somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃত্তাচার

১৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিন্দু, রেখা, চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ আর বৃত্তের মাঝে বৃত্ত আমার খুব প্রিয় যা বিন্দুকে ধারন করে, নাকি বিন্দুটা বৃত্তকে ধারন করে? সব কিছুর কেন্দ্রিকতা আর পরিসীমার মতো ঘুরে ফিরে এক জায়গায় চলে আসার প্রবনতা সব সময়ই নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা, পথের বাঁকে বাঁকে হাটার পথে যা কিছু দেখছি ইদানিং সব কিছু মুখস্ত মনে হচ্ছে, মনে হচ্ছে আগেও এমন দেখেছি , আগেও এমন পথ ধরে হেঁটেছি, আগেও... আমার মুখস্ত কিছু কখনোই ভালো লাগে না, সব সময় আকাশটার মতো অপরিচিত হতে চাই, বাতাসের মতো নিদারুন নিরিবিলি আর সূর্য্যের মতো বহুরুপী।

বৃত্তটি, একটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে পরিসীমায় যাত্রাবাহী কিছু আমি তুমি কে নিয়ে নিয়ত ভ্রমনশীল, পরিসীমা থেকে কেন্দ্রে বিস্তৃত আমি-তুমি ও সে মিলেই আমরা।

সময়টা বহন করে চলেছে আমাদের, তোমাকে আমাকে আরো সব অজানা যাত্রীদের, আমরা কেবল ভিন্ন স্টেশনে নামবো এই যা, ভিন্ন স্টেশন থেকেও উঠলেও একই বাহনে আমরা বন্দী একই রথে, একই পথ পরিক্রমায়, ছুটে চলেছি ছুটে চলেছি... সময়টা সবচেয়ে বড় গোলক ধাঁধাঁ, তুমি কাল যেখানে ছিলে আজ যদি সেখানেই থাকো তাহলে বুঝবে তুমি ভুল জায়গায় আছো, আমি সব সময় ভুল জায়গায় থাকি আমি সব সময়ই বৃত্তের বাইরে ছিটকে যাই, সময়ের বাইরে নয়।

আমি পথে আর হাঁটি না, আকাশ দেখি না, সমুদ্র, নদী আরো তোমাদের, সব কিছু এড়িয়ে চলি, কেন জিজ্ঞেস করবে না? আমি আপাতত ব্যাখ্যা জানি না, হয়তো আমি ক্লান্ত, হয়তো আমি একই জিনিস দেখতে দেখতে একঘেয়ে অথবা আমি ছিটকে পড়েছি বলে মন নিচু করে বসে আছি তোমাদের ভ্রমন দেখতে দেখতে। স্থির আর সুস্থির এর মাঝে অনেক পার্থক্য, আমি স্থির হতে হতে অস্থির!

দিগন্ত বলেছিলো আমায় রঙ দিবে, আকাশও তাই বলেছিলো আর ঐ চাঁদটা কিছুই বললো না! অভিমান করবো নাকি রাগ করবো বুঝে উঠতে না পেরে কোনটাই করিনি,মাথা নিচু করে বসে বসে মাটিতে আঁকিবুঁকি করেছি, এভাবেই স্থির হলাম সব চক্র-বাক আর চক্রান্তির গতি হারিয়ে, টর্ক আমাকে ছিটকে বাইরে ছেড়ে দিলো আমি নিঃসঙ্গ হলাম, এইম ইন লাইফে কখনো 'নিঃসঙ্গতা' যোগ করতে ভুলে গেছিলাম, ওটা হয়তো বাই-ডিফল্ট,তোমার আমার সবার সম্পত্তি। তাই শুধু একা-ই কেন নিঃসঙ্গ নই এটাও একটা একঘেয়ে আর মুখস্ত ব্যাপার! আমরা এভাবেই পথ পরিক্রমায় সবাই মিলে জন ও জনায় নিঃসঙ্গ! কত অদ্ভুত, কত বিচিত্র তাই না?

" এতো 'একা', 'একা' গাইছো তুমি, একা তো আমিও
জীবন জীবন করছো তুমি, জীবন তো আমারো
কত একঘেয়ে হয়েছো, তুমি কত নিঃসঙ্গ?
তাকাও দূরে, তাকাও কাছে, দেখবে সবই বিচিত্র
দুঃখ দুঃখ করছো তুমি? হাহ! ওটাকে ভাসিয়ে দাও
দুঃখী তো আমরা সবাই! সুখি বা ক'জনায়?

নিজেকে অনেক অনন্য ভাবো? আর সব 'আমি'গুলো নিয়ে আছো বসে!
নিজেকে অনেক অবাক ভাবো আর সব একঘেয়েমির পিছে ছুটছো মিছে!

দুঃখবিলাসী বৃত্তাচার তুমি, আমিও যে তাই!
পরিসীমায় দেখা হবে থেকো অপেক্ষায়!"










সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৩০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×