আল্লাহর অকাট্য প্রমান’ সংক্রান্ত বইটির পান্ডলিপি সুতন্নি এম জে ফন্টে ইমেল করতে বল্লেন। ব্লগারদের মন্তব্য বইতে যোগ করার জন্য আমি আমার কিছু মতামত ব্লগে উপস্থাপন করতে চাই। ৬৪ পৃষ্ঠার বইতে সকল বিজ্ঞান ও আল্লাহর অসংখ্য বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। এখানে কিছু নমুনা উপস্থাপন করলাম। সহ ব্লগারদের যার যার মন্তব্য পুস্তকে স্থান দেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে তা তাঁর অনুমতি স্বাপেক্ষে তা’পুস্তকে স্থাপন করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রকৃতি বিজ্ঞান অনুযায়ী নিজে নিজে শুধু একজন হতে পারে। একাধিক কোন কিছুর নিজে নিজে হওয়া অসম্ভব। কারন যে নিজে নিজে হবে তার সীমা দাতা, নিয়ন্ত্রক ও সৃষ্টি কর্তা না থাকায় প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী সে বড় হবে সে ছোট হবে না। সসীম ও অসীমের মধ্যে অসীম বড়।সুতরাং যে নিজে নিজে হবে সে অসীম হবে, সে সসীম হবে না। এমন অসীম যদি অনেক গুলো হয় তবে সর্বসম ত্রিভুজের নিয়ম অনুযায়ী সব অসীম একত্রে মিলেমিশে একজন হবে,একাধিক হবে না। একাধিক করতে হলে তাদের মধ্যে সীমা দিতে হবে। আর সীমা দিলে অসীম আর অসীম হবে না,সসীম হয়ে যাবে,যাতে প্রকৃতির বিধান বজায় থাকবে না। কাজেই নিজে নিজে যা হয়েছে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী তিনি একজন হয়েছেন। আর অসীম প্রাণ শক্তি থাকায় তিনি জড় জাতীয় কিছু নন। এখনো নিজে নিজে কিছু হলে তা অসীম হয়ে যায় এবং পূর্ব অসীমকে সমৃদ্ধ করে, আলাদা কিছু হয় না। তাহলে প্রকৃতির আর সব এলো কোথা থেকে? উত্তর একটাই আর সব সৃষ্টি করেছেন প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী নিজে নিজে হওয়া সেই একজন। মুসলমানগণ তাকে আল্লাহ বলেন।

চিরন্তন সত্য

জগতৎ যে ভাবে আছে শৃঙ্খলা সাজানো
সর্বক্ষেত্রে কারুকাজে সুচারু সুন্দর,
তাতে এর সৃষ্টিকর্তা আছে বুঝা যায়,
একমাত্র নিজে নিজে হয়েছেন তিনি।
নিজে নিজে হতে পারে শুধু একজন,
কারণ যে হবে নিজে সে হবে অসীম,
বাধা না থাকায় তার অসীমত্ত্বে কোন
সে সসীম হবেনা এ সুনিশ্চিত কথা।

সীমা দিতে অসীমের সীমানা পাওয়া
অসম্ভব বলে এটা সীমা দিয়ে করা
একাধিক কোন কালে হয় না সম্ভব।
নিজে নিজে একজন হলে বাকীদের
সৃষ্টিকর্তা সেইজন এ সহজ কথা
চিরন্তন সত্য কথা যা মানা উচিত।

#ছন্দ: অমিত্রাক্ষর
#মাত্রা: ৮+৬
#কবিতা প্রকৃতি: সনেট

ব্লগার ঢাকার লোকের মন্তব্য অনুযায়ী মূল পান্ডুলিপির খসড়া উপস্থাপন করছি-

যে নিজে নিজে হয় তার সৃষ্টিকর্তা, নিয়ন্ত্রক ও সীমাদাতা থাকেনা। সে হয় তার ইচ্ছেমত, কারণ তাকে নিজের ইচ্ছেমত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধাদানকারী নেই। হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম বড় হওয়া। কারণ কেউ ছোট হতে চায়না। কাজেই সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যে নিজে নিজে হবে সে বড় হবে, সে ছোট হবেনা। অসীম ও সসীমের মধ্যে বড় হল অসীম।কাজেই যে নিজে নিজে হবে সে অসীম হবে, সে সসীম হবে না।এভাবে নিজে নিজে যত যা কিছু হবে তার সবগুলো অসীম হবে। তার কোনটাই সসীম হবে না এমন নিজে নিজে হওয়ার সকল অসীম সর্বসম ত্রিভূজের নিয়ম অনুযায়ী একটার সাথে আরেকটা মিশে যাবে। এমন অসীমদেরকে আলাদা করা যাবে না। তা’ছাড়া আলাদা করতে হলে অসীমের মাঝে সীমা দিতে হবে, তখন উহা আর অসীম থাকবে না বরং সসীম হয়ে যাবে। অথচ নিজে নিজে যা হয় তা’অসীম হয়। কিন্তু পদার্থ বা সসীম শক্তি অসীম হতে পারেনা। কারণ পদার্থের আকার আছে, আর সসীম শক্তির মধ্যে ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। কাজেই নিজে নিজে হওয়ার নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র অসীম শক্তি নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে।
এভাবে সর্ব অসীম শক্তি প্রাকৃতিক নিয়মে নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করে নিজে নিজে শুধুমাত্র একজন সর্বশক্তিমান অস্তিত্ব লাভ করেছেন। তার নাম আল্লাহ। যা তিনি তার গ্রন্থ আল কোরআনে বলেছেন। আল কোরআন যে তার গ্রন্থ এটাও অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়।

নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করা সর্ব অসীম শক্তির মাঝে যদি অসীম প্রাণ শক্তি থাকে তবে তাকে কিছুতেই জড় বলা যাবে না। জড়ের মত চুপ চাপ পড়ে থাকলেও বুঝতে হবে এতে কোন সংগত কারণ আছে। আর সেই কারণ হলো তিনি যাদের সাথে দেখা দিতে চান তারা কষ্ট করে তাকে খুঁজে নিজে বুঝে নিক। সেজন্য তিনি কোন হল্লা-চল্লা করছেন না। তার এ নিরব নিশ্চুপ থাকা একটা পরীক্ষা এবং এটা স্বল্প সময়ের। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে অনন্ত সুখ ও শান্তি। আর অকৃতকার্য হলে অনন্ত দুঃখ এবং কষ্ট।

নিজে নিজে একজনের বেশী অস্তিত্ব লাভ সম্ভব নয় বিধায় এটা পরিস্কার যে সে একজন ছাড়া আর সব সেই একজনের সৃষ্টি। নিজে নিজে যা হবে প্রাকৃতিক নিয়মে তা, অসীম হয় বিধায় এখনো বা যে কোন সময় কোন কিছু এমন নিজে নিজে হলে তা পূর্ব অসীমের সাথে মিশে তাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।নিজে নিজে হওয়া কোন কিছু কখনই আলাদা কিছু হবেনা। কাজেই যিনি নিজে নিজে হলেন তিনি প্রাকৃতিক নিয়মে অনন্তকাল একজনই থাকবেন। এ ক্ষেত্রে একের দুই হওয়া কোন মতেই সম্ভব নয়। এখন নিজে নিজে যদি একের অধিক না হতে পারে তবে সেই একজন ছাড়া আর সব তাঁর সৃষ্টি এটা না মেনে কোন উপায় নেই। আর যদি কেউ তাঁকে সৃষ্টি কর্তা না মানে তবে তা হবে গুরুতর অপরাধ। এখন বিবর্তনবাদ বিগ ব্যাংক স্ট্রিং থিওরি ও কোয়ান্টাম মেথড যদি সত্য হয় তবে মেনে নিতে হবে এসব তাঁর কাজের অংশ। যার মাধ্যমে তাঁকে অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই। এভাবে যত পদ্ধতিই উদ্ভাবিত হবে সব একখাতে জমা হবে ।অর্থাৎ সেসব হবে আল্লাহর কার্যপদ্ধতি।

নিজে নিজে হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে আল্লাহর বক্তব্য:-

সূরা আর রাহমানের ২৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “কুল্লুমান আলাইহা ফান - তাতে সব বিলিন হয় অবস্থা এমন।” আর ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,‘ ওয়া ইয়াবকা অজহু রাব্বিকা জুল জালালি ওয়াল ইকরাম - শুধুমাত্র তোমার মহিমাম্বিত ও দয়াবান রবের সত্ত্বা টিকে থাকে। এখানে সময়ের উল্লেখ নেই তার মানে সব সময়। একবার হয়ে শেষ হয়েছে আর হবে না ঘটনা এমন নয়। বরং ঘটনা এমন হয়, হয়েছিল, হচ্ছে এবং হবে। ২৭ নং আয়াতে যার কথা বলা হয়েছে তিনি ছাড়া আর সব কিছু বিলিন হয়।
যাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে তারা পদার্থ ও সসীম শক্তি। আর যার ক্ষেত্রে ঘটে না তিনি অসীম সর্ব শক্তিমান- প্রকৃতি অনুযায়ী।
‘তাতে সব বিলিন হয় অবস্থা এমন’ এখানে স্থানের উল্লেখ নেই তার মানে এটা সকল স্থানের সম্মিলন। সকল রঙের সম্মিলন সাদা রং যাতে সব রঙ আছে। কিন্তু সব রং একত্রে মেশালে উহা সাদা রং হয়। সাদা রঙে কোন রং নেই মানে সব রং আছে। তেমনি সকল স্থানের সম্মিলন স্থানে কোন স্থান নেই মানে সব স্থান আছে। পদার্থের অবস্থা হল উহা স্থানের দিকে ধাবিত হয় আর স্থান যদি সব দিকে হয় তাহলে ওখানে কোন পদার্থ থাকলে উহা নিয়ম অনুযায়ী সব দিকে ধাবিত হবে। এবং সব স্থানের টানে উহা ভেঙ্গে যেতে থাকব।এরপর উহা এর অনু পরমাণু থেকে ভেঙ্গে উহা উহার ইলেকট্রন, নিউট্রন ও পোট্রন নামক শক্তি কণিকায় পরিণত হবে। এবং উহা উহার অসীম মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে অসীম হয়ে যাবে। সসীম শক্তিও অসীম মহাশূণ্যের সর্বস্থানের টানে অসীম শক্তিতে পরিণত হবে। আর অসীম শক্তি, অসীম শক্তি হিসেবে বজায় থাকব। কাজেই অসীম মহাশূন্যের নিয়ম হল তাতে নিজে নিজে হতে গিয়ে সব কিছু তার নিজের অস্তিত্ব হারায় এবং সব কিছু অসীম হয়ে অসীম সর্বশক্তিমান হয়ে যায়। সেজন্যই আল্লাহ বলেছেন, তাতে সব বিলিন হয়ে শুধুমাত্র তিনি টিকে থাকেন।যেমন তিনি বলেছেন, ‘কুল্লুমান আলাইহা ফান, ওয়া ইয়াবকা অজহু রাব্বিকা জুলজালালি ওয়াল ইকরাম- তাতে সব বিলিন হয়ে যায়, আর শুধুমাত্র তোমার রবের সত্ত্বা টিকে থাকেন।

কাজেই সকল স্থানের সম্মিলিত স্থান মহাজগৎ; ২৭ নং আয়াতে যার কথা বলা হয়েছে তিনি অবসর গ্রহণ করলে উহা বিলিন সূত্রে পড়ে বিলিন হবে। তখন মহাজহৎ মহাশূণ্যে পরিণত হবে।কিন্তু ২৭ নং আয়াতে যার কথা বলা হয়েছে তাঁর কিছুই হবেনা, তিনি টিকে থাকবেন; কারণ তিনি অসীম সর্ব শক্তিমান। অসীমত্ব থেকে যতই খরচ হয় অসীমত্বের কারণে সাথে সাথেই উহা আবার পূরণ হয়। কাজেই তাাঁর বিলিন হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

(চলবে)

প্রশ্ন উত্তর পর্ব:-

ফেসবুকে এ বিষয়ে একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিল আল্লা নিজে নিজে হয়ে থাকলে বোঝা যায় এমন একসময় ছিল যখন আল্লাহ ছিলেন না। তাহলে আল্লাহ চির বিদ্যমান হন কেমন করে?

উঃ আল্লাহ হয়েছেন অসিম অীসম মহাশূন্যের মহা আন্ডা থেকে ,মুরগির আন্ডা থেকে মুরগীর বাচ্ছা বের হলে যদি প্রশ্ন করা হয় এ আন্ডায় কি ছিল উত্তরে সবাই বলবে এ আন্ডায় মুরগীর বাচ্ছা ছিল, তাহলে অশীম সমহাশূন্যের মহা আন্ডা থেকে মহান আল্লাহ বের হলে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে অসীম মহাশূণ্যের মহা আন্ডায় আল্লাহ ছিলেন। কাজেই অসীম মহাশূণ্যে ছিলেন আল্লাহ , অসীম মহাশূন্য থেকে বের হলেন আল্লাহ , কাজেই আল্লাহর নিজে নিজে হওয়াতে তার চির বিদ্যমান হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

মুক্ত মনা বাংলা ব্লগে এক মেয়ে ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করেছিল আল্লাহ সর্বশক্তিমান হলে,তিনি কি এমন কিছু বানাতে পারেন যা তিনি নিজেই উত্তোলন করতে পারেননা?

উঃ সর্বশক্তিমান মানে সব কাজ করতে পারেন,কোন অকাজ নয়। আপনি যদি বলেন, আল্লাহ কি ঘোড়ার ডিমে প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন? তাহলে আমি বলবো ঘোড়ার ডিমে প্রাণ সঞ্চার করা একটা অকাজ,কাজেই এটা আল্লাহর পারার দরকার নেই কারন ঘোড়ার কোন ডিম নেই। বাস্তবে আল্লাহ সব তৈরী করতে পারেন এবং তিনি সব উত্তোলন করতে পারেন। কাজেই আপনার প্রশ্নের প্রশ্ন হওয়ার যোগ্যতাই নেই। আপনি যে কাজের কথা বলেছেন সেটা একটা অকাজ। যার সাথে সর্বশক্তিমানের কাজের কোন সম্পর্ক নেই ।

একজন প্রশ্ন করলো আল্লাহ কি আল্লাহর মত আল্লাহ বানাতে পারেন?

উঃ একজন আল্লাহ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আরেক জন আল্লাহকে বানানো বেদরকারি কাজ। আল্লাহর স্বভাব হল তিনি বেদরকারি কাজ করেন না। তাছাড়া আল্লাহ অসীম হওয়ায় আরেক জন আল্লাহ বানানোর স্থান নেই এখানে আল্লাহর না পারার কথা নয় বরং স্থান না থাকার বিষয় বিদ্যমান। কাজেই আল্লাহ আরেক জন আল্লাহ বানাতে পারেননা এটা অর্থ হীন মন্তব্য। স্থান থাকলে অবশ্যই তার পক্ষে তার কপি বানানো সম্ভব। আল্লাহ সব পারেন তার মানে তিনি সব কাজ পারেন কোন অকাজ নয়। কোন অকাজের সাথে কোন সর্বশক্তিমানের কোন সম্পর্ক নেই। কাজেই অকাজ পারেননা বলে তিনি সর্বশক্তিমান নন, এমন বলা অহেতুক।

একজন প্রশ্ন করল আল্লাহ অসীম হলে তাকে নিরাকার মানতে হবে। অথচ আল্লামা দেলাওয়ার হোওেসন সাঈদী,ডাক্তার জাকীর নায়েক, সৌদি রাজ পরিবার, মদিনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া বিভাগ, ওহাবী, সালাফী ও আহরে হাদীসদের মতে আল্লাহর আকার আছে তাদের মতের সপক্ষে তারা কোরআন ও হাদীসের বহু দলিল উপস্থাপন করে থাকে। তাহলে আল্লাহ নিরকার এটা কিভাবে সঠিক হতে পারে?

উঃ আল্লাহর আকার আছে কি নেই, কোরআন ও হাদীসে এমন কোনো কথাই নেই। এমন কথা মানুষ কোরআন ও হাদীসের ওপর কিয়াসের ভিত্তিতে বলে থাকে। যারা আল্রাহর আকার আছে বলে কিয়াস করছে তাদের কিয়াস মূলত ভুল। যেমন একজন বলল আল্লাহকে দেখা যাবে, কাজেই আল্লাহর আকার আছে। কিন্তু আলো ও অন্ধকার দেখা যায়, যদিও এদের আকার নেই। কাজেই আকার থাকার জন্য দেখা যাওয়া জরুরী নয়।

একজন আল্লাহ আরশে বসার কথা বলেছেন, আকার না থাকলে আল্লাহ আরসে বসলেন কি করে?

উঃ আল্লাহ বলেছেন ‘ লাইছা কামিছলিহি সাইউন- তার অনূরুপ নেই’ এই আয়াত বলে আকার বিশিষ্টদের বসার মতো আল্লাহর বসা নয়। তিনিই ভালো বলতে পারেন তিনি আরশে কেমন বসেছেন। তবে আয়াতের আলোকে বোঝা যাচ্ছে তার আরশে বসার জন্য আকার থাকা জরুরী নয়।


একজন বলল আল্লাহর বিভিন্ন অঙ্গ থাকার কথা বলা আছে। অঙ্গ তো আকারের থাকে, তাহলে কিভাবে আল্লাহকে নিরাকার বলা যায়?

উঃ আল্লাহ বলেছেন ‘ লাইছা কামিছলিহি সাইউন- তার অনূরুপ নেই’ এই আয়াত বলে আলাহর অঙ্গ আকার বিশিষ্টদের অঙ্গের মতো নয়। কাজেই অঙ্গ থাকার কারণে আল্লাহর আকার থাকা জরুরী নয়।


একজন বলল আল্লাহ অসীম হলে তিনি সর্বত্র বিরাজমান,তবে কি তিনি টয়লেটে ও বিরাজমান?

উঃ আল্লাহ সর্বশক্তিমান। শক্তির গায়ে কখনও নাপাক লাগে না। টয়লেটের আলোতে কি নাপাক লাগে? কাজেই আল্লাহর গায়ে নাপাক লাগানো অসম্ভব! তবে কি কেউ আল্লাহর আকার সাব্যস্ত করে আল্রাহর গায়ে নাপাক লাগাতে চায়? মহাজগতে যা বিদ্যমান তা তিন প্রকার :- ১। আকার, ২। সসীম নিরাকার, ৩। অসীম নিরাকার । আকার ও সসীম নিরাকারের অসংখ্য সদৃশ্য রয়েছে কিন্তু অসীম নিরাকারের কোনো সদৃশ্য নেই। তিনি শুধুই একজন। যা সূরা ইখলাসের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে। কাজেই কোরআনের আয়াত সমূহ এবং প্রকৃতি বিজ্ঞান অনুযায়ী আল্লাহ অসীম নিরাকার। এটা সন্দেহাতীত ভাবে সত্য। কাজেই কারো মিথ্যা কথা মেনে নেওয়ার কোনো দায় আমাদের নেই।

একজন বল্ল, আল্লাহ এক হলে তাঁর অনুসারী মুসলমানদের এত দল কেন?

উঃ মুসলমানদের বহু দলের কারণ যদি হয় শিরক ও কুফর তাতে আল্লাহর কোন দায় নেই। তবে মতভেদের কারনে মুসলমানদের বহু দল গনননার নিয়ম নেই। সে ক্ষেত্রে মতভেদকারী সব দলকে এক দল গননা করা হয়। যেমন হজরত আয়েশার (রাঃ) দল, হজরত আলীর (রাঃ) দল, ও হজরত মুয়াবিয়ার দল তিন দল নয় বরং একদল । আবার চার মাজহাব নিজেদেরকে চার দল না ভেবে একদল ভাবে। এ দলে রয়েছে বিশ্বের শতকরা সাতাশি ভাগ মুসলমান।

শাশুড়ী বউ এ মিল নেই ,ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি, বোনে বোনে ঝগড়া, তাই বলে তারা এক পরিবার নয় এটা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু যদি পাতিল ভিন্ন হয়ে যায় তবেতো আলাদা পরিবার না বলেও উপায় নেই। তথাপি আত্মিয়তা থাকে। মুসলমাদের মাঝে যারা আলাদা মসজিদ বানিয়েছে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলেছে। তথাপি আত্মিয় হিসেবে তারা ঐক্য বদ্ধ থাকতে পারে। সবাই যেহেতু সবাইকে সঠিক মনে করে সেহেতু মরার পর দেখা যাক কে কোথায় যায়!

এক হাদীসে মহানবী (সঃ) বলেছেন মুসলমানদের বহু দলের শুধু একদল জান্নাতে যাবে। আরেক হাদীসে বল্লেন ‘যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে সে জান্নাতে যাবে।‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তো সব দল বলে তবে শুধু একদল কেন জান্নাতে যাবে? মুসলমানদের মাঝে বিবাদ লাগিয়ে রাখার জন্য মহানবীর (সঃ) নামে হাদীস বানিয়ে কেউ চালিয়ে দেয়নিতো?

কম্পিউটার কম্পোজ : ব্লগার ফাহিমা জেরিন জেবা ,সাহিদা সুলতানা শাহী, ইসরাত জাহান রাইসা (টুনটুনি)।



বি:দ্র: সনেট কবি অসুস্থ থাকায় তিনি কম্পিউটার কম্পোজ করতে পারেন না আর পুস্তকের সম্পাদীত অংশ ছাপানো না থাকায় ব্লগে দেওয়া যাচ্ছেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৭
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×