বিশ্ব-মুসলিম উম্মাহর আত্মঘাতী ব্যাধি ও তার চিকিৎসা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
এক নিদারুণ করুণ পরিণতির দিকে আমরা প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে চলেছি। যা প্রকৃত জ্ঞানীদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। আর তথাকথিত জ্ঞানী বুদ্ধিমান বুদ্ধিজীবীরা অবলীলাক্রমে দুনিয়ার আনন্দ-প্রহসন নিয়ে মেতে আছেন। মেঘে মেঘে যে বেলা হয়ে যাচ্ছে আমরা সেদিকে কোন খেয়াল না রাখলেও একদিন দেখা যাবে বেলা ঠিকই ডুবে গেছে। সে বেলা আর কোন দিনই উঠবে না। তাই সকলে সাবধান!
এই পরিস্থিতি থেকে যদি উত্তরণ সম্ভব না হয়, তাহলে দেখা যাবে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব জুড়ে ইহুদি-নাসারাদের উল্লাস ধ্বনির মধ্যে মুসলিম উম্মাহর আর্তচিৎকার অতলে তলিয়ে গেছে। বিজ্ঞ সম্পাদক সাহেব অদূর ভবিষ্যতের এই নিশ্চিত পরিণতি থেকে উদ্ধারের জন্য বলেছেন_ মুমিনের একমাত্র হাতিয়ার আল্লাহর রহমতের কোলে আত্মসমর্পণ। মুমিনের আশ্রয়স্থল আল্লাহ তায়ালার একান্ত রহমতের পরশ।
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, তিনি মুমিনের কথা বলেছেন, সাধারণের কথা বলেননি। সুতরাং, এই নিশ্চিত ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই মুমিন হতে হবে।
সুধী পাঠক সমাজে আমার প্রশ্ন, ১. মুমিন কারা? ২. আল্লাহর এই রহমত বলতে কি বুঝায়? ৩. রহমতের কোলে আত্মসমর্পণ বলতে কি বুঝায়? ৪. কিভাবে এই আত্মসমর্পণ করতে হয়?
শুধু মুখে গাল ভরা বুলি আওড়ালে হবে না। বাস্তবতায় আসতে হবে। সমুদ্রের মধ্যে নামতে নামতে যদি কেউ বলে আল্লাহ আমাকে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা কর! আল্লাহ কেন রক্ষা করবেন? মহান আল্লাহপাক তো বলেই রেখেছেন, যে নিজেকে সাহায্য করে, আমি তাকে সাহায্য করি। তাই মহান আল্লাহাপাক বলেন, 'কল্যাণ যা তোমার হয় তা আল্লাহর তরফ থেকে আর অকল্যাণ যা তোমার হয় তা তোমার নিজের কৃতকর্মের কারণে।' (সূরা নিসা-৭৯)
তাই মহান আল্লাহপাকের নিকট আশ্রয় পেতে হলে, কল্যাণ পেতে হলে, অবশ্যই আমাকে প্রথমে মু'মিন হতে হবে। আর প্রকৃত মুমিন তো তারাই যাদের কলব আল্লাহর স্মরণে কম্পিত হয়, আল্লাহর আয়াত তেলাওয়াতে যাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, যারা মহান আল্লাহপাকের উপর নির্ভরশীল হয়, যারা সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে' (সূরা আনফাল- ২,৩) মু'মিনরাই আল্লাহর রহমত লাভ করে। এখন জানতে হবে আল্লাহর এই 'রহমত' কি? মহান আল্লাহপাক আমাদের মধ্যে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করে বলেন, অর্থাৎ হে রাসূল! আমিতো তোমাকে যাবতীয় সৃষ্টির জন্য আমার তরফ থেকে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি' (সূরা আম্বিয়া-১০৭) তাহলে দেখলাম আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হওয়ার অর্থ রাসূল প্রাপ্ত হওয়া। এখন জানতে হবে এই রাসূল কে? আমরা জানি রাসূল বলতে মা আমেনার গর্ভে আব্বা আব্দুল্লাহর ঔরসে যে আলোকিত ছেলে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, যিনি ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন, মদীনা শরীফে মসজিদে নববীর পাশে যার রওজা মোবারক আছে। আসলে তিনি ছিলেন মানুষ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি ছিলেন দৃশ্যত আমাদের মতই একজন মানুষ। তাই কাফিররা বলতো, 'এ কেমন রাসূল যে আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে, তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারীরূপে'। (সূরা ফুরকান-৭) তারা আরও বলতো আমরা তোমাকেতো আমাদের মত মানুষ ব্যতীত কিছুই দেখছি না, আমরা তো দেখছি তোমার অনুসরণ করছে তারাই, যারা আমাদের মধ্যে অধম।' (সূরা হুদ- ২৭) তারা দেখেছে মানুষ মুহাম্মদকে, তারা রাসূল মুহাম্মদকে দেখেনি। রাসূল মুহাম্মদকেই আল্লাহর তরফ থেকে মহান আল্লাহপাক রহমত হিসেবে যাবতীয় সৃষ্টির জন্য প্রেরণ করেছেন। তাই, একদিন হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নেক আমল কি আমাদেরকে ঐ কঠিন দিনে নাযাত দিতে পারবে? হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, 'না'। তিনি আরও বললেন, আমার নেক আমলও আমাকে নাযাত দিতে পারবে না, যদি না আমিও আল্লাহর রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত হই।' এই রহমত ছিল রাসূল মুহাম্মদ। সুতরাং মানুষ মুহাম্মদকেও রাসূল মুহাম্মদ প্রাপ্ত হতে হয়, যদি নাজাত পেতে হয়। কলেমা শাহাদাতে আমরা পড়ি আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ অহদাহু লাশারীকালাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।' অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই তিনি এক অদ্বিতীয় তার কোন শরীক নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। এই বান্দা ও রাসূলই মানুষ মুহাম্মদ আর এই রাসূল মুহাম্মদই আল্লাহর তরফ থেকে যাবতীয় সৃষ্টির জন্য প্রেরিত রহমত। যদি আমি বাঁচতে চাই, তাহলে আমাকে এই রহমত প্রাপ্ত হতেই হবে। মানুষ মুহাম্মদকে পাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। যা সাহাবা রা.গণের ছিল। কিন্তু রাসূল মুহাম্মদকে পাওয়ার সুযোগ প্রতিটি সৃষ্টির জন্য ছিল, আছে বরং থাকবে চিরকাল। কারণ তিনিই তো যাবতীয় সৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহপাকের তরফ থেকে রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তারই ওসিলায় যাবতীয় সৃষ্টি সৃষ্ট হয়েছে এবং তারই ওসিলায় প্রতিপালিত হচ্ছে ও হবে। এবার আলোচনা করবো, রহমতের কোলে আত্মসমর্পণ বলতে কি বুঝায়? এর অর্থ নিজেকে সম্পূর্ণভাবে রাসূল মুহাম্মদে সমর্পণ করা অর্থাৎ রাসূল মুহাম্মদ প্রাপ্ত হওয়া। নিজের যাবতীয় ধন-সম্পত্তি, সন্তান-সন্তুতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বর্ণ-রৌপ্য, বাসগৃহ এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও রাসূল মুহাম্মদকে অন্তর দিয়ে অধিক ভালোবাসা। (সূরা তাওবা- ২৪)
এবার আলোচনা করবো কিভাবে এই আত্মসমর্পণ করতে হয়? আত্মসমর্পণ দুটি শব্দ। 'আত্মাকে অর্থাৎ নিজেকে ২. সমর্পণ করা অর্থাৎ পরিপূর্ণভাবে দান করে দেয়া। এই কাজ করতে গেলে প্রথমে নিজেকে চিনতে হবে। ইংরেজীতে যাকে বলে কহড় িঞযুংবষভ আরবীতে বলে 'মান আরাফা নাফসাহু'। এই নিজেকে চেনাটা বড়ই কঠিন। আমি যদি আমাকে নেককার, পরহেজগার, উত্তম, উৎকৃষ্ট, আলেম, আমলী, মুফতী, মাওলানা, হাফেজ, ক্বারী, বিদ্বান, বুদ্ধিমান, হাজী, গাজী ইত্যাদি বিশেষণে চিনি তাহলে হবে না। আমাকে চিনতে হবে, আমি দুর্গন্ধযুক্ত পচা মাটির নির্যাস বই আর কিছুই না। সেই দিকে আমাদের মনকে ঘুরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, 'আমিতো মানুষ সৃষ্টি করেছি, দুর্গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হতে'। (সূরা হিজর- ২৬) আমি যেন কখনও নিজের মধ্যে কোন প্রকার উত্তমবোধের লক্ষণ খুঁজে না পাই, কারণ উত্তমতো কেবল মহান আল্লাহপাকই,কারণ তিনিই স্রষ্টা ও পালনকর্তা তিনিই একমাত্র অস্তিত্বধারী, তিনিই তো ছিলেন চিরকাল, থাকবেন চিরকাল তাই আছেনও বর্তমানে। আমি ছিলাম না, থাকবো না তাই বর্তমানেও নেই। তাই মহান আল্লাহপাক বলেন, ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর, অবিনশ্বর কেবল তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহিমময়, মহানুভব (সূরা আর-রহমান- ২৬, ২৭) বর্তমান যমানায় যারা নিজেকে জ্ঞানী, বিদ্বান, বুদ্ধিমান, আলেম বলে মনে করে তারা শুধু নিজেকে দেখে বলেই আল্লাহপাককে দেখতে পায় না। নিজেকে বড় বলে মনে করে বলেই আল্লাহকে বড় মনে করতে পারে না। নিজেকে ছোট মনে করতে পারে না বলেই আল্লাহর কুদরত ও বড়ত্বকে ছোট মনে করে ফেলে। তাদের জন্য আফসোস ও দোয়া করা ভিন্ন আর কিইবা করার আছে বলুন?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।