আরে, জার্নি বাই রিক্সা নিয়ে লিখতে বসে বৃষ্টি বন্দনা শুরু করে ফেললাম দেখছি। ফিরে যাই তবে মূল প্রসঙ্গে। রিক্সায় চড়ে বেশ লম্বা একটা দূরত্ব পাড়ি দেবার সুযোগ আমাকে করে দিয়েছে ‘হরতাল’। আমার বাসা পুরনো ঢাকার এক্কে বারে শেষ
প্রান্তে। দূরত্ব এতটাই বেশি যে আর একটু হলেই নারায়ণগঞ্জবাসী হয়ে যেতাম। আর আমার অফিস হল গুলশানে। দূরত্ব নেহায়েত কম নয়। হরতাল থাকুক আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকুক, অফিস যাওয়া বাঞ্ছনীয়। গত মাসের পরপর দেয়া হরতাল গুলোতেও তাই আমি অফিস বাদ দেইনি।
অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, যে খানে গাড়িতে যেতে বা আসতে আমার সময় লাগে দেড়/দু’ঘন্টা সেখানে হারতালের মাঝে বার বার রিক্সা বদল করেও মাত্র এক ঘণ্টায় আমি অফিসে পৌঁছে গিয়েছি। গতমাসের শুরুর দিকটাতে গরমের বা রোদের তীব্রতা তেমন বেশি ছিলনা এখনকার মত, তা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। তাই হরতালের সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর যখন রিক্সা পেলাম আর ফাঁকা রাস্তা পেয়ে রিকশাওয়ালা-ও যখন বেশ জোরে রিক্সা টানতে শুরু করলো, অদ্ভুত এক ভাল লাগায় ভরে গেলো মনটা। ফুরফুরে মিষ্টি বাতাস ছুঁয়ে গেলো আমায়। মুহূর্তেই জুড়িয়ে গেলো ভেতরটা। অযৌক্তিক ভিড়ভাট্টা নেই, বাসের কালো ধোঁয়া নেই। আহা!!! বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলাম যেন বহুদিন পর। মনে হোল আমার আয়ু-ও যেন বেড়ে গেল বেশ কয়েক গুন।
বলবো না জয়তু হরতাল। তেমন বলার মত কোনও কারণ-ও নেই। কিন্তু আমাকে দূষণমুক্ত ৩/৪টি সকাল উপভোগ করতে দেওয়ার জন্য কিঞ্চিত ধন্যবাদ দিলে কি তা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



