somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাকাত

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(দুই)
যাকাতের সংজ্ঞা :
যাকাত আরবী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি ও প্রশংসা। যাকাত হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ এবং অন্যতম মৌলিক ফরয ইবাদত। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে যাকাতকে সাদাকাহ বলেও অভিহিত করা হয়েছে। পরিভাষাগত অর্থে যাকাত বলতে সাহেবে নিসাবের সম্পদে আল্লাহ নির্ধারিত সেই অংশ বুঝায় যা বিত্তহীন সমাজের কল্যাণে বণ্টিত হয়। যাকাত নামায রোজার মতই ফরয। যাকাত প্রদানকারী তার ঈমানের সত্যতারই প্রমাণ দিয়ে থাকে এবং তার মালকেও পবিত্র করে থাকে। নামায হলো শারীরিক ইবাদত আর যাকাত হলো আর্থিক ইবাদত। যাকাত প্রচলিত অর্থে কোন অনুকম্পা নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে ধনীদের ধনমালে রয়েছে গরীবদের সুনির্দিষ্ট হক। এ ফরয কাজটি ভাল লাগা না লাগার উপর ছেড়ে দেয়া হয়নি। যাকাত প্রদানে অসম্মত ব্যক্তির প্রতি রয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কঠোর হুঁশিয়ারি। যাকাত এবং দান হবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
যাকাতের মর্যাদা :
যাকাত কোন ক্ষুদ্র উৎস নয়। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অধিকারের দাবি উত্থাপন ছাড়াই ইসলাম দারিদ্র্য সমস্যার সমাধান ও দরিদ্রদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ইসলামের এই পরিচর্যা দায়সারা গোছের অথবা সাময়িক নয় বরং এটি তার শিক্ষা ও বিধি বিধান গুরুত্বের দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের নয় এবং তার মূল ভিত্তি ও মৌলিক নীতির অন্তর্ভুক্ত। যাকাত ইসলামের সেতু। যে ব্যক্তি তা অতিক্রম করতে পারলো সে মুক্তি পেলো। আর যে পারলো না সে ধ্বংস হলো। জাবির (রাঃ) যায়েদ (রাঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, সালাত ও যাকাত দুটিই ফরয করা হয়েছে। দুটোতে কোন পার্থক্য করা হয়নি। যাকাত ব্যতীত সালাত কবুল হওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। যাকাত ব্যতীত কোন ব্যক্তি মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যাদের জন্য রযেছে সাফল্য যারা হবে জান্নাতের উত্তরাধিকারী এবং যাদের জন্য সুসংবাদ। সূরা মুমিনুন এ আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ। যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে। যারা অর্থহীন কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকে এবং যারা যাকাত দানে সক্রিয় থাকে’’।
দরিদ্রতা মানুষের ঈমান আকীদা ও বিশ্বাসের মূলে সন্দেহের বীজ বপন করে। চরিত্র ও চালচলনে দরিদ্রতা মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে। দরিদ্রতা মানুষের চিন্তা চেতনায়ও বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দরিদ্রতা পারিবারিক জীবনে অশান্তি ও বিপর্যয় ডেকে আনে। এজন্যে গরীব ও অস্বচ্ছল যুবকদের আর্থিকভাবে শক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের ব্যাপারে ধৈর্যধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ সূরা নূর এর ৩৩ নং আয়াতে বলেন, ‘‘যারা বিয়ের সুযোগ পাবে না তাদের উচিত আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত যেন সংযম পালন করে’’। দরিদ্রতা সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। দরিদ্রতার সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো যে জাতি দরিদ্রতার মধ্যে নিমজ্জিত সে জাতির স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
যেসব সম্পদে যাকাত প্রযোজ্য :
যে সমস্ত প্রধান প্রধান বিষয়ের উপর যাকাত দিতে হবে সে সবের মধ্যে রয়েছে : হাতে নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, শেয়ার সার্টিফিকেট (বর্তমান বাজারমূল্য), বন্ড, মেয়াদী আমানত, লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রত্যর্পণ মূল্য যা ফেরত পাওয়া গিয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবান্তে পাওয়া অবসর জনিত অর্থ, অফেরতযোগ্য উত্তোলন, অগ্রিম বা ফেরতযোগ্য জমা, স্বর্ণ, রৌপ্য, স্বর্ণ বা রৌপ্যের অলংকার, চাকরির ভবিষ্যত তহবিলে জমার নিজ অংশ, এমন ধার যা পাবার নিশ্চয়তা আছে, মূল্যবান ধাতু, বাণিজ্যিক বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল, প্রক্রিয়াধীন মজুদ ও উৎপাদিত পণ্যের মজুত, বিভিন্ন সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগ, সাপ্লায়ারসে দেয় অগ্রিম, প্যাকিং সামগ্রী ও অন্যান্য মজুদ, বাকী বিক্রি নিশ্চিত পাওনা, কৃষিপণ্য, ভেড়া ও ছাগল, গরু ও মহিষ, উট ও খনিজ দ্রব্যাদি।
বর্তমান যুগের ইসলামী অর্থনীতিবিদগণ উক্ত তালিকায় অনেক বিষয়ই যুক্ত করার পক্ষপাতি। যেমন, যাকাতযোগ্য সোনা রূপার সাথে হীরক, মুক্তা, প্রবাল, চুনি, প্লাটিনাম ইত্যাদি। গবাদি পশুর সাথে চিংড়ি, মৎস্য চাষ, হাঁস মুরগির খামার ইত্যাদি; ব্যবসায়ের পণ্য সামগ্রীর মধ্যে শেয়ারস ও সার্টিফিকেটস ইত্যাদি এবং যন্ত্রপাতি ও মূলধনী পণ্য যাকাতের আওতায় আনার পক্ষপাতি।
কারা যাকাত দিবেন :
নিম্নোক্ত শর্তগুলো যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাদের যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক :
সম্পদের উপর পূর্ণাঙ্গ মালিকানা থাকা
সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া
নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা
মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা।
ঋণমুক্ত হওয়া।
সম্পদ এক বছর থাকা।
যাকাত ব্যয়ের খাত :
আল কুরআনের সূরা তওবার ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-‘‘বস্তুত যাকাত বা সাদাকাহ ফকির, মিসকীন, আদায়কারী কর্মচারী, মনতুষ্টি অর্জন, দাসত্ব মোচন, ঋণগ্রস্তের সাহায্য, আল্লাহর পথে মুসাফিরদের জন্যে নির্দিষ্ট। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ধার্য আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ ও সুবিজ্ঞানী। সুতরাং যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত আমাদের কাছে পরিষ্কার। ১. ফকীর ২. মিসকীন ৩. যাকাত বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৪. মন জয় করার উদ্দেশ্যে ৫. দাস মুক্ত করা ৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ ৭. আল্লাহর পথে ৮. নিঃস্ব পথিক-প্রবাসী
ইসলামে যাকাত নীতির উদ্দেশ্য : অর্থলি≈v দূর করে আয় পুনর্বণ্টনে সহায়তা করা, দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা, কার্যকর চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা ও সম্পদের সমবণ্টনের পরিবর্তে ইনসাফপূর্ণ বণ্টন ইসলামী যাকাত নীতির অন্যতম মূলনীতি।
যাকাতের অর্থ বণ্টনের নীতিমালা : ইসলাম শুধু যাকাত প্রাপকদেরকেই নির্দিষ্ট করে দেয়নি বরং কিভাবে তা বণ্টন করতে হবে সে বিষয়েও শরীয়াহতে নীতিমালা প্রদান করা হয়েছে। নীচে সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোর উল্লেখ করা হলো :
যাকাতের অর্থ আদায়ের সাথে সাথে বিতরণ করতে হবে। কারণ যাকাত গ্রহীতাদের টাকা পয়সার খুবই প্রয়োজন। সুতরাং তাদের অভাব দ্রুত মোচনের চেষ্টা করা আশু কর্তব্য।
যে এলাকা থেকে যাকাত আদায় করা হয়েছে সেখানেই তা খরচ হওয়া কাম্য। এর ফলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অর্থ এমনভাবে বিতরণ বা ব্যবহার করতে হবে যেন গ্রহীতাদের সর্বোচ্চ সামাজিক আর্থিক কল্যাণ সাধিত হয়। এটা জীবন-যাপনের মান উন্নয়ন করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে তারা যাকাত গ্রহীতা না হয়ে যেন শেষ পর্যন্ত যাকাতদাতা হিসেবেই রূপান্তরিত হতে পারে।
এই শেষ নীতিটি বাস্তবায়নের জন্যে দরিদ্রদের দু'ভাগে ভাগ করা প্রয়োজন- কর্মরত ও কর্মহীন দরিদ্র। কর্মহীন দরিদ্র তারাই যারা আসলেই বেকার, তাদের করার মত কিছুই নেই। এদেরকে মজুরি নির্ভর দরিদ্রও বলা যেতে পারে। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে এদের যাকাতের অর্থ দরকার সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে সঙ্গে এটাও উপলব্ধি করার দরকার এ ধরনের সাহায্য সহযোগিতার ফলে তারা সামান্য দ্রব্যসামগ্রী কিনতে সক্ষম হবে যা তাদের শুধু বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। এদের জন্যে অতিরিক্ত কোন পদক্ষেপ গৃহীত না হলে কোনভাবেই এরা দরিদ্রসীমার উপরে উঠে আসতে পারবে না।
অন্যদিকে কর্মরত দরিদ্রদের সম্বন্ধে বলা যেতে পারে তারা কোন না কোন কাজে নিযুক্ত রয়েছে। যেমন- কৃষিপণ্য উৎপাদন, ছোট দোকান বা ক্ষুদে ব্যবসা পরিচালনা অথবা হাতের কাজ ইত্যাদি। যে কোন কারণেই হোক তারা তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে কোনক্রমেই আর সামনে এগুতে পারছে না। এসব লোকের জন্য চাই বিশেষ ধরনের সাহায্য যেন তারা স্ব স্ব পেশায় উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়। এর ফলে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে। এদেরকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, তৈর পণ্য বিক্রয়ে সাহায্য এবং প্রয়োজনীয় মূলধন যোগান দিতে হবে।
বিশ্বের প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা : সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাকাতকে প্রথম সুবিন্যস্ত আইন হিসেবে গণ্য করা হয়। এটাই হলো সামাজিক নিরাপত্তা, যে সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্ব এই কিছুদিন পূর্বে ভাবতে শিখেছে। তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইসলামী ব্যবস্থার পর্যায়ে পৌঁছুতে পারেনি যা প্রত্যেক অভাবীকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং অভাবীর নিজের জন্য ও তার পরিবারের জন্য পূর্ণ স্বচ্ছলতা আনয়ন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম এই দেশগুলোর চেয়ে কয়েকশ' বছর এগিয়ে রয়েছে। ইসলাম এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে, রাষ্ট্রকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে এবং ধনীদের থেকে দরিদ্রদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছে। ইসলাম যাকাতকে সুনির্দিষ্ট অধিকার হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছে। যে ব্যবস্থায় কোন খোটা বা কষ্ট দেয়ার সুযোগ নেই। ইসলামী বিধিবিধান সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হলে সমাজের অর্থ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, বেকার ও দরিদ্র লোকদের সংখ্যা হ্রাস পাবে। আর যখনই কোন জাতির মধ্যে দরিদ্র লোকের সংখ্যা কমে আসে এবং অর্থ সম্পদের পরিমাণ ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে এবং তাদের ধনী ব্যক্তিগণ ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা অনুসরণ করে তখন দারিদ্র্য সমস্যার সমাধান করা সেখানে সহজ হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি : নিরাপত্তা মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য। নিরাপত্তা না থাকলে কোন সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠতে ও বিকাশ লাভ করতে পারে না। ইসলাম তাই জননিরাপত্তা চায়। ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যেখানে নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যারা কোন কারণে নিজেদের প্রয়োজনীয় জীবন ধারণের ব্যবস্থা করতে পারে না তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রথমত তাদের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় সমাজের। ইসলাম সমাজবদ্ধ জীবনে বিশ্বাস করে এবং সমাজের প্রত্যেকের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সমাজে যারা সুবিধাজনক কর্মসংস্থান যোগাড় করতে পারেনি অথবা যারা সামাজিক সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত তাদের জন্য জীবনের মৌলিক চাহিদাসহ একটি দক্ষ ও সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাকাত ও অন্যান্য ট্রান্সফার মেকানিজমসমূহ এক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নিম্ন আয় শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, বঞ্চনা দূরীকরণ, দারিদ্র্যবিমোচনের প্রতি অগ্রাধিকার প্রদান, সমাজে সম্পদ সমাবেশকরণ, অসমতা বৈষম্যের মাত্রা হ্রাস করতে হবে। সমাজের সকল পর্যায়ে সম্পদ ও ক্ষমতার প্রসারণের লক্ষ্যে মুসলিম দেশে অবশ্যই একটি কার্যকরী আয় ও মজুরী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সুনির্দিষ্ট পরিমাণে সার্বিক দারিদ্র্য বা প্রকট দারিদ্র্য কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কৌশল এবং নতুন, কাঙ্ক্ষিত, মানানসই ও সৃজনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার, সুদের মূলোৎপাটন, ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় করে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ ও অগ্রাধিকার প্রদান করে ইসলামী প্রযুক্তির উপর জোর দিতে হবে যাকাতের মাধ্যমে। এমন কার্যকর আয়নীতি থাকা বাঞ্ছনীয় যার ফলে নীচু আয়ের লোকদের আয়ের স্তর বৃদ্ধি পাবে এবং পরিণতিতে সমাজ হতে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পাবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য অর্জনের উদ্দেশ্যে অন্যান্য সকল কিছুর মধ্যে সমবায় শক্তি ও কৌশলের উপরই সমধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। ইসলাম দরিদ্রতাকে একটা সামগ্রিক ইস্যু বিবেচনা করে ব্যক্তিকে এর গ্লানি থেকে রক্ষা করে। এজন্য ইসলাম বলে- ‘‘ব্যক্তিকে এ পরিমাণ যাকাত দাও যাতে অভাব দূর হয় এবং পরবর্তী বছর সে যেন আর যাকাত প্রার্থী না হয়’’ (খলিফা ওমর)। সমাজের নিম্নবিত্ত লোকের সকল প্রয়োজন যাকাতলব্ধ অর্থ থেকে মেটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যার্থীর জ্ঞান আহরণের বই, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের খরচ, রোগীর চিকিৎসা, কারাবন্দীর মুক্তি, ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যক্তির ঋণমুক্তি, আশ্রয়হীন পথিক এ সকল প্রয়োজনে যাকাত থেকে সহায়তা পেতে পারে।
ইসলামের এই সামাজিক সুরক্ষা বলয় এতটাই সফলতা অর্জনে সমর্থ হয়েছিল যে খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের সময়কালে আরব ভূখন্ডে যাকাতের গ্রহীতা খুঁজে পাওয়া ছিল বড় দুষ্কর। আজও সেই যাকাত বিদ্যমান রয়েছে কিন্তু মুসলিম সমাজে সামাজিক সুরক্ষা বলয়টি অনুপস্থিত। লাখো লাখো মুসলমান যাকাত আদায় করছে কিন্তু সমাজে দরিদ্র মন্দভাগ্য লোকদের ভীড় কমছে না। এর কারণ কি? সেই কারণ অনুসন্ধান করে যথাবিহীত কর্মসূচি অনুসরণ করতে পারলে আজও যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন ও সামাজিক কল্যাণ অর্জন সম্ভব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×