
ইসলামে যা নতুন সৃষ্ট উহা বিদয়াত। ইসলামে যা মন্দ নতুন সৃষ্ট উহা বিদয়াত।বিদয়াতের সংজ্ঞায় এ দু’টি মত প্রচলিত। আমরা দ্বিতীয় মতের পক্ষে।কারণ প্রথম মতনুযায়ী বদলে যাওয়া পৃথিবীর সাথে সমান তালে চলতে মানুষ অক্ষম।
ইসলামে জ্ঞান প্রদান ও গ্রহণের পদ্ধতি ছিল ব্যক্তিগত এবং মুখে মুখে। কিন্তু এখন জ্ঞান প্রদান ও গ্রহণের পদ্ধতি হলো প্রাতিষ্ঠানিক এবং খাতা-পুস্তকের মাধ্যমে। যাতে আবার পরীক্ষা, ফলাফল ও সনদের বিষয় রয়েছে।যা ইসলামের পূর্ব পদ্ধতির পরিপন্থি।বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা গ্রহণ করলে কোন মুসলমানের পক্ষে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব থাকে না। এটা তার জন্য হারাম হয়ে যায়। আর যদি ঘটনা এমন হয় তবে জ্ঞানের দিক থেকে মুসলমান কতটা পিছিয়ে পড়ে তা’কি ভাবা যায়?
কোরআন ছিল মুখে মুখে। এরপর সাহাবায়ে কেরামের (রা.) জামানায় কোরআনের গ্রন্থরূপ হলেও সেই জামানায় কোরআনের ছাপানো রূপ ছিল না।কাজেই ছাপানো কাগজে কোরআন পরিবেশন ইসলামের নতুন পদ্ধতি। বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা গ্রহণ করলে ছাপানো কোরআন স্পর্শ করা নাজায়েজ হয়ে যায়।
মহানবি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) জামানায় কোন ছাপানো পুস্তক ছিলনা। কাজেই বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী যে কোন ছাপানো পুস্তক থেকে দূরে থাকতে হবে।
হাদিস গ্রহণ ও প্রচারছিল মুখে মুখে। মহানবি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) জামানায় হাদিসের কোন পুস্তক ছিল না। ছাপার অক্ষরে তো অবশ্যই নয়। কাজেই বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী বর্তমানে প্রচলিত হাদিসের কিতাব স্পর্শ করা নাজায়েজ।একই কথা ফিকাহ এর কিতাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ইন্টারনেট ব্লগ ইত্যাদিতো বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী মহা নাজায়েজ। যে সব লোক বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা গ্রহণ করে আর বিদ্যালয়, পুস্তক ও ইন্টারনেট বর্জন করেনা। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। কাজেই তারা মুনাফিক।বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা গ্রহণ করে তারা অতি মুসলমান হতে গিয়ে মুনাফিক হয়ে ইসলাম থেকেই খারিজ হয়ে যাচ্ছে।যেহেতু বিদয়াতের প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী মুসলমান থাকাই সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা দ্বিতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রণপণে মুসলমান থাকার চেষ্টা করছি।
প্রিন্সিপাল ইব্রহীম খাঁর কাফেলা নামক পুস্তকে বিদয়াত বিদয়াত বলে জিগির তোলা দলের স্বল্প শিক্ষিত মুন্সি সাব মেয়েদের স্কুলে যাওয়াকে বলছেন, দলবেঁধে জাহান্নামে যাওয়া।এবার বুঝুন এদের বিদয়াতের নমুনা। এরা কি বলতে কি বলে। এদের এসব প্রচারণায় প্রভাবিত হলে মুসলমানরা কি বর্তমান পৃথিবীর সাথে তাল মিলাতে পারবে? আর বর্তমান পৃথিবীর সাথে তাল মিলাতে অপারগ মুসলমান কি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে? বিদয়াত বলতে মুখে ফেনা তোলা সৌদি আরব অকশেষে ইহুদী ও খিস্টানের উপর ভরসা করে টিকে থাকতে চায়। এটা কোন ছুন্নত? এরা এমন লেংটি পরে যে লেংটির এক দিক দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে গেলে অন্য দিক দিয়ে বেআবরু হয়ে যেতে হয়।
মহানবি (সা.) তাঁর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন। কাজেই আমরাও মূলনীতি ঠিক রেখে তেমনটা করলে সেটা বিদয়াত বা নাজায়েজ হবে কেন? কাজেই আলেম সমাজের মতামতটাই ঠিক। আর তা’হলো, ‘ইসলামে যা মন্দ নতুন সৃষ্ট উহা বিদয়াত’।‘ইসলামে যা ভাল নতুন সৃষ্ট উহা বিদয়াত নয়’।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৮ সকাল ৮:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



