
মাযহাবের অনুসারীদেরকে মাযহাব ছেড়ে সহিহ হাদিস মানার আবেদন জানানো হলেও তারা মাযহাব ছেড়ে সহিহ হাদিস মানছে না। অথচ মাজহাবের ইমামগণও সহিহ হাদিস মানার কথা বলেছেন।তবে কেন মাযহাবের অনুসারীরা এমন করছে? এ ক্ষেত্রে দু’টি পর্যবেক্ষণ রয়েছে, ১। সহিহ দাবীকৃত হাদিস সমূহ সহিহ হলেও এগুলোকে মানসুখ মনে করা। ২। সহিহ দাবী করা হলেও মাযহাবের পরিপন্থি হাদিস সমূহ সহিহ হওয়া বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারা।আমাদের মনে হয়েছে সহিহ দাবীকৃত হাদিস সমূহ সহিহ হওয়া বিষয়ে বিশ্বাসের স্তরে রয়েছে। এগুলো সহিহ হওয়া বিষয়ে অকাট্য প্রমাণের স্তরে নেই।সংগত কারণে কেউ এগুলো সহিহ বিশ্বাস করে, আর কেউ সহিহ বিশ্বাস করেনা। আবার কেউ সহিহ বিশ্বাস করে ঠিক তবে মানসুখ মনে করে।
সহিহ দাবীকৃত কিছু হাদিসে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। সন্দেহ হলো, হতে পারে এসব হাদিস মহানবির (সা.) হাদিস নয়।সন্দেহের কারণ কিছু হাদিস বাস্তবতা পরিপন্থি।যে হাদিস গ্রন্থকে সবচেয়ে শুদ্ধ ধারণা করা হয় সে হাদিস গ্রন্থের সংকলক ইমাম বোখারীর (র.) ছাত্র ইমাম মুসলীম (র.) ইমাম বোখারির সব হাদিস সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি এর তিনভাগের একভাগের কম হাদিস সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।আমরা মাযহাব পন্থিরা বোখারীর (র.) অল্প কিছু হাদিস ছাড়া প্রায় সব হাদিস মানি তথাপি আমাদের প্রতি লা মাযহাবিদের রাগের কারণ কি? দেখা গেছে আবু দাউদ (র.) যে হাদিস সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বোখারী (র.)সে হাদিস সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেননি।এখন হাদিস বিশেষজ্ঞদের যদি অবস্থা এমন হয় তবে আমাদের সাধারণ মানুষ কি করতে পারে? সংগত কারণে তারা মাযহাব ছাড়তে পারছে না। এখন লা মাযহাবিরা কি দুঃখে আলাদা মসজিদ বানায়? মাযহাব পন্থিদের মাযহাব ত্যাগ না করা বিষয়ে যদি সংগত কারণ না থাকতো তবে লা মাযহাবিরা রাগ হতে পারত। অহেতুক আলাদা মসজিদ বানিয়ে এরা একটা খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
অনেকেই আমার জ্ঞানের পরিধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। কিন্তু জ্ঞান যা থাকুক আমাকেতো নিজের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে যে আমি মাযহাবি থাকব না লা মাযহাবি হব? আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে আমি পীরের মুরীদ হব কি না? আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে আমি বাসায় মীলাদের আয়োজন করব কি না। আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে যে আমি মির্জা গোলাম আহমদকে মাহদী মানব কি না? আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে যে আমি তাবলীগ জামাতে শামিল হব কি না।আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে আমি শবে বরাতে ইবাদত করব কি না? এখন আমার প্রশ্নের জবাবে একদল বলবে ইয়েস অন্যদল বলবে নো, আমি তবে কি করব? এখন এসব বিষয়ে আলোচনা না করলে আমি কি করে বুঝব আমি আসলে কি করব? অনেকে চোখ রাঙ্গিয়ে বলছে আপনি এসব আলোচনা বন্ধ করেন!কিন্তু আলোচনা না করলে সঠিকটা কিভাবে বেরিয়ে আসবে? এরা আসলে কি বলতে চায়? কেউ কি এমনি এমনি এদের কথা মেনে নিবে?
একদা নাস্তিকদের বলেছিলাম আমাদের মত ভুল বুঝলাম তো তোমাদের মত কিভাবে সঠিক সেটা বিবৃত কর। যদি তোমাদের মতও ভুল হয় তবে এক ভুল ছেড়ে আরেক ভুল গ্রহণ করার দরকার কি? তেমনি মাযহাব না হয় ভুল তো লা মাযহাবও যদি ভুল হয় তবে মাযহাব ছেড়ে লা মাযহাব গ্রহণ করার দরকার কি?
একটা বিষয়কে একটা দল বিদয়াত বলে তো সেটা কিভাবে বিদয়াত সেটা বোধগম্য রূপে উপস্থাপন করতে না পারলে তার কথা মানুষ মানবে কেমন করে?
সাকুল্যে কথা হলো আমি যা মানব, আর আমি যা ছাড়ব সেটা অবশ্যই আমার বোধগম্য হতে হবে। নতুবা কারো শুকনো কথায় তার কথা মানা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


