somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানা

২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন ব্যতিক্রম চিত্র স্থাপন করতে পেরেছে সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানা। দীর্ঘ সময় আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক অডিটে বিগত অর্থবছরগুলোর চিত্রের সঙ্গে সর্বশেষ অর্থবছরের চিত্রের তুলনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সমপদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাই এ প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রার্থী। অধিদফতরের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানায় ৩৩১৯টি গাড়ি মেরামত করা হয়েছিল পাঁচ কোটি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে, সেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩৯৩টি গাড়ি মেরামতে ব্যয় করতে হয়েছে মাত্র দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া এসব মেরামত করা গাড়ির সচল পরীক্ষা করতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাত্র ৩ দশমিক ৮ লাখ টাকার জ্বালানি পুড়েছে। আগের তুলনায় কম ব্যয় ১৮ লাখ টাকা। রেকর্ড অনুসারে, শুধু পার্টস ক্রয় বাবদই সরকারকে প্রায় ৩ দশমিক ৫২ কোটি টাকা কম ব্যয় করতে হয়েছে। অপরদিকে খুচরা যন্ত্রাংশ, পেট্রল ও লুব্রিকেন্ট এবং পুল মিনিস্টোরের তেল খরচ খাত হতে ৪ দশমিক ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিসাব মতে, গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানা হতে সাত কোটি টাকা ও অন্যান্য খাত হতে আরও এক কোটিসহ মোট আট কোটি টাকা অপচয় হতে রক্ষা পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অবাক করার মতো অনেক কাণ্ডই এখানে ঘটেছে নিকট অতীতে। মামুলি ৮০০ টাকা বাজার দরের হুইল ক্যাপ এখানে ২০০ গুণ বেশি দামে কেনা হয় ১৬ হাজার টাকায়। ৫০০ টাকার এয়ার ফিল্টারের এখানকার সরকারি দর ৩৪০০ টাকা। ১৬ হাজার টাকার জিপ গাড়ির বাম্পার কিনতে সরকারি এ কারখানা পরিশোধ করে ৮১ হাজার টাকা। ১২০০ টাকায় লিটার প্রতি যে রং সারা দেশের ক্রেতারা কিনে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি-সরকারি এ কারখানা তা কিনত ৯ হাজার ৬০০ টাকায়। সাধারণ গাড়ি ব্যবহারকারীরা যে ইলেকট্রিক কন্ট্রোলবক্স ২৫ হাজার টাকায় কিনতে পারেন সেখানে তার জন্য কারখানাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। বাজারের সাড়ে ৮ হাজার টাকার টায়ার সরকারি মেরামত কারখানায় ঢুকলেই তার দাম হয়ে যায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। এরকম সব দরকারি পার্টস এবং মেরামতি আইটেমের দাম কয়েকগুণ ক্ষেত্র বিশেষ কয়েকশগুণ বেশি পরিশোধ করতে বাধ্য হতো এ সরকারি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে। সরকারি টাকা অপচয় রোধ করতে নজরদারি, শৃঙ্খলা ও সমন্বয় এ তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে সেবা বেশি দিয়েও টাকার খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। দেশের সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান যদি এমন হত তাহলে দেশের অবস্থা পাল্টে যেত। ধন্যবাদ সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানা কর্তৃপক্ষকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×