গত ১৩ই জানুয়ারি নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের মধ্যকার একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে কথাবার্তা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তি বাংলাদেশের পক্ষে শতভাগ অর্জন আর সরকার বিপক্ষ দল বলছে এ চুক্তির শতভাগই বর্জন ও ব্যর্থ এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী এমনকি দেশ বিক্রির দলিল বলেও বিপক্ষদল দাবী করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দাবী নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৩০ লাখ লোকের জীবনের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফসল এ দেশ ও এ স্বাধীনতা। অতএব, তার দলের দ্বারা দেশ বা স্বাধীনতা বিক্রির প্রশ্নই আসে না। যুক্তির কথা। প্রশ্ন হচ্ছে : এ যুক্তি বাস্তব কিনা? অর্জনকারীর দ্বারা বর্জন হয় কিনা? বিশ্বাসীর দ্বারা অবিশ্বাসী কাজ হয় কিনা? সম্ভব কিনা? নিজস্ব চিন্তা এবং ইতিহাসের গতিধারা থেকে এ বিষয়টির একটা সাদামাঠা জবাব দানের লক্ষ্যেই এ লেখাটি।
এদেশের কর্ণধার মরহুম শেখ মুজিব তার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগের ইতিহাসের কতিপয় ঘটনা প্রবাহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগের জনক মওলানা ভাসানী প্রথম মুসলিম আওয়ামী লীগ গঠন করেন পরে যা হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। সেই ভাসানী চরমভাবে নিগৃহীত হন আওয়ামী লীগের হাতেই। গণতন্ত্রের গণনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বহস্তে গণতন্ত্র বাতিল করে এক দলীয় শাসন কায়েম করেন। পাকিস্তানের আদর্শের সৈনিক বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম ভিত্তিক সকল দল বেআইনী ঘোষণা করেন আইন করে- এ যেন ইসলাম ছিল তার প্রতি পক্ষ। চুক্তি করে ভারতকে চুক্তির শর্ত পালন করার আপেক্ষা না করেই সংবিধান সংশোধন করে বেরুবাড়ীসহ আরও কতিপয় অঞ্চল ভারতের হাতে তুলে দেন তিনি, এর বিনিময় তিনবিঘা করিডোরের স্থায়ী লীজ এখনও পায়নি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চুক্তি করে ফারাক্কা বাঁধ চালুকরণ মেনে নেন, করে নেন ২৫ সালা চুক্তি, তার কন্যা করেন ত্রিশ সালা চুক্তি। কথা ছিল মাত্র ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে। চার দশক হতে চলছে আজও তা বন্ধ হয়নি। নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু করেন না তারা এর প্রতিবাদ। প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ করে পার্বত্য চুক্তি। পান এর বিনিময় গোটা দশেক ডকটরেট ডিগ্রী। এ চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন হলে কালক্রমে এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষ জনেরা বলে আসছেন। এটি একটি অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক চুক্তি। এ নিয়ে মামলাও চলছে। সাম্প্রতিককালের চুক্তিটি হচ্ছে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ চুক্তি। এর দ্বারা দেশের বন্দর ব্যবহারের নামে ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হয়ে গেছে বলা হচ্ছে। পরমাণুধর দেশের সাথে সামরিক চুক্তি হয়েছে, সাংস্কৃতিক চুক্তি হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে ইত্যাদি।
অতএব, ইতিহাসের গতিধারার আলোকে এ কথা যৌক্তিকভাবে বলা যায় যে, বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন তা যদি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের হাতেই নিমজ্জিত হয়ে যায় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না। কারণ, পৃথিবীর যেখানেই বিদ্রোহ দেখা দেয়, স্বাধীনতার ডাক দেয়া হয় স্বাধীন রাষ্ট্র সেখানেই তার নিরাপত্তা বাহিনী পাঠায়, তা জোরদার করে, স্বদেশমুখীদের হাতকে শক্তিশালী করে তোলে। সমকালীন থাইল্যান্ডের পাত্তানী, ফিলিপাইনের মিন্দানাও, শ্রীলংকার তামিলদের ত্রিংকুমালী, ভারতের কাশ্মীর, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, তুরস্কের কুর্দী, কানাডার কুইন্সল্যান্ড, ইংল্যান্ডের আইসল্যান্ড, সুদানের দারফুর প্রভৃতি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এদিক থেকে বাংলাদেশই সম্ভবতঃ বিশ্বের একমাত্র দেশ যে তার সৈন্যদের স্বাধীনতাকামী পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে নিল। অগণতান্ত্রিকভাবে পার্বত্যবাসীদের হাতে ঐ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের ভার দিয়ে বাংলাভাষীদের তাদের অধীনস্ত করে দিল। সৌভাগ্য যে, চুক্তির শর্তগুলো এখনও পুরোপুরী বাস্তবায়ন হয়নি। এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সময়ের ব্যবধানে ঐ অঞ্চলকে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায় অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলেই মনে হয়।
পার্বত্য চুক্তির চেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে ভারতকে বন্দর ব্যবহার, ট্রানজিট দান, বিদ্যুৎ আমদানী এবং সাংস্কৃতিক চুক্তিসমূহ। রাতারাতি তা হয়ে যাবে, দেশ পরাধীন হয়ে যাবে তা হয়ত সম্ভব নয়, কারণ আগরতলাসহ ভারতের সাথে সম্পাদিত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরের পরও পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে আমাদেরও দু'দশকেরও বেশী সময় লেগেছিল। আল্লাহ্তায়ালার ইচ্ছায় এ অসম এবং জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা অর্জন করতে পারলে এবং দেশ, ইসলাম ও জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় আসতে পারলেই হয়তো এ অপতপরতা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। তবে তা হবে এক কঠিন জীবনবাজ সংগ্রাম। কারণ, ইতোমধ্যেই চুক্তির পক্ষের দলগুলো বিপক্ষীয় যে কোন তৎপরতা দমনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ভরসা হচ্ছে আল্লাহ্র সাহায্য, জনসচেতনতা এবং সঠিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের অতীতের কতিপয় ঘটনা সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে যে, দেশ-জাতি, ইসলাম ও ইসলামী দলগুলোকে গুঁড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে নীত পূর্বের সবগুলো পরিকল্পনাই সুযোগ পায়নি বাস্তবায়নের অতীতের সরকারগুলো। এটা হয়তো আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়েছে। এখনও সেই আল্লাহই জীবিত- চিরঞ্জীব- এখনও ভরসা আল্লাহয়।
এ চুক্তির ফলে নৌপথ, স্থলপথ, রেলপথে বাংলাদেশের চারদিক থেকে প্রবেশের এবং বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ লাভ করলো একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। বিষয়টা যেন মিয়াবাড়ির বুকের উপর দিয়ে রাজবাড়ির গমানাগমন। যে ভারত তার হাইকমিশন পাহারা দেয়ার জন্য যাবতীয় কূটনৈতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রহরীর ছদ্মাবরণে কমান্ডো বাহিনী নিয়ে আসতে চায় সেই ভারত তার নৌযান, রেলগাড়ি, মোটরযান, ট্রাকবহর পাহারা দেয়ার জন্য তার সশস্ত্রবাহিনী পাঠাবেনা তার নিশ্চয়তা কে দেবে। সংস্কৃতির নামে যে পৌত্তলিকতাবাদকে এ দেশের ঘরে ঘরে প্রতিষ্ঠিত করবে না তা কে ঠেকাবে? শেখ হাসিনা আর তার দল আওয়ামী লীগ এবং এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ তার মহাজোট এ আগ্রাসনের বিপক্ষে দাঁড়াবে?
প্রতিবাদ নয় বরং ভারতীয় আগ্রাসন অনেকেই সহজে মেনে নেবে বলেই মনে হয়। শুধু মেনে নেয়া নয় তা প্রাপ্তির জন্যও যে আকাঙ্ক্ষীত তা সমসাময়িক ও পূর্বাপর ঘটনা প্রবাহ দেখলে ও তা পর্যালোচনা করলে তাই প্রতীয়মান হয়। কখন মানুষ খুশী মনে অন্যের অধীনতা মেনে নেয় যখন অপরকে, অপরের জীবন ও দর্শন, অপরের সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ধর্মকে নিজেদের চেয়ে বেশী পছন্দ করে তখনই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দলের লোকজন এবং দল ভারতকে এমনটাই মনে করে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যেমন- প্রথমবারে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত সফরকালে হিন্দু ধর্মীয় নীতির আদলে তার কপালে পুরুষ মানুষ চন্দন এঁকে দেয়- হাসিমুখে তিনি তা মেনে নেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। সমাবেশে তাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্বোধন করা হয় তার প্রতিবাদ তিনি করেননি বরং এতে তার হাসি পেয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানান। বাংলাদেশ ভারতের সাথে একীভূত হয়ে যাওয়ার তার অঙ্গীকারের প্রতি প্রশ্ন করা হলে তিনি তার প্রতিবাদ করেননি বরং মুচকি হেসেছেন বলে জানা যায়। ভারত এবং বাংলাদেশে একই মুদ্রা চালুর অঙ্গীকারের কি হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আরও সময় লাগবে। এবারও কে যেন একজন হাত বাড়ায়ে কোমর দোলা করে সভাস্থলে নিয়ে গেলেন তাকে। এ যেন ঘরকন্যার ঘরে ফেরার আনন্দ। এবারতো চুক্তি করে দিল খোলা করে সব দিয়েই এলেন। এমন খুশী করলেন ভারত মাতাকে যে তাদের পত্রিকায় লেখালেখী হলো ‘‘এ চুক্তির ফলে যোগাযোগ ১৯৪৭ সালের বিভাগপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে আর বাধা থাকবে না’’ মুজিবকন্যা সবসময়ই ভারতপন্থী- আরও কত কি?
স্বাধীন সার্বভৌম মানে সিংহের মত মাথা উঁচু করে চলা- বীরের মত চলা- মাতালের মত মাথা উঁচু নয়। মাথা নীচু করার প্রবণতা শুরু হওয়ার অর্থ হলো পরাধীনতা মেনে নেয়ার লক্ষণ। আওয়ামী লীগসহ তার মহাজোটের মাঝে সেই প্রবণতা প্রবল আকার ধারণ করেছে বলেই মনে হয়। কারণ, এরা স্বদেশের পানি সীমায় জেগে উঠা তালপট্টি দ্বীপ ভারত দখল করে নিলেও যথার্থ অর্থে এর প্রতিবাদ করেনা, বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা নিজেদের দাবী করে স্বদেশকে বঙ্গোপসাগরে অধিকার ভোগ থেকে চিরতরে বঞ্চিত করার কৌশল করলেও এর যথাযথ প্রতিবাদ করেনা, সীমান্তে একতরফাভাবে কাঁটাতারের বেড়া দিলেও, সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ মানুষ জবাই করলেও, সীমান্তে ধান চাল গরু ছাগল মানুষ ধরে নিয়ে গেলেও, অন্যায়ভাবে পুশইন পুশব্যাক করলেও এর প্রতিবাদ করতে জানেনা, সীমান্তে অসংখ্য ফেনসিডিলের, ভায়াগ্রা ও ইয়াবার ন্যায় ভয়াবহ মাদক ও যৌন উত্তেজক দ্রব্য তৈরির কারখানা গড়ে তুলে এ দেশের সোনালী সন্তানদের মাতাল বানিয়ে তাদেরকে জনশক্তির পরিবর্তে জনবিষফোঁড় তৈরির চূড়ান্ত পরিকল্পনা সফলতার সাথে চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে যাদের গাত্রদাহ নেই, মাথা ব্যথা নেই, এর ন্যায়ানুগ প্রতিবাদ যারা করেনা, স্বদেশের কৃষি, কারখানাকে ধ্বংস করার জন্য নকল সার, বীজ যারা সাপ্লাই দেয়, নিম্নমানের সূতা পাঠিয়ে যারা তিলে তিলে গড়ে উঠা পোশাক শিল্পকে মেরে ফেলতে চায় এসব কুটকৌশলের প্রতিবাদ এরা করেনা। দেশের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের ২০ জেলা নিয়ে বঙ্গভূমি গঠনের জন্য যে ভারতে মন্ত্রিসভা গঠন হয়, প্রকাশ্য সেই মন্ত্রিসভার পশ্চিমবঙ্গে বৈঠক ও জনসভা হয় এর প্রতিবাদ এরা করেনা বরং ভারতীয় কতিপয় অঞ্চলের আত্মগোপনকারী স্বাধিকার আন্দোলনের নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়। এরা ভারতের নদী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করেনা, ৪১ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালুর চুক্তি মেনে নিয়ে ৩৮ বছরেও যার প্রতিবাদ করেনা বরং ফারাক্কা বাঁধ চুক্তিকে নিজের সাফল্য বলে গর্ব করে, ৫৪টি নদীর উজানে বাঁধ দেয়ার প্রতিবাদ করেনা, টিপাই বাঁধের ব্যাপারে ভারতীয় সূরে কথা বলে, একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে এ দেশের বেরুবাড়ীকে ভারতের হাতে খুশী মনে তুলে দেয় এবং এর বিনিময়ে তিনবিঘা করিডোরের স্থায়ী ইজারা দেয়ার চুক্তি ৩৮ বছর পরও পালন না করার ব্যাপারে ভারতের সমালোচনাও করেনা, দাবীও করে না, ভারতের নগ্ন আক্রমণ প্রতিহত করে যে বিডিআর বড়াইবাড়ী উদ্ধার করে (এ অপরাধের জন্য) যারা ভারতের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং বিডিআর প্রধানকে প্রমোট করেনা। এরা পার্বত্য অঞ্চলে স্বাধীনতাকামী সন্ত্রাসী বাহিনীকে রাজকীয় মর্যাদা দিয়ে পুরস্কৃত করে আর আদিবাসী বাংলাভাষীদের পাহাড়ীদের অধীনস্ত করে, দেশের ১/১০ পার্বত্য অঞ্চলকে অরক্ষিত করে দেশের সেনাবাহিনীর ক্যাম্প গুটিয়ে নেয়, সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। এরা ২৫ সালা ৩০, সালা চুক্তি করে ভারতের সাথে পদানত করে দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের কাছে বিচার দেয়, নিজস্ব ধর্মীয় আদর্শ ইসলাম বাদ দিয়ে ইসলাম বিরোধী আদর্শ স্যেকুলারইজম ও সমাজতন্ত্রকে ব্যক্তি ও দলীয় আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে, ভারতসহ বিদেশী মিশনের কূটনীতিকরা কূটনীতি বহির্ভূত বক্তব্য দিলে, নিজস্ব সিকিউরিটি আনলেও প্রতিবাদ করেনা, ভারতীয় কূটনীতিক ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের অপমানজনক কথা বললেও প্রতিবাদ করেনা। এ জাতীয় ব্যক্তি, দল ও আদর্শের ক্ষমতায় অবস্থান যত দীর্ঘায়িত হবে দেশ ও জাতির ক্ষতি তত দ্রুত ত্বরান্বিত হবে।
একটি কথা মনে রাখতে হবে, এ দেশটি স্বাধীন সার্বভৌম হয়েছে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ইমান-আকিদা ইসলামের পক্ষে বলেই। যে সম্পদ বা দর্শনের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন সে সম্পদ যতদিন থাকবে অটুট ততদিনই শুধু থাকবে এর স্বাধীন অস্তিত্ব। রাতারাতি এ সম্পদ কেড়ে নেয়ারও সুযোগ নেই বলে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মাদকতার ছোবল, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং চিরকাল দরিদ্র বানিয়ে রাখার কৌশল ইত্যাদি পন্থার মাধ্যমে। অতএব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখতে হলে আজকের প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিককে অতন্দ্র প্রহরীর মত ভূমিকা পালন করা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


