somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্যারানরমাল একটিভিটি : বাস্তব অভিজ্ঞতা ১

২৪ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমি আমার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অদ্ভুত ঘটনা শেয়ার করবো যার ব্যাখ্যা আমি আজো খুজে পাইনি।

সাল ২০০২। তখন আমরা মোহাম্মাদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং লিমিটেড এ থাকি। আমার বাবা তখন একটা ট্যুর এ ঢাকার বাহিরে গেছে। ইঞ্জিনিয়ার হবার সুবাদে প্রায়ই তাকে ঢাকার বাহিরে যেতে হত। তখন ঢাকা অনেক ফাঁকা ছিল। এতো লোকজন ছিল না। বাসায় তখন আমার বড় ভাই, আমি, আম্মা আর আমার ছোট বোন আর দুইটা ছোট কাজের মেয়ে। বড় ভাই তখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টার এ । আমি কেবল এস.এস.সি দিয়েছি আর আমার বোন ২ কি ৩য় ক্লাস এ পড়ে। বাসাটা ছিল বিশাল। তো রাতের খাবার পর আমরা সবাই একঘরে থাকব বলে মনস্থির করলাম। ওই ঘরটা মাস্টার বেডরুম। শুয়ে পরার আগে আম্মা দুই কাজের লোক কে রান্না ঘরে রেখে দরজা বাহির দিক থেকে লাগিয়ে দিয়েছিল। শুনতে হয়ত একটু খারাপ লাগবে, কিন্তু এই ছাড়া কোন উপায়ও ছিল না। কারণ, কাজের ছোট দুই মেয়ের পালিয়ে যাওয়ার একটা ব্যাপার জড়িত ছিল আর তখন বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা এখনকার মত এতো মজবুত ছিল না। তো শুয়ে পরার আগে আম্মা মাস্টার বেডরুম এর দরজাটাও ভেতর দিক দিয়ে লক করে দিয়েছিল। শুয়ে পরলাম একসময়। আমি আর ভাইয়া নিচে, আর আম্মা আর আমার ছোট বোন খাটে। তখন রাত কয়টা বাজে ঠিক মনে নাই, আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি প্রথমে বুজতে পারলাম না কেন ঘুম ভাঙল। তারপর দেখি মাস্টার বেডরুম এর দরজাটা কেউ একজন প্রচণ্ড শক্তিতে ঠেলতেসে। লক করা ছিল, তারপরও দরজার নীচের দিকটা ফাঁক হয়ে যাচ্ছিল। আমি কথা বলার শক্তি হারায় ফেললাম। আস্তে করে ভাইকে ডাকলাম। যখন ভাই উঠলো তখন কিছুক্ষণের জন্য ধাক্কানো বন্ধ হল। ভাই উঠেই তো আমাকে ধমক দিল। কিন্তু তারপর আবার, এইবার মনে হচ্ছিল দরজা ভেঙে ফেলবে। ভাই আর আমি তো ভয়ে আম্মাকে ডাকলাম। আম্মা উঠে ভয় পেল এই ভেবে যে, মনে হয় চোর বা ডাকাত এসেছে। তো কি করা যায়। তখনো ধাক্কানো চলছিল। আম্মা ,আমি আর ভাই সবাই দোয়াদরুদ পড়তে শুরু করলাম। তার ১০-১৫ মিনিট পর ধাক্কানো বন্ধ হল। এরপর আমি আর ভাই সাহস করে দরজা খুললাম। হাতে একটা ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়েছিলাম যেটা মাস্টার বেডরুম এর সাথে লাগানো রেলিং এ রাখা ছিল। তো বাহিরে বের হয়ে দেখি যে সব কিছু নরমাল, মেইন দরজা ঠিক আছে, রান্না ঘরের দরজা আম্মা যেভাবে বন্ধ করছিলো ওইভাবেই আছে। আমরা রান্না ঘরের দরজা খুললাম। ছোট মেয়ে দুটো কে আমরা আর ডাকি নাই। তবে দরজা খুলেই রেখেছিলাম। রুম এ এসে সারারাত আর ঘুমাই নাই। Nat-west series এ England VS. India র মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ হচ্ছিল তাই দেখে কাটিয়ে দিলাম।

১১টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×