
মুক্তমনা বাংলাব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে না মেরে তার অবিশ্বাস নামক বিশ্বাসটা মারলেই হতো। তাহলে সে দেখতে পেত বিশ্বাসের ভাইরাস তার অবিশ্বাস কি ভাবে মেরে ফেলে? বেঁচে থাকলে বেচারা তার অবিশ্বাসের মৃত লাশ দেখে কাঁদতে পারতো।কিন্তু খুনিরা তাকে কাঁদতে দিলনা। কারণ মরেগেলে কেউ কাঁদতে পারেনা।
প্রয়াত অভিজিৎ রায়ের শূণ্য থেকে মহাবিশ্ব মন দিয়ে পড়লাম, কিন্তু কিভাবে শূণ্য থেকে মহাবিশ্ব হলো তার কিছুই বুঝলাম না।
আমার ভিতর যে বিশ্বাসের ভাইরাস বাস করে তা’হলো-
নিজে নিজে শুধু একজন হতে পারে। কারণ যে নিজে নিজে হবে সে বড় হবে।আর অসীম ও সসীমের মাঝে অসীম বড়।কাজেই নিজে নিজে যে হবে সে অসীম হবে। আর অসীম একাধীক হতে পারেনা। কারণ অসীমকে একাধীক করতে হলে এতে সীমা দিতে হবে। কিন্তু অসীমে সীমা দেওয়া যায়না।কাজেই অসীমকে একাধীকও করা যায়না। সংগত কারণে নিজে নিজে একের অধীক কোন কিছু হওয়া সম্ভব নয়। কাজেই সেই একজন ছাড়া আর সব তাঁর সৃষ্টি।
আমি আমার উপরোক্ত বিশ্বাসের ভাইরাস ছেড়ে দিলেই আমার অবিশ্বাস মরে যায়।বেচারা অভিজিৎ এ ভাইরাস না পেয়েই মরেগেল।ফলে তার অবিশ্বাসটা আর মরতে পারলনা।খুনি বুঝলনা মানুষ নয় খুন করতে হয় তার ভুল ধারণা। আর এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
প্রসঙ্গত মুক্তমনা বাংলাব্লগে আস্তিকদেরকে মুক্তমনে মনভাব প্রকাশ করতে দেওয়া হয়না। ওটা নাস্তিকদের মুক্তমনে কথা বলার সুযোগ প্রদান করে। আমি নিজে এর প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। মুক্তমানা বাংলাব্লগ শর্ত সাপেক্ষে মুক্তমনা। ওটা শর্তহীন মুক্তমনা নয়। তারমানে ওটা বোতল বন্দী মুক্তমনা। উম্মুক্ত মুক্তমনা নয়। কাজেই রবীঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ‘সব ঝুট হায় তফাৎ যাও’।
বিঃদ্রঃ প্রয়াত অভিজিৎ রায় অবিশ্বাসকে রোগমুক্ত রাখার জন্য বিশ্বাসের ভাইরাস নামে একটা পুস্তক রচনা করেছেন। আর তিনি অবিশ্বাস বলতে নাস্তিকতাকে বুঝিয়েছেন। তাঁর গুরু আরজআলী মাতুব্বরের সাথে মাতুব্বরী করে তিনি নাস্তিকতার দর্শন সুপ্রতিষ্টিত করতে চেয়েছেন। সে কালে তারা আস্তিকদেরকে অন্ধবিশ্বাসী বলতো। এখন তাদের চোখ খুলে দেওয়ার পর তারা বুঝতে পারছে আসলে সে কালে তারা নিজেরাই অন্ধ ছিল বলে, চোখ থাকা আস্তিকদের তাদের অন্ধ মনে হয়েছে। কি কান্ড!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




