somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্বকে ফুলের কোমল ছোঁয়া !! :)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুল কে না ভালোবাসে! ফুল তার রূপ, গন্ধ দিয়ে আমাদের মাতিয়ে রাখে সারাক্ষণ। আর যদি এই রঙ বেরঙের ফুল দিয়ে ত্বকের যত্ন নেয়া যায় তবে সে যেন হবে বাড়তি পাওনা। ফুল দিয়ে তৈরি ফেস প্যাক ত্বকের জন্য খুবই ভালো। কিছু কিছু ফুল আছে যেগুলোতে মূল্যবান তেল, নিউট্রিয়েণ্ট আছে আর এই তেল আমাদের ত্বকের নরিশমেণ্টের জন্য জাদুর মত কাজ করে। ফুলে থাকা নিউট্রিয়েণ্ট এজিং এর প্রক্রিয়াকে অনেক ধীর করে দেয়। তবে এটি বলে রাখাও ভালো ফুলে যাদের এলারজি আছে তারা এই প্যাকগুলো ব্যবহার করবেন না। কেনা ফুলের চেয়ে আপনার বাগানের ফুল পেলে সবচেয়ে ভালো হয়। শীত তো প্রায় চলে এলো-এই সিজেনের জন্য ফ্লাওয়ার ফেস প্যাক খুবই উপযোগী। শীতে আমাদের অনেকের ত্বকে কালচে ভাব চলে আসে কিন্তু এই প্যাক গুলো মুখে লাগিয়ে আপনি থাকবেন দ্বীপ্তিময় ও উজ্জ্বল।

গোলাপ ফুলঃ

গোলাপকে বলা হয় ফুলের রাণী। ফুলটিকে দেখে যেমন মন জুড়িয়ে যায় তেমনি গুন দিয়েও আমাদের করে তোলে লাবণ্যময়ী ও রূপসী। শুষ্ক ত্বকের যেকোনো বয়সী গোলাপের এই প্যাক লাগাতে পারেন। গোলাপের পাপড়ির সুগার আর তেল শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা জুগিয়ে ত্বককে কুসুম কোমল করে তোলে। গোলাপে থাকা অ্যান্টি–ইরিট্যাণ্ট বৈশিষ্ট্য ত্বকের জ্বালা পোড়া কমিয়ে দেয়, অ্যান্টি–অক্সিডেণ্ট প্রপারটি ত্বকের কোষের রিজেনারেশনে সাহায্য করে। কয়েকটি গোলাপ ফুলের পাপড়ি নিন এর সাথে ২ / ৩ চা চামচ ওটস আর দুধ মিশিয়ে ভালো করে ব্লেণ্ড করে নিন। হয়ে গেল আপনার প্যাক।

এবার লাগানোর পালা। কটন বলে গোলাপ জল লাগিয়ে পুরো মুখ মুছে নিন তারপর অপেক্ষা করুন ঐটি শুকানো পর্যন্ত। এখন লাগান গোলাপের ফেস প্যাক। ১০-১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বল গ্লোয়িং স্কিন।

গাঁদা ফুলঃ

আজকাল গাঁদা ফুল সারা বছরই আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এই ফুল ত্বকের রঙ হালকা করে সেই সঙ্গে ক্লিন করে। সপ্তাহে একবার বা দুইবার এই প্যাক ব্যবহারের ফলে ত্বকের পোরও টাইট হয়। যদি কারও মুখে পিম্পল থেকে থাকে গাঁদা ফুল তার অ্যান্টি-সেপ্টিক, অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল প্রপারটির মাধ্যমে তাও সারিয়ে তোলে। কয়েকটি ফুলের পাপড়ির সাথে গুঁড়ো দুধ, টক দই, মধু ও গাজর একসাথে পেস্ট করে নিন। এই প্যাক ত্বকের ডালনেস দূর করে। ব্রণে জর্জরিত পাঠকেরা সপ্তাহে ২ দিন করে এই প্যাক ব্যবহার করুন।

বেলি ফুলঃ

এর মাতাল করা গন্ধে ছোট বড় আমরা সবাই বিমোহিত হয়ে থাকি। যাদের শুষ্ক ত্বক তারা এই প্যাকটি মুখে লাগাবেন সপ্তাহে ২ বার করে। দেখবেন ড্রাইনেস অনেকটাই কেটে গেছে। ফুলের বোঁটা থেকে পাপড়ি গুলো আলাদা করুন, তারপর ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে ৩-৫ মিনিট রাখুন। পানি ছেঁকে নিয়ে দুধের মালাই এর সাথে পেস্ট করে নিন। মসৃণ ত্বক পাওয়ার জন্য প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। যাদের সেনসিটিভ ত্বক তারা টক দই এর সাথে ব্লেণ্ড করে মুখে লাগান। সপ্তাহে ১ বার করাই যথেষ্ট।

শাপলা ফুলঃ

যদিও এই ফুলটি আমাদের কাছে সহজলভ্য নয় তবুও একেবারে যে পাওয়াই যাবে না এমনটিও তো নয়। অনেক গুলো মিনেরালের সাথে শাপলাতে আছে লিনোলিক এসিড, যা ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে বিশেষ ভাবে উপযোগী। প্যাকটি বানানোও খুব সহজ। ফুলের পাপড়ি গুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর পানিতে ৪ মিনিট সেদ্ধ করে নিয়ে পেস্ট করে নিন। সঙ্গে দিতে পারেন টক দই আর মধু। চাইলে কিছু না মিশিয়েও শুধু ফুলের পেস্ট লাগিয়েও উপকার পাবেন। সেনসিটিভ ত্বক ছাড়া আর সবাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।

জবা ফুলঃ

শীতকালে মোটামুটি সবাই ব্রণের সমস্যায় অতিষ্ঠ থাকি। কেননা ঘন ঘন ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় আর ধূলাবালির উপদ্রপ তো আছেই। কিছু জবা ফুলের পাপড়ির পেস্ট নিন এর সাথে চালের গুঁড়া, এসেন্সিয়াল অয়েল যেমন ভিটামিন ই আর অল্প পানি দিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগান সব ধরনের টক্সিন, তেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।

গোলাপ বেলির সংমিশ্রণঃ

অনেক সময় নরমাল বা মিশ্র ত্বক হঠাৎ করে শুষ্ক হয়ে ওঠে এই প্যাকটি তাদের জন্য বিশেষ ভাবে উপযোগী। এর একটি কারণ হল এসিডিটি। আপনার গ্রহণকৃত খাবার বা আবহাওয়াগত কারণে ত্বক এসিডিক হয়ে যায়। এই সময় ত্বক শুষ্ক এবং ডাল দেখায়। গোলাপ বেলির মিশ্রণ ত্বকের এসিডিক নেচার অনেকখানি কমিয়ে দেয়। এক মুঠো গোলাপের পাপড়ি আর এক মুঠো বেলি ফুল নিন, এর সাথে ফ্রেশ কাঁচা দুধ মিশিয়ে হাত দিয়ে কচলে নিন। এইবার প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি দেয়ার পর হাতের তালুতে একটু গোলাপ জল নিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। এইভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করে ১ মাস করুন।

এই ফুলগুলোর ভেতর যেসব প্রাকৃতিক উপাদান আছে তা আমাদের রূপচর্চার জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই আর দেরি না করে উপভোগ করুন ফুলের কুসুম কুসুম স্পর্শ।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেতানিয়াহুও গনহত্যার দায়ে ঘৃণিত নায়ক হিসাবেই ইতিহাসে স্থান করে নিবে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৭ ই মে, ২০২৪ রাত ১২:৩৮

গত উইকেন্ডে খোদ ইজরাইলে হাজার হাজার ইজরাইলি জনতা নেতানিয়াহুর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।
দেখুন, https://www.youtube.com/shorts/HlFc6IxFeRA
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহুর এই হত্যাযজ্ঞ ইজরায়েলকে কতটা নিরাপদ করবে জনসাধারণ আজ সন্দিহান। বরং এতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুন হয়ে বসে আছি সেই কবে

লিখেছেন জিএম হারুন -অর -রশিদ, ০৭ ই মে, ২০২৪ রাত ২:৩১


আশেপাশের কেউই টের পাইনি
খুন হয়ে বসে আছি সেই কবে ।

প্রথমবার যখন খুন হলাম
সেই কি কষ্ট!
সেই কষ্ট একবারের জন্যও ভুলতে পারিনি এখনো।

ছয় বছর বয়সে মহল্লায় চড়ুইভাতি খেলতে গিয়ে প্রায় দ্বিগুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাম গাছ (জামুন কা পেড়)

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ০৭ ই মে, ২০২৪ সকাল ৯:০৩

মূল: কৃষণ চন্দর
অনুবাদ: কাজী সায়েমুজ্জামান

গত রাতে ভয়াবহ ঝড় হয়েছে। সেই ঝড়ে সচিবালয়ের লনে একটি জাম গাছ পড়ে গেছে। সকালে মালী দেখলো এক লোক গাছের নিচে চাপা পড়ে আছে।

... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনির্বাণ শিখা

লিখেছেন নীলসাধু, ০৭ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১



রাত ন’টার মত বাজে। আমি কি যেন লিখছি হঠাৎ আমার মেজো মেয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলল, বাবা একজন খুব বিখ্যাত মানুষ তোমাকে টেলিফোন করেছেন।

আমি দেখলাম আমার মেয়ের মুখ উত্তেজনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ইয়াম্মি খুব টেস্ট=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:১৪



©কাজী ফাতেমা ছবি
সবুজ আমের কুচি কুচি
কাঁচা লংকা সাথে
ঝালে ঝুলে, সাথে চিনি
কচলে নরম হাতে....

মিষ্টি ঝালের সংমিশ্রনে
ভর্তা কি কয় তারে!
খেলে পরে একবার, খেতে
ইচ্ছে বারে বারে।

ভর্তার আস্বাদ লাগলো জিভে
ইয়াম্মি খুব টেস্ট
গ্রীষ্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×