
আল্লাহকে মানি, ইসলাম মানি, সেজন্য লোকে বলে ধর্মান্ধ! কেনরে বাপু যেখানে চোখ দু’টো জ্বল জ্বল করছে সেখানে অন্ধ বল কেন? তারা বলছে ইসলাম মোহাম্মদ (সা.) ও তার চেলাদের বানানো এটা না বুঝে এটা আল্লাহর প্রেরিত মনে করে নিষ্ঠার সাথে পালন করে অহেতুক সময় নষ্ট করছ, অমুক তমুক দেশের লোকেরা এটা না মেনে খুব সুখে আছে, তোমরা এসব মেনে মারামারি করে অশান্তি বাড়াচ্ছ, তবে তোমরা ধর্মান্ধ নয়তো কি? কথাগুলো মনে হলো ঠাস করে গালে একটা চড় কষে দেওয়া। সেই থেকে শুরু হলো তাদের সাথে তর্ক।আর তর্ক হলো আসলেই আমি ধর্মান্ধ কিনা সেটা খতিয়ে দেখা।তাদের একজন ব্লগার মহা সমম্বয় আমাকে ব্লগ লিংক দিয়ে সামুতে নিয়ে আসে। সেখানে সে ছবির মাধ্যমে দেখাল ধর্ম কিভাবে মগজ বের করে মানুষের মাথায় গোবর ভরে দিচ্ছে।সে যাই হোক আমি ধর্মযোদ্ধা। ভাবলাম আমার বিশেষগুণ থাকলে হয়ত লোকেরা আমাকে কিছুটা সমিহ করবে। ভাবলাম সে বিশেষ গুণের জন্য সনেট কবিতা লিখি। কিন্তু বিষয়? চিন্তা করলাম ধর্ম চিন্তা ও সনেটের বিষয় চিন্তা একত্রে করতে গেলে চিন্তা বেশি হয়ে যাবে। তারচে বরং বিনা চিন্তায় সনেট লিখি।এর উপায়? ব্লগারদেরকে নিয়ে সনেট লিখব। তো ব্লগারদের ব্লগে গেলেই তাদের গুণপনা চোখের সামনে জ্বল জ্বল করছে, এরপর চৌদ্দ চৌদ্দ মিলিয়ে দিলেই হয়ে গেল।আমি লিখি স্বীকৃতি কিছু লোক বলে তৈল। হয়ত তারা মনে করে আমি ব্লগারদের দোষ লিখি না। তো এক ব্লগারদের দোষ লিখলাম এখন বলে দোষ লিখলেন কেন তিনি কি মনে করবেন? এখন কথা হলো আমি স্বীকৃতি কেন লিখি? কারণ একটাই তিনি যেন আরো উন্নত হওয়ার ভাবনা ভাবতে পারেন। শুরু হলো আমার ধর্মীয় ও সনেট পোষ্ট।এর মধ্যে মডু আমার একটা ধর্মীয় পোষ্ট বোধগম্য নয় আখ্যাদিয়ে মুছে দিয়ে আমাকে জেনারেল করে দিল।সেই থেকে আজ অবদি আমার ‘ফরিদ আহমদ চৌধুরী’ নিক জেনারেল অবস্থায় পড়ে আছে। তারপর নতুন সংসারের স্বপ্নে ‘সনেট কবি’ নিক খুলে ব্লগিং শুরু করলাম। পোষ্টতো আর প্রথম পাতায় যায় না। সে জন্যই একপোষ্টে অসংখ্য পোষ্ট যোগ করতে থাকলাম। মন্তব্য করতাম সনেটে এরপর তা’ পোষ্টে এনে রেখে দিতাম। প্রতি মন্তব্যও করতাম সনেটে।এভাবেই আমার সনেট কবি ব্লগের পোষ্টে সনেট সংখ্যা বেড়ে সাড়ে সাতশ ছাড়িয়েছে। অবশ্য পোষ্ট করিনি বা হারিয়েগেছে আমার এমন সনেটের সংখ্যাও পাঁচশতের কম নয়।মনে পড়ে একদিন ষোলটি সনেটও লিখেছি। আর সবচেয়ে কম ১৩ মিনিটে একটা সনেট লিখেছি। মন্তব্যের পর প্রতিমন্তব্য হিসেবে ১৩ মিনিটের মাথায় ওটা পোষ্টে যোগ হওয়া ওটার ১৩ মিনিটে তৈরী হওয়ার প্রমাণ।
আমার পরিবারের ধারণা এসব না করে আমি আমার মেধা আয় মূলক কাজে খাটালে তা’ পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে বেশ কাজে লাগতো। অথচ আমি উল্টা এ কাজে অহেতুক অর্থ ব্যায় করছি।তাদের এ কথার জবাব দেওয়ার মত অবস্থানে আমি এখনো নেই। সেদিন মাননীয় ব্লগার নতুন বলেছেন তিনি আমার নাম গিনিস বুক অফ ওয়াল্ডে তোলার চেষ্টা করবেন। তা’ দেখিয়ে ঘরের জনকে কিছুটা আশ্বস্ত করলাম। আমি অপরের স্বীকৃতির জন্য সনেট লিখি আমার স্বীকৃতির জন্যও সনেট লিখেছেন চঞ্চল হরিণী। বা অনেকে আমাকে নিয়ে পোষ্ট দেয় এসব আমার লেখালেখির অবশ্য সহায়ক।যদি বড় কোন স্বীকৃতি ঝোটে তবে হয়ত লেখালেখিতে সেটা আরো সহায়ক হবে।
কেউ বলে সনেট লেখা বাদ দেন, কেউ বলে ধর্মীয় লেখা বাদ দেন, আমিতো এ দু’টাই লিখি, এবার তাহলে কি করব? কাজেই সকলের মনমত হওয়া সম্ভব নয়। কেউতো বিরোধী থাকবেই।
অবশেষে মডু আমার ‘সনেট কবি নিক’ নিরাপদ করে দিল। এখন নিরাপদে লিখছি। পাঠক পরামর্শে সাধারণ বিষয় নিয়েও সনেট লিখছি।
সম্ভবত নব্বই জন ব্লগার নিয়ে সনেট লেখা হয়েছে।তৈল অপরাধে এধারা অনেকে বন্ধ করতে চায়।কিন্তু আমি ১৬০ জন ব্লগারকে নিয়ে ৪৮০ সনেট লিখে তা’থেকে বাছাইকৃত ১৬০ বা তার কিছু কম সনেট নিয়ে ‘সনেট কাব্যে সামু ব্লগার’ নামে একটা মহাকাব্য লিখতে চাই। একই ব্লগের ব্লগারদের নিয়ে লিখার কারণে এটা মহাকাব্য হবে। আর বাংলা ভাষায় মহাকাব্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। কায়কোবাদও মহাকবি হয়েছেন। তিনি পানিপথের যুদ্ধ নিয়ে মহাকাব্য লিখেছেন।
যারা ব্লগারদের নিয়ে সনেট লিখেনা তাদের পোষ্টে তুলনা মূলক আমারচেয়ে মন্তব্য অনেক বেশী। তাতে কি প্রমাণ হচ্ছে আমি এ দিয়ে সুবিধা আদায় করছি? আমার মনে হয় সহ ব্লগারদের নিয়ে পোষ্ট না লিখলে আমি আরো বেশী মন্তব্য পেতাম। কাজেই সহব্লগারদের নিয়ে পোষ্ট দিয়ে উল্টো আমি আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি।তথাপি আমি তাদের নিয়ে লিখি তাদের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের উন্নয়নের জন্য। আর সেটা লোকের অপবাদ মাথায় নিয়ে নিজের ক্ষতি করে।
আমার সাধারণ পোষ্টও আলোচিত পাতায় যায় ব্লগারদের নিয়ে লেখা পোষ্টও আলোচিত পাতায় যায়।আবার উভয় পোষ্ট আলোচিত পাতায় যায়না। তাহলে এখানে আপত্তির কারণটা আসলে কি? আমি ব্লগারদের স্মৃতি সনেটে ধরে রাখতে চাই এখানে ভুলটা কোথায়? প্রত্যেক বিষয়ে ইতি নেতি দু’দিক থাকে। নেতি বাদ দিলে যদি ইতিও বাদ হয়ে যায় তবে তো দেখতেই হয় আমি আসলে কি করব?
আল্লাহ, ইসলাম, কোরআন, মোহাম্মদ (সা.), হানাফী মাযহাব, পীর, তাবলীগ ও মীলাদ অনেকে বেঠিক বলে; আমি এসব মানি বিধায় আমি এসব সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করি, তাতেও অনেকে দোষ ধরে বলছে আমি অন্যদের মত সঠিক প্রমাণ করছিনা কেন? আমার কথা হলো আমি যে মত মানি না সেমত আমি কেন সঠিক প্রমাণ করতে যাব? সেটা যারা মানে তারা না হয় সঠিক প্রমাণ করবে!
সর্বশেষ ভাবলাম খোঁচাখুঁচি যে যাই করে করুক আমি থাকব আমার মত।যতদিন ব্লগিং করার সুযোগ পাই ব্লগিং করব, বন্ধ করে দিলে তখন না হয় বসে বসে হাওয়া খাব।
উৎসর্গঃ সেইসব ব্লগার যারা আমার পোষ্টের পাঠক, মন্তব্য, লাইক ও প্রিয়তালিকা ভুক্তকারী, যারা আমাকে নিয়ে কষ্টকরে পোষ্ট প্রদান করেন ও যাদের আলোচনায় আমি থাকি।
বিঃদ্রঃ কিছু কথা চেপে গেছি। কারণ মানুষ সব কথা বলেনা। জনাব চাঁদগাজীর প্রতি অধীক মহব্বতের কারণ যখন আমার লেখা প্রথম পাতায় যেতনা তখন তিনি নিয়মিত আমার ব্লগে ঢুকে আমার পোষ্ট পড়ে মন্তব্য রেখে আসতেন। দূর্দিনের সেই হিতাকাংখির কথা কেমন করে ভুলা যায়?
শৈশবে বলদা গার্ডেনের পাশদিয়ে স্কুল যাওয়ার সময় কাঁঠাল চাঁপা ফুল বেগে ভরে নিয়ে যেতাম। এটা ছিল তখন আমার প্রিয় সখ। এ ছাড়াও গন্ধরাজ ফুল খুব প্রিয় ছিল।
আমার বিরুদ্ধেও অনেক পোষ্ট হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে করা পোষ্ট স্টিকিও হয়েছে। আমার মনে হয় আমি জনপ্রিয় থেকে বেশী অজনপ্রিয়। কিন্তু কি করব, জন প্রিয়তার জন্যতো মত বদলানো যায় না! দোষের কথা আর কি বলব, মানুষ সৃষ্টিকর্তাকেও দোষমুক্ত রাখেনি। আর শাসকেরতো পদে পদে দোষ!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


