somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহা শৈশব! ক্রিকেট অথবা আমের গল্প!

১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব
আম কাহিনিঃ বাঙালী ক্রেতা বনাম সুন্দরী থাই আম বিক্রেতা!

ক্রিকেট অথবা আমকাহিনি ২ঃ কট বিহাইন্ড

আজকাল একটু গরমেই হাসফাঁস অবস্থা হয়ে যায়। একটা সময় ছিল যখন মাথার উপর রেগে আগুন সূর্য্যিমামাকে রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা ক্রিকেট খেলতাম। এমন সময়টায় মাঝে মাঝেই ঝড়-বৃষ্টি বা কালবৈশাখি শুরু হয়ে যেত। ঝড়ে আম কুড়ানোর কিশোর অ্যাডভেঞ্চার পরিণত বয়সে এভারেস্ট পাড়ি দেয়ার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর না। ঝড়ের সময় বেশিরভাগ লোকজন যেখানে দৌড়ে বাড়িঘরে গিয়ে আশ্রয় নিত সেখানে আমরা মাঠের পাশে সুবিধাজনক আমবাগানের নিচে পজিশন নিতাম। ঝড়ের দিনে মামাবাড়ি আমকুড়াতে সুখ! রাজশাহীতে রুয়েট ক্যাম্পাসটা একরকম মামাবাড়িই ছিল আমাদের। আর সেই মামাবাড়ি ছিল আম,লিচু আর জাম বাগানে ভরা। এক ঝড়ের দিনে আমরা ৫/৬ জনের দল গিয়ে বড়সর এক আমগাছের নিচে ঘাঁটি গাড়লাম। একজন দুজন পিচ্চি ছিল সেখানে। এত লোকের মাঝে আম কুড়িয়ে সুবিধা করতে পারবে না দেখে তারা অন্যদিকে চলে গেল। আম পড়তে শুরু করল একটা দু'টো করে। ঝাঁপিয়ে,মাটি কাঁপিয়ে আম কুড়াতে লাগলাম। এর মধ্যে হঠাৎ দেখি আমাদের এক দোস্ত বজলু উধাও। আশপাশ কোথাও নাই। কোথায় গেল সে? হঠাৎ মাথার উপর শোনা গেল বজলুর আওয়াজ , 'এই তোরা ক্যাচ ধর'। বলেই সে গাছ থেকে টপাটপ আম নিচে ফেলতে লাগল। যেহেতু কোন আম কখন পড়বে জানাই ছিল তাই বাতাসের শক্তি বনাম আমের শক্তির লড়াই নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাতে হরো না। মাটি কামড়ে ছুটে যাওয়া আম ধরার জন্য দৌড়াদৌড়ি,ঝাঁপাঝাঁপিও করতে হলো না। অতি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে আমরা আম দিয়ে ক্যাচ প্র্যাকটিস করতে তথা আম কুড়াতে লাগলাম। একটা ব্যাগও ভরে গেল সেই আম দিয়ে। ঝড়টা মোটেও শক্তিশালী ছিল না। এমন ছোটখাট ঝড়ে আমাদের ব্যাগ ভর্তি আম দেখে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আমকুড়ানি ছেলের দল। তাদের অবিশ্বাসী,ঈর্ষাকাতর দৃষ্টিকে অগ্রাহ্য করে আমরা বাড়ির পথে হাটা ধরলাম।

ক্রিকেট অথবা আমকাহিনি ৩ঃ হিটিং ম্যাংগো সিক্স

আমরা যখন মাঠে ক্রিকেট খেলতাম স্কুলের দারোয়ান চাচা প্রায়ই আমগাছের দায়িত্ব আমাদের দিয়ে চলে যেতেন। আমরা খুবই নিষ্ঠা ও দায়িত্ব নিয়ে আমগাছের দেখাশোনা করতাম। মাস্তান বড়ভাই ছোটবোনদের যেভাবে আগলে রাখে তেমনি আমরাও বাইরের পোলাপানদের আমগাছে লোভী দৃষ্টির প্রতি তীক্ষ্ণ খেয়াল রাখতাম। স্কুলের আমগাছ ছিল যেন নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি! খেলায় একটা নিয়ম ছিল আমাদের, ব্যাটসম্যান বল মেরে আম ফেলতে পারলে ডাবল ছক্কা অর্থাৎ ১২ রান হবে কিন্তু দারোয়ান চাচা দেখে ফেললে আউট। শুধু তাই না তখন বেচারা ব্যাটসম্যানকে সরি বলে আমটাও দিয়ে আসতে হত। আমগুলা বড় হলে আবার স্কুলের সবাইকে ভাগ দেয়া হত। তখন ছেলেমেয়েদের শুনিয়ে স্যার বলতেন,ওরা সারাদিন ক্রিকেট খেলে আর আমগাছ পাহারা দেয়। এই আমের জন্য শাহরিয়ারদের থ্যাংকস দিয়ে দিস তোরা সবাই! আমাদের সাথে যেহেতু বালিকারাও পড়ত তখন খুশিতে আর ভাবে আটখানা নয়খানা হয়ে যেতাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৩১
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওমেগা-৬ বনাম ওমেগা-৩

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:১৩

Image source

আমি সকালে ওটমিলের এর সাথে ঘটা করে ফ্লেক্স (তিসি?)ও চিয়া সীড মিশিয়ে খাই কেননা এই দুই সীড এর আছে সবচেয়ে বেশী ওমেগা -৩ ফ্যা টি এসিড যেটা আমাদের শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। হকের বিস্কিট

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:২৯






খুব শখ করে এই চকোলেট বিস্কিট খেতাম । গত সপ্তাহ থেকে এর সাথে হকের সব বিস্কিট উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে । হকের মালিক এখন রিহ্যাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গড'স প্লান।

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩







সৃষ্টিকর্তায় আপনি বিশ্বাস করে থাকলে,উনি আপনাকে নিয়ে পার্সোনালী ভাববেন এবং উনার মর্জি অনুযায়ী প্লান করে রাখবেন ভবিষৎের জন্য,যা আপনি সময়ের ব্যবধানে হয়তো বুঝতে পারবেন, হয়তো পারবেন না- এই বিশ্বাস আপনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুই আমারে এই জীবনে সুখে থাকতে দিলি না রে || অনেক দিন পর একটা নতুন গান করলাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:১৮

তুই আমারে এই জীবনে সুখে থাকতে দিলি নারে
তোর প্রেমেতে জ্বলে পুড়ে ছাই করলাম এই দেহটারে
ও আমার সহেলিয়া
ধুঁকে ধুঁকে আজো আমি বেঁচে আছি তোর লাগিয়া

সখীগণরে সাথে লইয়া
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াস
কলকলাইয়া ঢেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এটা কি আহাম্মকী নয়?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:৩৯


দেশে কিছু একটা দুর্ঘটনা ঘটার পর, গণ্ডগোল হওয়ার পর যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে হৈচৈ কিংবা সমালোচনা হয় তখন পুলিশ এসে হুট করে নিজেদের পারফর্মেন্স শো করতে বা নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×