আমি এই ব্লগ এ আসার পরে, প্রাইভেট ভার্সিটি নিয়ে অনেক ইতিবাচক বা নেতিবাচক পোস্ট পরেছি। কখনো কখনো প্রাইভেট বনাম পাবলিক নিয়ে দ্বন্দ্বও দেখেছি।এমনও আমি অনেক কে শুনতে দেখি যারা কোন রকম বাছ বিচার না করেই বলে যে , যারা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পরে তাদের নাকি মেধা নাই। আমি আজকে যাদের প্রাইভেট ভার্সিটি নিয়ে একটু ভুল ধারনা আছে, তাদের ভুল ভাঙ্গানোর জন্য কিছু তথ্য দিতে চাই।
শুরুতেই বলে নেই যে আমিও একজন প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্র। তবে এটা ভাববেন না যে আমি প্রাইভেট ভার্সিটির তরফদারি করার জন্য এই পোস্ট লিখছি। আমি শুরুতেই মেনে নিচ্ছি যে, প্রাইভেট ভার্সিটির অনেক সিমাবদ্ধতা আছে।আর সকল প্রাইভেট ভার্সিটির মানও সমান নয় এটাও সত্য। তবে আমি এখানে কিছু সত্য তথ্য বলতে চাই, যেন আপনার নিজেরাই ব্যাপারটা বিচার করতে পারেন।
আমি Stamford University থেকে আইন এর উপর মাস্টার্স শেষ করার পথে।এখন শুধু থিসিস এর কাজ বাকি। আমি আমার বিভাগের কথা বলতে পারি, যেহেতু অন্য বিভাগে আমার পরিচিত কেউ নেই। আমি যেই অভিযোগগুলো বেশি শুনি ,তা হল পরা-লেখার মান নিয়ে। এখান আমার বলার আছে। আমাদের বিভাগের ৯০% শিক্ষক ঢাকা ভার্সিটির।আমি সরকারি ছাত্র আর শিক্ষকদের উপর প্রচুর সন্মান রেখেই বলছি, সরকারি শিক্ষকরা তাদের ভার্সিটির ছাত্রদের ঠিক ভাবে না পরিয়ে বেশি টাকার আশায় প্রাইভেট ভার্সিটিতে আসেন, এতে ছাত্ররাই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তো তারা আমাদের যে লেকচার দেন তা তো আর ফেলনা কোন বিষয় না। তারা আমাদের যেই বইগুলো বা রেফারেনছ দেন তা সরকারি যেকোনো ভার্সিটির মানের মতই।
এবার আসি গ্রেড নিয়ে। অনেকে বলেন যে প্রাইভেট ভার্সিটির একটা ব্যাচে নাকি সবাই এ্ + পায়। এই কথা চরম ভুল। আমি উদাহরন দেই আমি যখন অনার্স পড়তাম তখন আমার ব্যাচে ৫৭ জন ছাত্র-ছাত্রি ছিল।তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন ছাত্র-ছাত্রির রেজাল্ট ছিল খুবই ভালো, জি পি এ ছিল সাড়ে ৩ এর উপরে। তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমার ছিল ৩.৭২। আর বাকি সবার রেজাল্ট ২ এর নিচে বা কোনমতে ৩। আবার যখন মাস্টার্স এ আসি তখন ক্লাস জুড়ে শুধু একজন বা দুইজন সাড়ে ৩ এর উপর যেতে পেরেছে, বাকি সবার অবস্থা খুব খারাপ।আমার ও একি অবস্থা। ৩ উঠলেও উথতে পারে।সবাই যদি এ + পেত তাহলে এবার আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম।
সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ তা হল প্রাইভেট ভার্সিটির ছেলেদের মাথায় নাকি ঘেলু নাই। তারা নাকি কিছুই জানে না। কথাটা ডাহা মিথ্যা। আমি উদাহরন দিলেই আপনাদের কাছে কিছুটা পরিস্কার হবে। আমি আগেই বলেছি যে আমার ব্যাচে ছাত্র-ছাত্রি ছিল ৫৭ জন। আপনারা যারা জানেন না তাদের উদ্দেশে বলি আমরা যারা এডভোকেট হবো তাদের বার কাউঞ্চিল এর পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পাবলিক পরীক্ষার মত, বলতে পারেন বি সি এস পরীক্ষার মত। লিখিত হয় ১০০ নম্বরের।৬টা বিষয় এর পুরো বই পড়তে হয়।সমইয় থাকে ৪ ঘণ্টা। সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০০০-৬০০০ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে অবশ্যই সরকারী ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রি থাকে। তো কি পরিমান প্রতিযোগিতা সেটা বুজতেই পারছেন। এই পরীক্ষায় আমাদের ব্যাচের ৫৭ জন ছাত্র-ছাত্রির মধ্যে ৩০ জন এই পরীক্ষা দিয়ে এখন এডভোকেট হয়ে গেছে। যদি তাদের মাথায় ঘেলু না থাকতো তাহলে এই পাবলিক পরীক্ষায় টিকতেই পারতো না। এই পরীক্ষায় তো ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রি ও অংশ নেয়, এবং তাদের সাথে লড়াই করেই অই সার্টিফিকেট নিতে হয়। তাহলে কন অর্থে আমাদের ঘেলু কম? আপনারাই বলেন?
আরেকটা ছোট্ট উদাহরন দিয়ে আমি আমার এই পোস্ট শেষ করব। আমার এক বন্ধু নরথ-সাউথ ভার্সিটি থেকে বিবিএ পরে ব্রাক ব্যাংক এ প্রায় ৮০ হাজার টাকার চাকরি করে, আরেক পরিচিত এক বড় ভাই আমাদের Stamford University এর বিবিএ পড়ে HSBC ২৫ হাজার টাকা starting salary নিয়ে ঢুকছে, আর সেই খানে আমার এক বন্ধু বুয়েট থেকে সিভিল পড়ে ২ বছর চাকুরী করে এখন ২২ হাজার টাকা পায়। আমি এটা বলে কাউকে ছোট করতে চাইছি না, শুধু বলতে চাইছি প্রতিষ্ঠান যেমনি হোক একজনের মেধা আর কাজে একাগ্রতা থাকে তার সফলতা আটকানো মুশকিল।
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন, এবং ঢালাও ভাবে প্রাইভেট ভার্সিটির student দের অবহেলা করা বন্ধ করবেন। ধন্যবাদ।
বি।দ্রঃ এই পোস্ট কাউকে ছোট করার জন্য লেখা নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




