ফিরে চল গাঁয়ের পাণে
মুখর বৃষ্টির মগ্ন কোলাহলে বসে একা আমি ভাবি
চারদিকে যা দেখি সবই আমার শৈশবের ছবি।
পানিতে ডুবডুবু পথ-মাঠ-প্রান্তর
মনে পড়ে যায় আমার প্রিয় গ্রামখানিতে
শৈশবের প্রিয় খেলাঘর।
বাদল বরিষণের এমনি দিনে
পানিতে থৈ থৈ মেঠো পথের বাঁকে
প্রাণের উচ্ছাসে বৃষ্টির খেলায় মেতে
কত যে বকুনি খেয়েছি মায়ের কাছে ঘরে ফিরে !
সেই শৈশব আজ আমার কাছে সোনালী দিনের বাসর।
হাঁটুজলে কাঁদামাখা পানিতে জমত মাছেদের আসর।
সবুজ-লালে-সাদা ডুরে পরা মাছেদের টানে
কচু পাতার ছাতা মাথায় ছুটে যেতাম বাড়ির পাশের ক্ষেতে।
মাছ ধরা তো নয়, যেন
মহাআনন্দে বিশ্ব জয়ের সুখ নিয়ে
ঘরে ফিরতাম চঞ্চলা মাছেদের নিয়ে।
আজ এই বর্ষামুখর ক্ষণে
সেই মাছগুলো উঠছে নেচে থেকে থেকে
আমার স্মৃতির অলিন্দ জুড়ে।
গাছের ডালে বৃষ্টিভেজা কদমের থরো থরো কাঁপুনি দেখে
মন উন্মন ছুটে যেতাম গাছতলায়
কে নিতে পারে সেই কদম আগে ?
কদমহাতে রাজ্যের সুখে ভরে যেত মন।
যেন পেয়ে গেছি হাতে পরম আরাধ্য ধন।
সেই কদম তার বৃষ্টিভেজা ভালবাসায়
মনে হয় বারবার কাছে ডাকছে আমায়।
তাই ইচ্ছে করে ছুটে যাই আবার
বাদল বরিষণের এই বেলায়
আমার হারানো সুখের কুঞ্জবন সেই কদমতলায়।
ভুলা যায়না এসব স্মৃতি
ভুলিতে চাইনা আমি।
ফিরে পেতে চাই বারবার
আপনার করে এই গহীন বরিষণে
আর কিছু নাই আমার চাইবার।
আজ তাই এই মুখর বৃষ্টির মগ্ন কোলাহলে
কে যেন আমায় ডেকে বলে
ফিরে চল গাঁয়ের পাণে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



