
বর্তমান বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় মাধ্যম (ফেসবুক। এ ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কে এখন যুক্ত রয়েছে বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ। Facebook এখন বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ওয়েবসাইট। যে Google ব্যতীত ইন্টারনেট কল্পনা করা যেত না, সেই Google-কে ছাড়িয়ে Facebook এখন শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক জিনিসই এখন হাতের নাগালে চলে এসেছে। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসের প্রচার রুখতে ফেসবুক এবার কৃত্রিম গোয়েন্দা মোতায়েন করতে চলছে। এজন্য ফেসবুকে আপলোডকৃত পোস্টগুলোতে নজরদারী করবে এই গোয়েন্দা। যে মুহূর্তে ফেসবুকে এই ধরনের কোন পোস্ট করা হবে, সেই মুহূর্তেই ফেসবুকের কৃত্রিম গোয়েন্দারা সে পোস্ট সরিয়ে দেবে। চাইল্ড পর্নোগ্রাফি’ রুখতে ইতিমধ্যেই ফেসবুকের এই ধরনের টুল আছে। বর্তমানে যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একের পরে এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব রয়েছে কি না তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রশ্নের উপযুক্ত জবাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান সংহত করতেই ফেসবুক এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত কোন পোস্টের বিরুদ্ধে কেউ রিপোর্ট না করলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার বিরদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিত না। কিন্তু এবার কৃত্রিম গোয়েন্দার নজরদারীর মাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত করে, তা ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেয়া হব। ছবি, ভিডিও বা কোনও লেখা-সহ যে সমস্ত পোস্ট সন্ত্রাসে আস্কারা দেবে, তা সবই ধরা পড়বে ফেসবুকের এই পদ্ধতিতে। তবে কৃত্রিম গোয়েন্দা হলেও, পোস্টগুলি সত্যিই সন্ত্রাসকে আস্কারা দেয়ার মতো কিনা, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন ফেসবুকের কর্মীরাই। সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অব্যাহত আগ্রাসনের লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেই। সুস্থ্য চেতনা কখনোই সন্ত্রা সকে প্রশ্রয় দেয় না, মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেই – তা এক আরও একবার প্রমাণিত হলো। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের এই ভূমিকা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক অশনি সংকেত আর শুভবুদ্ধির বিজয়েরই নজির। আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে অশুভ শক্তি পরাজিত হবেই – প্রয়োজন শুধু সময়োপযোগী উদ্যোগের।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




