লেখন: আন্তন মাকারেঙ্কো
প্রকাশনী: প্রগতি প্রকাশন, মস্কো
অনুবাদ: কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
বাঁচতে শেখা!? আমরা সবাই বেঁচে আছি, আমরা বেঁচে থাকি কোন রকম। মরার আগ পর্যন্ত। এদিক-সেদিক, ভাল-মন্দে, ঘর-সংসার-চাকরি, চাকরি-ঘর, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোন রকমে মরার আগ পর্যন্ত আমরা মোটামোটি সবাই বেঁচে থাকি। বাঁচতে আবার শিখতে হবে নাকি?
ভানিয়া গালচেঙ্কো, নিজের বানানো জুতার বাক্স দিয়ে জুতা কালী করে। থাকার জায়গা নেই। প্রতিবেলা খাবার জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয়। বেঁচে আছে। ইগর চের্নগর্স্কি, চুরি-চামড়ী করে জীবন চালায়। ঘর-বাড়ী নেই। এখানে-সেখানে ধান্ধার খোঁজে ঘুড়ে বেড়ায়। চোর হলে কি হবে, মন আছে তার। কিন্তু বেঁচে আছে। ভান্দা স্তাদনিতস্কায়া। সেও বেঁচে আছে। ১৫ বছর বয়েসে বেঁচে থাকার জন্য দেহ ব্যবসা করে। রিজিকভ, পকেটমার, চোর। সারা জীবন চোর হয়েই বেঁচে আছে।
কিন্তু এক সময় ওরা বাঁচতে শিখতে শুরু করে। আত্মসম্মনবোধ, শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, অপরের প্রতি বিশ্বাস, যৌথতাবোধ এ রকম আরো অনেক গুণাগুণ তাদের মধ্যে তৈরী হতে থাকে তাদের অজান্তেই। মানুষের মতো মানুষ হতে থাকে ধীরে ধীরে।
‘বাঁচতে শেখা’য় যা লেখা হয়েছে তা খাঁটি সত্যি, এমন কি সেখানে যে-সব উপাধি, ঘটনা ও কথাবার্তার উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলিও। সেখানে, নৈতিক দিকে দিয়ে বিকল কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। যে ছেলেমেয়েরা আমার কাছে এসেছিল তারা অসুখী, যে পরিবেশের মধ্যে তারা আগে থাকত সেই জীবনটা ছিল কঠিন। আমি বিশ্বাস করি না এমন কোনো মানুষ আছে নৈতিক দিক দিয়ে যে বিকল। তাদের শুধু স্বাভাবিকভাবে বাঁচবার ব্যবস্থা করলে, তাদের কাছ থেকে কতকগুলো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা দাবী করলে এবং সেই বাধ্যবাধকতা পরিপূর্ণ করার জন্য তাদের সুযোগ দিলে তারা সাধারণ মানুষ হয়ে উঠে, পরিপূর্ণ মানবিক স্বাভাবিকতা অর্জন করে। তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে যত বেশি করে সামাজিক কর্তব্য মেলানো হয়, তাতই উতকৃষ্ট লোক হয়ে উঠে তারা....
মানুষ শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচতে পারে না। সমষ্টিকে ভালোবাসতে, তাকে জানতে, তার স্বার্থ দেখতে এবং সেই স্বার্থের ভাগ নিতে শিখতে হবে তোমাকে। তা না করলে কখনো তুমি আসল মানুষ হতে পারবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


