somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আম কাহিনিঃ বাঙালী ক্রেতা বনাম সুন্দরী থাই আম বিক্রেতা!

০৩ রা জুন, ২০১৭ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা স্কলারশিপ নিয়ে একবার থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম। আমাদের ইউনিভার্সিটির খুব কাছেই ছিল তালাত থাই মার্কেট । এশিয়ার অন্যতম বড় সবজি,ফল ও ফুলের বাজার। আমের মৌসুমে আমের খোঁজে সেখানে গেলাম একদিন সহপাঠিরা দল বেধে। মার্কেটের বিক্রেতাদের প্রায় সবাই মেয়ে, বেশিরভাগই সুন্দরী তবে ইংরেজি জ্ঞানহীন মূর্খ মানবী একেকজন। তাই তাদের কাছে জানারও উপায় ছিলনা এত বড় বাজারে কোথায় আছে আম। তাই খোঁজ দ্যা সার্চ অভিযান চালাতে হলো নিজেদেরই। রীতিমত গরুখোজা শেষে অবশেষে আমরা পাইলাম, ইহাকে পাইলাম। তবে ইহাকে পাইলেও কিনিতে গিয়া বুঝিলাম যে এখানে বাঘের চোখ পাওয়া সম্ভব হইলেও আম কেনা সহজ হইবে না । জানা গেল পাইকারী বাজার বিধায় এখানে ২০ কেজির কম আম নেয়ার সুযোগ নাই। আম টক না মিষ্টি জানারও উপায় নাই। আমার দেশে না হয় কেটে খেয়ে দেখা যায়। যাই হোক নো রিস্ক নো গেইন। এসেছি যখন আম আজ কিনেই ছাড়ব। আম বিক্রেতা এক বুড়ি। তার কাছে থাই ছাড়া বাকি সব ভাষা হিব্রুভাষা সমতুল্য। যাহা বাংলা তাহাই ইংরেজি।
'কি আম?' হাসান জানতে চাইল শুদ্ধ বাংলায়?
জবাবে বিচিত্র কয়েকটা শব্দ শুনলাম। আমরা নিজেদের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলাম। আমাদের কাছেও থাইভাষা হিব্রু সমতুল্য।
আমি একটা আম ছুরি দিয়ে কেটে দিতে বললাম তাকে। মুরাদ নিজের আঙুল ছুরি বানিয়ে আমের উপর পোজ দিয়ে বোঝাতে চাইল ব্যাপারটা । এটা দেখে মুরাদের হাত থেকে বুড়ি আম নিয়ে নিলেন। হয়তো ভাবলেন আমরা কোথাকার কোন আবুলের দল যারা ছুরি দিয়ে কেটে খেতে হয় তাই জানেনা।হতাশ হয়ে আমি একটা আম নিয়ে চুষে খাবার ভঙ্গি করতে চাইলাম। পরে এই পদ্ধতি বাদ দিলাম। পিছনে আবার বুড়ির সুন্দরী নাতনী বই নিয়ে বসে আছে। ঈভটিজিং এর ফ্যাকড়ায় পড়লে মহাবিপদ হবে এখানে । সবে মাত্র আমরা তখন থাই ভাষায় 'খাপ কুন খা' অর্থাৎ 'আপনাকে ধন্যবাদ' এই একটা বাক্যই শিখেছিলাম। মাইর খেয়ে থাই ভাষায় তাদেরকে ধন্যবাদটাই শুধু বলতে পারব।
বুড়ি একটু পর নাতনিকে সামনে ডেকে আনল। এতে আমরা সবাই ব্যাপক খুশি হলাম। মেয়ে যেহেতু পড়াশোনা করে তখন তার একটু আধটু হলেও তো ইংরেজি জানার কথা। এহসান ভাব নিয়ে শুরু করল, 'হাউ সুইট!' আড়চোখে তাকালাম আমরা ওর দিকে। মেয়েটাকে বলল নাকি আম কেমন মিষ্টি জানতে চাইল বোঝা গেল না। হাসান প্রশ্নটা বাংলা ইংরেজির খিচুরি দিয়ে আরেকটু ক্লিয়ার করল, 'ম্যাংগো হাউ সুইট,মানে আম কি মিষ্টি?'
হা করে চেয়ে থাকলো অবুঝ তরুণী।
সুন্দরী বিক্রেতার আবির্ভাবে উদ্দিপনা উপচে পড়ছিল তরুণ বাঙালী ক্রেতাদের। হাত,পা মাথা,মুখ,জিহবা একসাথে ব্যবহার করে আমরা তরুণীকে জানানোর চেষ্টা করলাম আমাদের চাহিদা। আফসোস! আমাদের সব চেষ্টা ব্যথ'। তরুণী অবুঝই রয়ে গেল। আমাদের অসহায়ত্ব ততক্ষনে তরুনীর মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। আমাদেরকে বোঝার প্রাণপন চেষ্টা করছিল। একসময় মেয়ে ম্যাংগো,সুইট শব্দগুলো বুঝতে সক্ষম হলো । হতাশার অন্ধকার ভেদ করে এক চিলতে আশার আলো দৃশ্যমান হলো। হাজার হলেও পড়ুয়া মেয়ে। নানীর মত মূর্খ না।
মেয়েটা হঠাৎ দৌড়ে ক্যালকুলেটর আনতে ছুটল। আমাদের অঙ্ক শেখাবে নাকি! ২০ কেজি আমের দাম ঝুড়িতেই লেখা আছে। ২০ কেজি আমের দাম এত হলে ১ কেজি আমের দাম কত? সুন্দরী বিক্রেতার কাছে ঐকিক নিয়ম শিখে নিলাম।
অঙ্ক শেখা শেষে আমি জানার চেষ্টা করলাম, চিনির মত মিষ্টি হবে কিনা? 'আর দিজ ম্যাংগো লাইক স্যুগার?'
স্যুগার শব্দটা হয়তো বুঝল মেয়ে কিন্তু দোকানে আম ছাড়া যে সুগার টুগার কিছু বিক্রি হয় না জানিয়ে মাথা নাড়ল । বলল, 'নো সুগার হ্যাভ।'
শেষে মেনটস্ খেয়েই কিনা জানিনা মুরাদের দিমাগ কা বাত্তি জ্বলে গেল। আমাদের ইউনিভার্সিটির থাই প্রোগ্রাম অফিসার মিস ক্লুয়ামাইকে ফোন দিয়ে আমাদেরকে এহেন বিপদে সাহায্য চাইল। প্রব্লেম সল্ভড্। দোভাষীর দায়িত্ব নিয়ে আমাদের আম কিনে দিলেন তিনি। অন্যের সহযোগিতা নিয়ে আম কেনার সুকঠিন পরীক্ষায় পাশ করলাম। বাসায় এসেই আমের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম সবাই মিলে। বিদেশি আম, না জানি কত রস তার!
প্রিয় পাঠক, আমগুলো কেমন ছিল জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না। যেমনই হোক আমগুলো কিনে আমরা কিন্তু মোটেও হতাশ হইনি সেদিন। আমগুলো যেমনই হোক তবু তা মিষ্টি মেয়ের আম! অনেক সাধের সে আম!!

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৭ রাত ২:৫৩
২০টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×