
মহানবি (সা.) বলেছেন,‘মান তারাকা ছুন্নাতি ফালাইছাহু মিন্নি-যে আমার ছুন্নত তরক করলো সে আমার দলভূক্ত নয়’। এ হাদিসের অর্থ অনেকে যেমন করে তাতে প্রথমেই দু’জন আশারায়ে মোবাশ্বেরা বা দুনিয়ায় থাকতে জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবা (রা.) মহানবির (সা.) দল থেকে বাদ পড়েন। কারণ তাঁরা মহানবির (সা.) দারিদ্র থাকার ছুন্নত তরক করেছেন। মহানবি (সা.) সারা জীবন দারিদ্র জীবন যাপন করেছেন সেখানে তাঁরা কোনদিন দারিদ্র জীবন যাপন করেননি।সেই দু’জন সাহাবা (রা.) হলেন, (১) হজরত ওসমান (রা.) ও হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)। হজরত ওসমান (রা.) আবার খোলাফায়ে রাশেদার তৃতীয় খলিফা এবং জামিউল কোরআন বা কোরআন সংকলনকারী।এখন তিনটি হাদিস সমম্বয় করলে প্রথম হাদিসের অর্থ দাঁড়ায় যে সব ছুন্নত তরক করে সে মহানবির (সা.)দলভুক্ত নয়। কারণ যে একটি ছুন্নত পালন করে সেওতো ছুন্নত পালনকারী।মহানবি (সা.) বলেছেন,‘মান কালা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ফা দাখালাল জান্নাতা-যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলল সে যেন জান্নাতে প্রবেশ করলো’।তো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা একটা ছুন্নত। যাতে লোকে গুনাহের শাস্তিভোগেরপর জান্নাতে যাবে। তো মহানবির (সা.) দলভুক্ত না হয়ে তারা কেমন করে জান্নাতে যাবে? আল্লাহ বলেছেন,‘ফা আম্মামান ছাকুলাত মাওয়াজিনুহু ফাহুয়া ফি ঈশাতির রাদিয়াহ-যার নেকের পাল্লা ভারি হবে সেতো লাভ করবে সন্তোষ জনক জীবন’। কাজেই যার ছুন্নত পালনের পাল্লা ভারী হবে সে ছুন্নত পালনকারী গন্য হবে। আর যার ছুন্নত তরকের পাল্লা ভারী হবে সে ছুন্নত তরককারী গণ্য হবে।সে হিসেবে হজরত ওসমানের (রা.) আশারায়ে মোবাশ্বেরা হওয়া প্রথম হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক থাকেনা।তবে একটি ছুন্নত পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ বা ঈমানের সাথে একটা ছুন্নত পালনও বেকার যাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন,‘ফামাইয়ামাল মিছকালা যাররাতিন খাইরা ইয়ারাহ-যে অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলো সে উহা দেখবে’।‘মান কালা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ফা দাখালাল জান্নাতা-যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলল সে যেন জান্নাতে প্রবেশ করলো’।হাদিস দ্বারা বুঝা যায় এমন লোক শাস্তি ভোগের পর নাজাত পাবে যদি সাথে তার মূল্যবান ঈমানখানা থাকে।কাজেই সবাই যথাসম্ভব ছুন্নত পালন করবে তবে কারো খানিকটা ছুন্নত বাদ পড়ে গেলেও তাকে মহানবির (সা.) দল থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার দরকার নেই, যদি সে ছুন্নত অস্বীকারকারি না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



