সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:১৯
শ্রীমঙ্গলে ভুল চিকিৎসার কারনে অষ্টাদশী তরুনী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
শাহাব উদ্দিন আহমেদ ঃ ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুর প্রহর গুনছে শিরিন আক্তার নামের এক অষ্ঠাদশী তরুণী। আর চিৎকার দিয়ে বলছে আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাচাঁও। তার সম্ভাবনাময় জীবন ভুল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে একটি কিনিক । গত 22 মার্চ শহরের সুইনগড় এলাকার আতর আলীর মেয়ে শিরিন বেগমকে পেটের ব্যাথার কারনে হবিগঞ্জ রোডস্থ মুক্তি মেডিকেয়ার কিনিকে রাতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত নার্স শিরিনকে ভর্তি করে কিনিকের মালিক ডাঃ সাধন ঘোষ কে খবর দেন। এ রাতেই ডাক্তার মৌলভীবাজার সরকারী হাসপাতাল থেকে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সুব্রত দাশকে খবর দিয়ে এনে শিরিনের এপেনডিসাইটিস বলে তার পেটে অস্ত্রোপ্রচার করেন। এক সপ্তাহ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ডাঃ সাধন ঘোষ তড়িঘড়ি করে তাকে কিনিক থেকে ডিসচার্জ দিয়ে ঢাকা পিজি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ডিসচার্জ লেটারে ভ্যালী গাট অপারেশন বলে উল্লেখ করা হয়। পিজিতে নেয়ার পর ডাক্তাররা জানান, এপেনডিসাইটিসের অপারেশন কালে অসাবধানতা বশতঃ অথবা যে কোন কারনে হউক তার খাদ্য নালী কেটে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঢাকায় চিকিৎসা দেয়ার পর তার অবস্থা ক্রমশঃ অবনতি হতে থাকলে এবং শিরিনের পরিবার তার চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করতে না পেরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে সেখানে সাধারন একটি বেডে শুয়ে প্রতি নিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছে শিরিন। অভিযোগ রযেছে কিনিকটি গড়ার পর থেকে সেখানে চিকিৎসা সেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায়, নিম্ন মানের চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয় না করে অস্ত্রপাচার, অতিরিক্ত মুল্যে বেড নিয়ে বাণিজ্যসহ নানান অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় লোকজনের। উপজেলার কাকিয়াবাজারের একজন মহিলা (উক্ত কিনিকের রোগী) সাহেনা আক্তার জানান, চিকিৎসার টাকা সময় মত দিতে না পারায় ডা. সাধন ঘোষ তাকে কিনিক থেকে বের করে দিয়েছেন। এদিকে শিরিনের পরিবারের অভিযোগের কারনে নিজের অপকর্ম ও ভুল চিকিৎসার অপরাধ ঢাকতে ডাঃ সাধন ঘোষ গত কয়েকদিন ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন। পাশাপাশি শিরিনের নিরীহ পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে তাদেরকে দশ হাজার টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করতে বলেন। এ ব্যাপারে ডা. সাধন ঘোষের সাথে আলাপ কালে তিনি ভুল চিকিৎসার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার এপেনডিসাইটিস ব্যাথার অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশন কালে খাদ্য নালী কাটা সংক্রান্ত বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তড়িগড়ি করে শিরিনের পরিবারকে দশ হাজার টাকা প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, রোগীর কোন ভুল চিকিৎসা হয়নি, তার কিনিকে একটি গরীব ফান্ড রয়েছে । সেখান থেকে গরীব দেখে শিরিনের পরিবারকে উক্ত টাকা দেয়া হয়েছে। অথচ শিরিন কিনিকে থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসার ব্যায়বার বাবত যত টাকা বিল এসেছে সব টাকাই শিরিনের পরিবার পরিশোধ করেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। অপর দিকে তাকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের মতো কোন সার্মথ্য না থাকায় কেবলই চোখের পানি ফেলে মেয়ের পাশে বসে প্রতিনিয়ত কাঁদছেন বৃদ্ব আতর আলী
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আমি টুপ করে চলে আসবো

আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন
রুবা

রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রথম .........।

আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।
কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন
সমুদ্রের নীল খাম
এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।