ছেলেটা গভীর আবেগীয় চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। এই মুহূর্তে তার সামনে বসা মেয়েটিকে পৃথিবীর সেরা মায়াবতীদের একজন মনে হচ্ছে। মেয়েটি যত্নে ছেলেটির প্লেট ন্যাপকিন দিয়ে মুছে দিলো। ওয়েটার খাবার দিয়ে যাওয়ার পর সে আগে ছেলেটির প্লেটে খাবার তুলে দেয় । সে খুব আনন্দের সাথে এই কাজটি করে থাকে। ওই সময়ে নিজেকে কেমন যেন ঘরের বউ বউ লাগে। ছেলেটি তার মনের কথা বুঝতে পারে। উৎফুল্ল মনে অপেক্ষা করে প্লেটে খাবার তুলে দেওয়া পর্যন্ত। পাশাপাশি চেয়ারে বসে একটি হাত ছুঁয়ে থাকে অপর হাতটি। এভাবেই গভীর মমতা আর ভালবাসায় সময় বয়ে যায়। মেয়েটি অপেক্ষা করে ঘর বাঁধার শুভক্ষণের। যদিও একদিন সেই শুভক্ষণটি আসে তবে দুটি ভিন্ন মানুষের সাথে।
এখনো মেয়েটি স্বামীর সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। স্বামী তার প্লেটে খাবার তুলে দেয়। কিন্তু স্বামীর প্লেট ন্যাপকিন দিয়ে মুছে দিতে ভুলে যায়। উল্টো দিকের চেয়ারে বসে হাসি মুখে স্বামীর সাথে খাবার শেষ করে। চোখে চোখ রাখা হয় না। হাতে হাত থাকেনা। সংসারের প্রয়োজনীয় কথায় সময় পার হয়ে যায়।
আর ছেলেটি—রেস্টুরেন্টে যেয়ে খাওয়ার মত বিলাসিতা করতে আর ইচ্ছে করেনা তার । ঘরের ডাইনিং টেবিলে বসে দুটি সন্তান নিয়ে স্ত্রীর সাথেই রাতের খাবার শেষ করে । বাচ্চা দুটি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর স্ত্রীকে অন্তরঙ্গ সময় দিয়ে বেডরুমের পাশের বারান্দায় চলে আসে। আকাশ ভর্তি অসংখ্য তারার ভীড়ে মেয়েটির মায়াবী মুখ ভেসে উঠে। বড় একটি দীর্ঘশ্বাস হারিয়ে যায় সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে। এভাবেই অনেক অনেক বছর পরও একজন আরেকজনকে মনে করে। কিন্তু মুখে কেউ কিছু বলেনা। সবাই জানে এমনকি নিজেরাও জানে দুজন দুজনকে ভুলে নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু যখন তারা একা হয়ে যায় তাদের একাকীত্ব তাদের ভেতরের প্রেম এভাবেই জাগিয়ে রাখে।
রাখবে আমৃত্যু ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



