পবিত্র কুরআনে আছে, যে কোন মুসলমান ব্যক্তি, সে যদি আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত পৌঁছুবার সামর্থ রাখে তার উপর হজ্ব ফরজ করা হয়েছে। হজ্বের শর্তাবলী হচ্ছে ঃ
১) মুসলমান হওয়া।
২) আর্থিক সামর্থ থাকা। এই আর্থিক সামর্থ বলতে বুঝতে হবে হজ্বে গমনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া আসার খরচ, সেখানে থাকাকালীন খরচ ও পুরুষদের জন্য হজ্ব সম্পাদনকালীন সময়ে পরিবার-পরিজনদের ভরণ পোষণের সংগতি।
৩) শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম হওয়া
৪) আক্কেল ও বালেগ হওয়া অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিরত প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া
৫) যাতায়াতের রাস্তা নিরাপদ থাকা
৬) মহিলাদের সাথে মাহরাম থাকা।
নবীজী রাসুল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত পৌঁছে হজ্ব করার জন্য প্রয়োজনীয় বাহন ও পথের খরচ যার রয়েছে সে যদি হজ্ব না করে তবে সে হুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, তাতে আলাহ তায়ালার কিছু যায় আসেনা।
আমরা জানি যে, হজ্ব হচ্ছে বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন ও ঐক্যের প্রতীক। আজ সেই বিশেষ দিন যখন আরাফাতের মাঠে লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়ছে।
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক্ ---- ধ্বনিতে আজা আরাফাতের আকাশ-বাতাস মুখরিত।
আজ পবিত্র শুক্রুবার, জুম্মার দিন। এ দিন হজ্ব পালনের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। শুক্রুবারের হজ্বকে বলা হয় হজ্ব-ই-আকবরি বা আকবরি হজ্ব। আকবরি হজ্ব সম্পর্কে রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ৯ই জিলহজ্ব শুক্রবার হলে সেই হজ্ব ৭০ বছরের হজ্ব হইতে উত্তম।
হজ্ব-ই-আকবরির আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে। সেটা হলো শুক্রবার হজ্ব হলে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিজন হাজীকে সামান্য পরিমাণ হলেও সোনা উপহার দেয়ার কথা।
উপহারের চেয়েও বড় কথা হলো আজকের হজ্ব ৭০ বছরের হজ্ব থেকেও উত্তম। কাজেই আজ যারা হজ্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন তারা অনেক বেশী সৌভাগ্যবান। দোয়া করি তাদের সকলের হজ্ব কবুল হোক এবং সেই উছিলায় দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধিত হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



