
মানুষ মানুষের জন্য, একথাটি যে সত্য তা আবারও প্রমান হল প্রচেষ্টার ‘সেভ ফুড হাঙ্গার’ শিরোনামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে। প্রচেষ্টার যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফ ভাটা ইউনিয়ন থেকে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মঈন উদ্দিন আকবরের এক বন্ধু অসুস্থ হয়ে গেলে গ্রামের সবার কাছ থেকে টাকা তুলে তাঁকে সুস্থ করে তোলা হয়। সেই থেকেই জন্ম হয় প্রচেষ্টার। মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া সংগঠনটির কার্যক্রম ২০০৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১০ সালে বড় পরিসরে চট্টগ্রাম শহরে শুরু হয় প্রচেষ্টার কার্যক্রম। ‘প্রচেষ্টার রয়েছে নিজস্ব প্রায় পাঁচ শ রক্তদাতা সদস্য। যাঁরা নিয়মিত মানুষের জরুরি রক্তের প্রয়োজন মেটান। বিভিন্ন জায়গায় বিনা পয়সার রক্তদান কর্মসূচি করে ডোনার সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরেও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণ করে সংগঠনটি।’ এসব নিয়মিত কাজের বাইরেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, ইফতারি, ঈদের পোশাক বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি। বিয়েবাড়ি কিংবা অন্য কোনো আয়োজনে বেঁচে গেছে খাবার। আয়োজকেরা হয়তো চাইছেন এই খাবারগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দিতে। অনুষ্ঠানের হ্যাপা সামলে খাবার বিতরণের সময় কোথায় তাঁদের! বিতরণে দেরি হলে আবার রয়েছে খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। শুধু একটি ফোনই দিতে পারে এর সমাধান! একটি নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে জানাতে হবে ঠিকানা ও বেঁচে যাওয়া খাবারের পরিমাণ। আর তাতেই ছুটে আসবে স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল। যাঁরা নিজ উদ্যোগে বেঁচে যাওয়া খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে দেবেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের হাতে। এ বছরের এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। প্রচেষ্টার ‘সেভ ফুড হাঙ্গার’ শিরোনামের এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা খাবার প্রায় দেড় হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। এভাবে মানুষ হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

