
বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছি কিছু বিষয় নিয়ে লিখবো। অফিস আর একাডেমিক কাজের চাপে আর লিখে উঠতে পারছিলাম না। আজ নিজের কাছ থেকে কিছু সময় ধার করে নিয়ে লিখতে বসলাম। জানি, লিখে আসলে কিছুই হবে না। তারপরও যেহেতু আমরা কী-বোর্ডের মাধ্যমেই দেশ উদ্ধার করা শিখে গেছি, তাই .......
আমারা, মানে পুরুষরা আসলে মানুষ না। কেবলই পুরুষ হয়েছি। তার সাথে একটা বিশেষণ যুক্ত করে “বীর্যবান পুরুষ” বললে মোটেও খারাপ দেখাবে না। আমাদের বীর্য মাঝে মাঝে অণ্ড থলি হতে মাথায় উঠে যায়। তাই আমাদের হাত থেকে রেহাই পায়না ৬/৭ বছরের শিশুও।
গত শুক্রবার ঢাকার মহাখালীতে বাসের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন পোশাক শ্রমিক কর্মী। কয়েকমাস আগে মানিকগঞ্জে বাসের মধ্যে ধর্ষিত হয়েছিলেন আর এক নারী। আজ খবরটি পড়ে মোটেও অবাক হইনি। পাশের দেশেই যখন এসব ঘটনা ঘটছে তখন এসব আমাদের দেশে না হলে তাল মেলাবে কী করে?
বেশ কয়েকমাস আগে কুষ্টিয়ায় ৬ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণের পরে মেরে ফেলে ধর্ষক। খবরটি দেশের পত্রিকাগুলো ছাপালেও পরবর্তীতে ধর্ষকের শাস্তি হয়েছিলো কি না সে বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন আমি এখনও দেখিনি। আসলে ধর্ষকের কি হলো না হলো এটা মুখ্য বিষয় না তাদের কাছে। তারা ধর্ষণের খবর ছাপালেই হিট বাড়বে, বাড়বে রেটিং- এটাই তাদের কাছে মুখ্য।
গত শুক্রবারেই ভোলায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে তারই চাচাতো ভাই। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। তীব্র ব্যথায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাঁদছে শিশুটি। তারপরও মিলছে না সুচিকিৎসা। অসহায় মা তার পাশে বসে কাঁদছেন আর ছোট্ট মেয়েটিকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। শিশুটির অপরাধ সে ধর্ষিতা। হয়ত সে নিজেও জানে না ধর্ষণ কি। তার উপর সমাজ সিল মেরে দিবে সে ধর্ষিতা। তাই সে না পাচ্ছে চিকিৎসা, না পাচ্ছে আইনি সহায়তা। দায়িত্বরত ডাক্তার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- বিষটি যেহেতু ধর্ষণের তাই আইনি ঝামেলা না মেটা পর্যন্ত তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে না। তার এই বক্তব্য পড়ে ভাবছিলাম- তার আপনজন যেন কখনও ধর্ষিত না হয়।
এ ঘটনাটিও চাপা পড়ে যাবে। হয়তো এটি নিয়ে কয়েকটি মানব বন্ধন হবে। এর বেশি কিছুই নয়। এতেই আমাদের দায় মিটে যাবে। কিন্তু যে শিশুটি কিংবা নারী ধর্ষিত হলেন তার কি হবে? আমাদের সমাজে যে ধর্ষিতার জন্য কোন ঘর নেই।
সমাজে খুব কম লোকই আছেন যারা একজন ধর্ষিতাকে জীবন সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন। বাকীরা নাক সিটকান। আর যাই হোক না কেনো, বউ হওয়া চাই আনকোরা। পিওর ভার্জিন। একটা সম্পর্ক কী শুধু ঐ যৌনাঙ্গের জন্যই? যদি তাই হবে তাহলে বাজার থেকে সেক্স টয় কেন কিনছে না আমাদের পুরুষরা?
ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘প্রলয়’-এ দেখেছিলাম ধর্ষিতা নারীরা কীভাবে সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে এসেছিলো। সমাজও তাকে সসম্মানে গ্রহণ করে নিয়েছিলো। স্বপ্ন দেখি আমাদের সমাজও নারীকে শুধুমাত্র ঐ হাইমেন পর্দার জন্য মূল্যায়ন করবে না। মূল্যায়ন করেব মানুষ হিসেবে।
এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি।
বর্তমান সময়ে নাস্তিকতা একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবি করছেন তাদের মাঝে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আদতে কেউ নাস্তিকই না। তারা ধর্ম বিদ্বেষী। ধর্ম বিদ্বেষী আর নাস্তিকতা এক জিনিস না। নাস্তিকতা মানে বিভিন্ন ধর্মকে কটূক্তি করা বা ধর্মাবলম্বী লোকদেরকে গালিগালাজ করা না। আপনি যেহেতু কোন কিছুতেই বিশ্বাস করছেন না সেহেতু আপনি নাস্তিকতার প্রচারণাও চালাতে পারেন না। কেননা নাস্তিকতা কোন ধর্ম না। অবশ্য এদের সুবিধা করে দিচ্ছে আমাদের কাঠ মোল্লারা।
এইসব ফ্যাসনেবল নাস্তিকরা আবার নিজেদেরকে মুক্তমনা বলে দাবি করেন। আপনি যদি সত্যিই মুক্তমনা হবেন তাহলে আপনার মনে এতো বিদ্বেষ কেনো ভাই? আপনার মুক্তমনার সত্যতা ‘সানি লিওন এখনও ভার্জিন’ এর মতোই সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




