
কোন কথা হাদিসের কিতাবে না থাকলে সেটা বিদয়াত হবে এটা মারাত্মক ভুল ধারণা। কারণ কিতাবে থাকা হাদিস গুলোই এককালে হাদিসের কিতাবের বাইরে ছিল। আর সব হাদিস কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে এ বিষয় নিশ্চিত নয়। যে সব হাদিস কিতাবে লিপিবদ্ধই হয়নি সে সব হাদিসের কথা কিতাবে থাকে কেমন করে? হাদিসের কিতাবে নেই কিন্তু ফিকাহ এর কিতাবে আছে বা মুসলমানের আমলে আছে, হতে পরে এমন বিষয় হাদিসে ছিল, যদিও কোন কারণে এমন হাদিস কিতাবে স্থানলাভ করেনি।কারণটা হতে পারে ফিকাহ এর কিতাবের সংকলক এমন হাদিস যার কাছ থেকে পেয়েছেন তিনি সহিহ ছিলেন; কিন্তু হাদিসের কিতাবের সংকলক যার কাছ থেকে হাদিস খানি পেয়েছেন তিনি সহিহ ছিলেন না বিধায় হাদিসের কিতাবের সংকলক হাদিসখানি বাদ দিয়েছেন। অবস্থা দাঁড়াল এই যে হাদিসে যা ছিল তা’ হাদিসের কিতাবে নেই। আবার ফিকাহ এর কিতাব যিনি সংকলন করেছেন তিনি যার কাছ থেকে হাদিস পেয়েছেন তিনি সহিহ না হওয়ায় তিনি সে হাদিস বাদ দিয়েছেন, সেই বাদ দেওয়া হাদিস হাদিসের কিতাব যিনি সংকলন করেছেন তিনি যার কাছ থেকে পেয়েছেন তিনি সহিহ হওয়ায় হাদিসের কিতাবের সংকলক সেই বাদ দেওয়া হাদিস সহিহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেশতো গন্ডগোল শুরু হয়ে গেল যে যা হাদিসের কিতাবে আছে তা’ ফিকাহ এর কিতাবে নেই বা যা ফিকাহ এর কিতাবে আছে তা’ হাদিসের কিতাবে নেই। এখন তবে মানা হবে কোনটি? অনেকেই গলা টানটান করে ঘোষণা দিল হাদিসের কিতাব মানতে হবে। কারণ মহানবি (সা.)হাদিস মানতে বলেছেন ফিকাহ মানতে বলেননি।সুক্ষ্মভাবে ভেবে দেখুন এরা কি কথায় কি কথা বলে? মহানবি (সা.) হাদিস মানতে বলেছেন, হাদিসের কিতাব নয়।আর ফিকাহ যারা সংকলন করেছেন তারা কিন্তু বলেছেন তারা হাদিসের খেলাফ করেননি।তবে তাদেরকে কেন অযোক্তিকভাবে হাদিস খেলাফি বলা হবে?
এবার একটু খোলাসা করে বলি, ইমাম আবু হানিফা (র.) হাদিস গ্রহণ করেছেন দ্বিতীয় রাবী থেকে, আর ইমাম বোখারী (র.) হাদিস গ্রহণ করেছেন পঞ্চম রাবী থেকে তাহলে কার হাদিস অধিক সহিহ হওয়ার কথা? তবে আবু হানিফাকে (র.) বাদ দিয়ে বোখারীকে (র.) মানা হবে কোন যুক্তিতে? কাজেই মাযহাব লা মাযহাব দ্বন্দ্বে লা মাযহাবকে এগিয়ে রাখার সংগত কোন কারণ নেই। কারণ আবু হানিফার (র.) সহিহ হাদিস বোখারী (র.) গ্রহণ না করাতে বা আবু হানিফার (র.) বাদ দেওয়া হাদিস বোখারীর (র.)সহিহ হিসেবে গ্রহণ করাতে মূলত আবু হানিফার (র.) কোন দোষ নেই।আর আবু হানিফার (র.) সহিহ না হওয়া বা বোখারীর (র.) সহিহ হওয়া সংক্রান্ত কোন সহিহ হাদিস নেই।আর আবু হানিফার (র.) চেয়ে বোখারীকে (র.) অধিক সহিহ মনে করাও ভুল ধারনা। কারণ এ সংক্রান্ত কোন প্রমাণ নেই। কাজেই মাযহাবের অনুসারী হওয়া সঠিক নয় এমন ধারণা মারাত্মক ভুল ধারণা। শবেবরাতের বিপক্ষে যারা বলছে তারও সেটা ভুল ধারনা থেকেই বলছে, ব্লগার সৈয়দ তাজুলের পোষ্ট থেকে আমরা সেটা বিস্তারিত জেনেছি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




